যুক্তরাজ্যে প্রতিবন্ধী ও কল্যাণভাতা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের কথা বিবেচনা করছে প্রধানমন্ত্রী অ্যান্ডি বার্নহামের সরকার। প্রস্তাবিত পরিবর্তনের মধ্যে ২৫ বছরের কম বয়সী কিছু ইউনিভার্সাল ক্রেডিট দাবিদারের স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত অতিরিক্ত ভাতা তুলে দেওয়া বা পরিবর্তন করার বিষয়টিও রয়েছে।
দ্য গার্ডিয়ান ও দ্য ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পরিবর্তন কার্যকর হলে ২ লাখ ৫০ হাজারের বেশি তরুণ দাবিদার প্রভাবিত হতে পারেন। সরকারের বিবেচনায় থাকা পরিকল্পনায় নগদ সহায়তার পরিবর্তে কর্মসংস্থানকেন্দ্রিক একটি প্যাকেজ চালুর কথা রয়েছে। এর মধ্যে ভর্তুকিযুক্ত চাকরি, নির্দিষ্ট কর্মসংস্থান কর্মসূচি এবং মানসিক স্বাস্থ্য সহায়তা অন্তর্ভুক্ত হতে পারে।
সরকারের লক্ষ্য হলো স্বাস্থ্যগত সমস্যার কারণে কর্মসংস্থান বা শিক্ষা থেকে দূরে থাকা আরও বেশি তরুণকে কাজের বাজারে ফিরিয়ে আনা। তবে একই সঙ্গে গুরুতর স্বাস্থ্যগত বা প্রতিবন্ধিতার সমস্যায় থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষা দেওয়ার কথাও সরকার বলছে।
এদিকে পিআইপি নিয়েও ব্যাপক পরিবর্তনের বিষয়টি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। বর্তমানে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ এই ভাতা দাবি করেন। সরকারের কমিশন করা টিমস রিভিউ পিআইপি ব্যবস্থার বিভিন্ন সমস্যা ও ভবিষ্যৎ সংস্কারের বিষয়ে সুপারিশ তৈরির কাজ করছে।
সরকারি পর্যালোচনায় বলা হয়েছে, পিআইপি অনেক প্রতিবন্ধী মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সহায়তা হলেও বর্তমান ব্যবস্থা কর্মসংস্থান, সামাজিক জীবন ও দৈনন্দিন কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের ক্ষেত্রে কিছু বাধা তৈরি করতে পারে। চূড়ান্ত সুপারিশের জন্য টিমস রিভিউয়ের কাজ চলমান রয়েছে।
তবে প্রতিবন্ধী অধিকারকর্মী ও বিভিন্ন দাতব্য সংগঠন আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, সহায়তা কমিয়ে দিলে কিছু তরুণ আরও বেশি দারিদ্র্যের মধ্যে পড়তে পারেন এবং উল্টো তাদের কর্মসংস্থানে প্রবেশ আরও কঠিন হয়ে উঠতে পারে। অন্যদিকে সরকারের পক্ষ থেকে বলা হচ্ছে, সংস্কারের উদ্দেশ্য হলো দীর্ঘমেয়াদে তরুণদের কাজ ও প্রশিক্ষণের সুযোগ বাড়ানো এবং সবচেয়ে গুরুতর অবস্থায় থাকা ব্যক্তিদের সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
ইউনিভার্সাল ক্রেডিট ও পিআইপি নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এখনো নেওয়া হয়নি। টিমস রিভিউয়ের পাশাপাশি তরুণদের কর্মসংস্থান নিয়ে অ্যালান মিলবার্নের নেতৃত্বাধীন পর্যালোচনার ফলাফলের পর সরকার পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেবে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান\দ্য ইন্ডিপেনডেন্ট
এমকে

