13.8 C
London
October 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সব পারিবারিক নির্যাতনকারীকে আদালতের নথিতে প্রকাশ্যে চিহ্নিত করা হবে

যুক্তরাজ্যে পারিবারিক নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত সব অপরাধীকে আদালতের নথিতে আনুষ্ঠানিকভাবে চিহ্নিত করার নতুন ব্যবস্থা চালু করা হচ্ছে। এর ফলে নির্যাতনকারীদের অপরাধের ধরন, আচরণের ধারাবাহিকতা ও পুনরায় অপরাধে জড়ানোর ঝুঁকি বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে সহজে শনাক্ত করা সম্ভব হবে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোনো মামলায় হামলা, পিছু নেওয়া বা এ ধরনের অপরাধের সঙ্গে পারিবারিক নির্যাতনের প্রমাণ পাওয়া গেলে বিচারক ও ম্যাজিস্ট্রেটদের এখন থেকে প্রকাশ্য আদালতে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত করতে হবে।

এর আগে বিভিন্ন মামলায় পারিবারিক নির্যাতনকে অপরাধের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হিসেবে বিবেচনা করা হলেও আদালতের নথিতে তা ধারাবাহিকভাবে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হতো না। ফলে কোনো ব্যক্তি পারিবারিক নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত কি না এবং তার বিরুদ্ধে আগেও একই ধরনের অভিযোগ বা অপরাধ ছিল কি না, তা পুরো বিচারব্যবস্থা জুড়ে শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়ত।

যুক্তরাজ্যের বিচার মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নতুন ব্যবস্থায় কোনো অপরাধের সঙ্গে পারিবারিক নির্যাতনের সম্পর্ক থাকলে আদালতকে প্রকাশ্য আদালতেই তা উল্লেখ করতে হবে। এর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো একটি সুস্পষ্ট ও অভিন্ন আদালতি নথি তৈরি হবে, যা ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন সংস্থা ব্যবহার করতে পারবে।

এই তথ্য পুলিশ, প্রবেশন এবং কারাগারের ডিজিটাল ব্যবস্থায়ও দৃশ্যমান থাকবে। ফলে সামনের সারিতে থাকা কর্মকর্তারা একজন অপরাধীর আগের ইতিহাস সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাবেন এবং তার ঝুঁকি নির্ধারণ ও ব্যবস্থাপনা সহজ হবে।

নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে পুনরায় পারিবারিক নির্যাতনে জড়িত ব্যক্তিদেরও দ্রুত শনাক্ত করা সম্ভব হবে বলে আশা করছে সরকার। একই সঙ্গে প্রবেশন কর্মকর্তারা নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিকে সুরক্ষা দিতে প্রয়োজন অনুযায়ী নিষেধাজ্ঞা বা নির্দিষ্ট এলাকায় প্রবেশে বাধা দেওয়ার মতো ব্যবস্থা নেওয়ার ক্ষেত্রে আরও কার্যকর তথ্য পাবেন।

এই উদ্যোগকে ‘ক্লেয়ার্স ল’–এর ওপর ভিত্তি করে আরও কার্যকর ব্যবস্থা হিসেবে দেখা হচ্ছে। ক্লেয়ার্স ল–এর নামকরণ করা হয়েছে ক্লেয়ার উডের নামে। তাকে তার নির্যাতনকারী সাবেক প্রেমিক হত্যা করেছিলেন।

ক্লেয়ার্স ল অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি তার বর্তমান বা সাবেক সঙ্গীর অতীতের সহিংস বা নির্যাতনমূলক আচরণ সম্পর্কে পুলিশের কাছে জানতে চাইতে পারেন। একই সঙ্গে পুলিশ নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে ওই ব্যক্তির অতীত সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট তথ্য প্রকাশ করতে পারে।

বিচারবিষয়ক মন্ত্রী অ্যালেক্স ডেভিস-জোনস বলেন, বিচারব্যবস্থার বিভিন্ন পর্যায়ে নির্যাতনমূলক আচরণের ধারাবাহিকতা সবসময় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। নতুন পদক্ষেপের মাধ্যমে বিপজ্জনক অপরাধীদের আরও ভালোভাবে চিহ্নিত করা, ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা দেওয়া এবং নারী ও মেয়েদের বিরুদ্ধে সহিংসতা কমানোর সরকারি লক্ষ্য বাস্তবায়নে অগ্রগতি হবে।

