TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাজ্যে সূর্যের আলো কম, ভিটামিন ডি’র ঘাটতি বেশিঃ শীতকালীন সতর্কতা জারি

শীত ও অন্ধকার মৌসুমে ভিটামিন ডি’র ঘাটতি জনস্বাস্থ্যের জন্য উদ্বেগজনক হয়ে উঠছে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাজ্যের ন্যাশনাল হেলথ সার্ভিস (এনএইচএস)। হাড়, দাঁত ও পেশি সুস্থ রাখতে প্রয়োজনীয় এই ‘সানশাইন ভিটামিন’ পর্যাপ্ত মাত্রায় না পেলে শিশু ও প্রাপ্তবয়স্ক—উভয়ের ক্ষেত্রেই গুরুতর স্বাস্থ্যঝুঁকি তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

 

এনএইচএসের তথ্য অনুযায়ী, ভিটামিন ডি শরীরে ক্যালসিয়াম ও ফসফেটের ভারসাম্য বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। এর অভাবে শিশুদের রিকেটস রোগে হাড়ের বিকৃতি দেখা দিতে পারে এবং প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে অস্টিওম্যালাসিয়ার কারণে দীর্ঘমেয়াদি হাড়ের ব্যথা ও দুর্বলতা তৈরি হয়।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, মার্চের শেষ থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সূর্যের আলো থেকে শরীর নিজেই প্রয়োজনীয় ভিটামিন ডি তৈরি করতে পারে। তবে অক্টোবর থেকে মার্চের শুরুর দিক পর্যন্ত সূর্যের আলো পর্যাপ্ত না হওয়ায় এই প্রক্রিয়া কার্যত বাধাগ্রস্ত হয়। ফলে শীতকালে সাধারণ মানুষের বড় একটি অংশ ভিটামিন ডির ঘাটতিতে ভোগে।

সরকারি পরামর্শ অনুযায়ী, শরৎ ও শীতকালে প্রত্যেকেরই প্রতিদিন ভিটামিন ডি সাপ্লিমেন্ট নেওয়ার কথা বিবেচনা করা উচিত। এনএইচএস জানায়, বর্তমানে প্রতি ছয়জনের মধ্যে মাত্র একজন নিয়মিত ভিটামিন ডি গ্রহণ করেন, যা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম।

বিশেষ ঝুঁকিতে রয়েছেন ১ থেকে ৪ বছর বয়সী শিশু, এক বছরের কম বয়সী শিশুরা (যদি তারা প্রতিদিন ৫০০ মিলিলিটারের বেশি ফর্মুলা দুধ না খায়), বয়স্ক ও ঘরবন্দী মানুষ, কেয়ার হোমে বসবাসকারীরা এবং যারা বাইরে গেলে শরীরের বেশিরভাগ অংশ ঢেকে রাখেন। এছাড়া আফ্রিকান, আফ্রো-ক্যারিবিয়ান ও দক্ষিণ এশীয় বংশোদ্ভূত গাঢ় ত্বকের মানুষদের ক্ষেত্রেও সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি তৈরির সক্ষমতা তুলনামূলক কম।

এনএইচএস জানায়, খাবারের মাধ্যমেও আংশিকভাবে ভিটামিন ডি পাওয়া যায়। তেলযুক্ত মাছ যেমন স্যামন ও ম্যাকেরেল, লাল মাংস, ডিমের কুসুম এবং ফোর্টিফায়েড সিরিয়াল ও স্প্রেড এই ভিটামিনের উৎস। তবে শীতকালে শুধু খাবারের ওপর নির্ভর করে প্রয়োজনীয় মাত্রা পূরণ করা কঠিন।

স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষের মতে, এক বছর বয়স থেকে শুরু করে প্রাপ্তবয়স্কদের প্রতিদিন ১০ মাইক্রোগ্রাম (৪০০ IU) ভিটামিন ডি যথেষ্ট। এক বছরের কম বয়সী শিশুদের প্রয়োজন ৮.৫ থেকে ১০ মাইক্রোগ্রাম। তবে মাত্রাতিরিক্ত সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ বিপজ্জনক হতে পারে বলে সতর্ক করেছে এনএইচএস।

দীর্ঘদিন অতিরিক্ত ভিটামিন ডি গ্রহণ করলে শরীরে অতিরিক্ত ক্যালসিয়াম জমে হাইপারক্যালসেমিয়া তৈরি হতে পারে, যা হাড় দুর্বল করার পাশাপাশি কিডনি ও হৃদযন্ত্রের ক্ষতি করতে পারে। তাই প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য দিনে ১০০ মাইক্রোগ্রামের বেশি গ্রহণ না করার নির্দেশনা দিয়েছে সংস্থাটি।

এনএইচএস আরও জানিয়েছে, সূর্যের আলো থেকে ভিটামিন ডি গ্রহণে ওভারডোজের ঝুঁকি নেই। তবে দীর্ঘ সময় রোদে থাকলে ত্বক রক্ষার ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি, যাতে ত্বকের ক্ষতি ও ত্বক ক্যানসারের ঝুঁকি এড়ানো যায়। ভিটামিন ডি গ্রহণ নিয়ে কারও ব্যক্তিগত স্বাস্থ্যঝুঁকি থাকলে অবশ্যই চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ব্রিটিশ স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।

সূত্রঃ দ্য মেট্রো

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্য আইআরপি প্রকল্পে নিবে শিক্ষক

আরো ৫টি আফ্রিকান দেশে শরনার্থীদের স্থানান্তর পরিকল্পনা যুক্তরাজ্যের

ইংল্যান্ড ও ওয়েলসে চুরি হওয়া ফোনের জন্য বাড়ি তল্লাশির অনুমতি পাবে পুলিশ