TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে রিফর্ম পার্টির কঠিন ঘোষণাঃ গির্জা থেকে মসজিদে রূপান্তর নিষিদ্ধ

যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন বিতর্কের জন্ম দিয়েছে রিফর্ম ইউকে। দলটির নেতা নাইজাল ফারাজের ঘনিষ্ঠ মহল জানিয়েছে, ক্ষমতায় এলে তারা যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট)-ধাঁচের একটি বিশেষ বহিষ্কার সংস্থা গঠন করবে এবং বছরে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৮ হাজার মানুষকে দেশত্যাগে বাধ্য করার লক্ষ্য নেবে। প্রতিদিন পাঁচটি উড়োজাহাজে বহিষ্কারের পরিকল্পনাও তুলে ধরা হয়েছে।

দলের স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ সোমবারের ভাষণে বলেন, “ইউকে ডিপোর্টেশন কমান্ড” নামে একটি নতুন সংস্থা গঠন করা হবে, যার একসঙ্গে ২৪ হাজার মানুষকে আটক রাখার সক্ষমতা থাকবে। বর্তমানে আটক কেন্দ্রগুলোতে ধারণক্ষমতা প্রায় ২ হাজার ৫০০ বলে জানা গেছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন, এ ধরনের সম্প্রসারণে বিপুল অর্থব্যয় হবে।

রিফর্মের পরিকল্পনায় অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার অনুমতি—ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন (আইএলআর)—বাতিল করে উচ্চ আয়ের শর্তযুক্ত নবায়নযোগ্য পাঁচ বছরের কর্মভিসা চালুর প্রস্তাব রয়েছে। এতে বর্তমানে স্থায়ী মর্যাদা পাওয়া হাজারো মানুষ তাদের অবস্থানগত অধিকার হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

দলটির দাবি, আইএলআর প্রদান দীর্ঘমেয়াদে কল্যাণ ভাতার ওপর চাপ বাড়ায়; যদিও সরকারি উপাত্তে দেখা যায়, আইএলআরধারীরা ইউনিভার্সাল ক্রেডিট দাবিদারদের মোট সংখ্যার প্রায় ২ দশমিক ৭ শতাংশ, এবং তাদের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ কর্মরত।

ইউসুফ ভাষণে ইউরোপীয় মানবাধিকার কনভেনশন—ইসিএইচআর থেকে যুক্তরাজ্যের সরে যাওয়ার প্রস্তাব দেবেন এবং স্বরাষ্ট্র সচিবের ওপর অবৈধ অভিবাসীদের অপসারণে আইনি বাধ্যবাধকতা আরোপের কথা বলবেন। তার ভাষ্যে, “পার্লামেন্টের সার্বভৌমত্ব পুনঃপ্রতিষ্ঠা” ও “সীমান্ত সুরক্ষা” হবে দলের অগ্রাধিকার।

নেট অভিবাসন বৃদ্ধির জন্য সাবেক প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসনকে দায়ী করে ইউসুফ দাবি করবেন, পূর্ববর্তী সরকারগুলো সীমান্ত নিয়ন্ত্রণে ব্যর্থ হয়েছে। তার বক্তব্য, নতুন নীতিতে অবৈধ অবস্থানকারীদের দ্রুত অপসারণ করা হবে এবং আইন প্রয়োগে কঠোরতা বাড়ানো হবে।

আইনশৃঙ্খলা ও উগ্রবাদ দমনে রিফর্ম নতুন রূপরেখাও ঘোষণা করবে। স্টপ অ্যান্ড সার্চ ক্ষমতা সম্প্রসারণ, পুলিশ বাহিনীতে বৈচিত্র্য উদ্যোগ সমাপ্তি এবং ‘প্রিভেন্ট’ কর্মসূচির (উগ্রবাদ প্রতিরোধ) ম্যান্ডেট পুনর্নির্ধারণ করে ইসলামপন্থি উগ্রবাদের ওপর জোর দেওয়ার প্রস্তাব রয়েছে। পাশাপাশি মুসলিম ব্রাদারহুডকে নিষিদ্ধ ঘোষণার কথাও ভাষণে উঠে আসবে।

ধর্মীয় স্থাপনা প্রসঙ্গে দলটি গির্জা থেকে মসজিদ বা অন্য উপাসনালয়ে রূপান্তর নিষিদ্ধ করার প্রস্তাব দিয়েছে। ইউসুফের বক্তব্য, “ব্রিটিশ সংস্কৃতি ও খ্রিস্টীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ” রাষ্ট্রীয় নীতির অংশ হওয়া উচিত।

প্রস্তাবিত এসব নীতির কড়া সমালোচনা করেছে লেবার পার্টি। দলটির চেয়ার এন্যা ট্রুলি বলেছেন, এগুলো “বিভাজনমূলক” এবং স্থায়ীভাবে বসবাসকারী পরিবারগুলোর ওপর “সরাসরি আঘাত”। তার ভাষায়, যুক্তরাজ্য একটি সহনশীল ও বহুত্ববাদী সমাজ, যেখানে নিয়ম মেনে কাজ করা ও জীবন গড়া মানুষদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা উচিত।

অন্যদিকে লেবারও আইএলআর ব্যবস্থায় পরিবর্তনের প্রস্তাব দিয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ জানিয়েছেন, যোগ্যতার সময়সীমা পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে ১০ বছর করার পরিকল্পনা রয়েছে, তবে স্থায়ী মর্যাদা পুরোপুরি বাতিলের প্রস্তাব তারা দিচ্ছে না।

রিফর্মের এই ঘোষণাগুলো যুক্তরাজ্যের অভিবাসন ও মানবাধিকার নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আর্থিক ব্যয়, আইনি চ্যালেঞ্জ এবং সামাজিক প্রভাব—সবকিছুই এখন রাজনৈতিক বিতর্কের কেন্দ্রে উঠে এসেছে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যকে পঙ্গু করে দিচ্ছে কোয়ারেন্টাইন আইন!

অনলাইন ডেস্ক

পাবলিক ফান্ড ব্যবহারের শর্ত পরিবর্তন বা অপসারণের আবেদন কীভাবে করবেন?

নিউজ ডেস্ক

DWP-এর ভুলে পাঁচ বছরের দুঃস্বপ্নে যুক্তরাজ্যের লিভারপুলের এক সিঙ্গেল মা