যুক্তরাজ্যের পারিবারিক নির্যাতনবিষয়ক কমিশনার ডেম নিকোল জ্যাকবস বলেন, এই পরিবর্তনের মাধ্যমে ফৌজদারি বিচারব্যবস্থার মধ্য দিয়ে পারিবারিক নির্যাতনকারীদের গতিবিধি অনুসরণ করার সক্ষমতায় বড় পরিবর্তন আসবে। তার মতে, এতে ক্ষতিকর আচরণ শনাক্ত ও মোকাবিলা করা সহজ হবে এবং ভুক্তভোগীরা প্রয়োজন অনুযায়ী সহায়তা পাওয়ার সুযোগ পাবেন।

এদিকে যুক্তরাজ্যের ফৌজদারি আদালতগুলোতে মামলার দীর্ঘসূত্রতা নিয়েও সরকারের পক্ষ থেকে নতুন সংস্কারের কথা জানানো হয়েছে। দেশটির ক্রাউন কোর্টে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা প্রায় ৮১ হাজারে পৌঁছেছে বলে বিচারমন্ত্রী অ্যালেক্স নরিস জানিয়েছেন।

এর মধ্যে প্রায় ২৪ হাজার মামলা এক বছর বা তারও বেশি সময় ধরে বিচার শুরুর অপেক্ষায় রয়েছে। এসব মামলার অর্ধেকের বেশি সহিংসতা বা যৌন অপরাধসংক্রান্ত বলে তিনি জানিয়েছেন।

সরকার বলছে, পুলিশ আরও বেশি অপরাধী গ্রেপ্তার করছে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ধর্ষণের মামলায় অভিযোগ গঠনের সংখ্যাও বেড়েছে। একই সঙ্গে মামলাগুলোতে বিপুল পরিমাণ ডিজিটাল প্রমাণ থাকায় বিচারপ্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে উঠছে।

মামলার জট কমাতে সরকার আদালতের কার্যদিবস বাড়ানো, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহার করে মামলার সময়সূচি আরও কার্যকরভাবে নির্ধারণ এবং ভিডিও প্রযুক্তির মাধ্যমে দূরবর্তী শুনানির সুযোগ বাড়ানোর উদ্যোগ নিয়েছে।

তবে বিচারমন্ত্রী বলেছেন, শুধু অর্থায়ন ও প্রযুক্তি দিয়ে আদালতের দীর্ঘসূত্রতা পুরোপুরি দূর করা সম্ভব নয়। তাই আদালতব্যবস্থায় কাঠামোগত সংস্কারও প্রয়োজন।

সরকারের প্রস্তাবিত সংস্কারের মধ্যে ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের সাজা দেওয়ার ক্ষমতা বাড়ানো এবং কিছু মামলায় আসামিরা কোন আদালতে বিচার চান—সে বিষয়ে তাদের একতরফা সিদ্ধান্তের সুযোগ সীমিত করার বিষয় রয়েছে। এর লক্ষ্য হলো ক্রাউন কোর্টের ওপর চাপ কমিয়ে গুরুতর মামলাগুলোর বিচার দ্রুত করা এবং ভুক্তভোগীদের দীর্ঘ অপেক্ষা কমানো।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এমকে

আরো পড়ুন

ইরানের হুমকিতে পিছু হটবে না ব্রিটেনঃ ‘যেকোনো হামলার জবাব দিতে প্রস্তুত’—প্রতিরক্ষামন্ত্রী

যুক্তরাজ্যে স্কিলড কর্মী ভিসা নিয়ে অনিয়মের অভিযোগ, ধর্মীয় গোষ্ঠী ঘিরে অনুসন্ধান

যুক্তরাজ্যে হামাসের পক্ষে অবস্থান নিলে নাগরিকদের নামে হতে পারে ফৌজদারি মামলা

নিউজ ডেস্ক