12.7 C
London
February 23, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

যুক্তরাষ্ট্রের আইসিই-ধাঁচের গণবহিষ্কার পরিকল্পনা এবার যুক্তরাজ্যে, তীব্র সমালোচনায় রিফর্ম ইউকে

যুক্তরাজ্যে অভিবাসন ইস্যুতে বড় ধরনের কড়াকড়ি আরোপের পরিকল্পনা ঘোষণা করেছে রিফর্ম ইউকে। দলটির প্রস্তাবিত নীতিমালার মধ্যে রয়েছে আইসিই-ধাঁচের একটি পৃথক “ইউকে ডিপোর্টেশন কমান্ড” গঠন, ব্যাপক বহিষ্কার অভিযান, নজরদারি ক্ষমতা বৃদ্ধি এবং অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতি বাতিল। পরিকল্পনাটি প্রকাশের পর মানবাধিকার সংগঠনগুলো এটিকে “নির্মম” ও “বিভাজনমূলক” বলে সমালোচনা করেছে।

ডোভারে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির স্বরাষ্ট্রবিষয়ক মুখপাত্র জিয়া ইউসুফ, যাকে “ছায়া স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী” হিসেবে উপস্থাপন করা হয়, বলেন—ব্রিটেনে অভিবাসনের বর্তমান পরিস্থিতি একটি “আক্রমণ”-এর সমতুল্য। তার ভাষ্য, ক্ষমতায় গেলে তিনি এই “আক্রমণ” বন্ধ করবেন এবং উল্টো প্রবণতা তৈরি করবেন। ইউসুফ দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের মতো সহিংস পরিস্থিতি যুক্তরাজ্যে তৈরি হবে না, কারণ এখানে পুলিশি কার্যক্রম “সম্মতির ভিত্তিতে” পরিচালিত হয় এবং কর্মকর্তারা অস্ত্র বহন করবেন না।

প্রস্তাবিত ইউকে ডিপোর্টেশন কমান্ড এক সময়ে ২৪ হাজার মানুষকে আটক রাখতে সক্ষম হবে এবং বছরে সর্বোচ্চ ২ লাখ ৮৮ হাজার ব্যক্তিকে বহিষ্কার করতে পারবে বলে জানানো হয়। প্রতিদিন পাঁচটি ফ্লাইট পরিচালনার মাধ্যমে এই বহিষ্কার কার্যক্রম চলবে। তবে বর্তমানে দেশে প্রায় ২,৫০০টি আটক কেন্দ্রের জায়গা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, এত বড় পরিসরে অবকাঠামো সম্প্রসারণ করতে বিপুল ব্যয় ও প্রশাসনিক সক্ষমতা প্রয়োজন হবে।

দলটির সংক্ষিপ্ত নীতিপত্রে বলা হয়েছে, নাইজাল ফারাজের নেতৃত্বাধীন সরকার প্রথম মেয়াদেই ৬ লাখের বেশি মানুষকে বহিষ্কারের চেষ্টা করবে। এর মধ্যে অনির্দিষ্টকালের বসবাসের অনুমতিপ্রাপ্ত ব্যক্তিরাও থাকতে পারেন। পরিকল্পনা অনুযায়ী, ইনডেফিনিট লিভ টু রিমেইন বাতিল করে নবায়নযোগ্য পাঁচ বছরের কর্মভিসা ও পৃথক সঙ্গী ভিসা চালু করা হবে। নতুন শর্ত পূরণে ব্যর্থ হলে পূর্বের অনুমতি প্রত্যাহার করা হতে পারে।

এছাড়া পাকিস্তান, আফগানিস্তান ও সিরিয়া তাদের নাগরিকদের ফিরিয়ে নিতে অস্বীকৃতি জানালে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর ওপর “ভিসা স্থগিত” আরোপের প্রস্তাব করা হয়েছে। একই সঙ্গে “অবৈধ প্রবেশে সহায়তা বা উৎসাহ প্রদানকারী যে কোনো কর্মকাণ্ড” অপরাধ হিসেবে গণ্য করে সর্বোচ্চ দুই বছরের কারাদণ্ডের বিধান রাখার কথাও বলা হয়েছে। দলটি এই প্রস্তাবিত আইনের নাম দিয়েছে “পোলানস্কি আইন”, জ্যাক পোলানস্কি-এর নাম অনুসারে। পোলানস্কি এ উদ্যোগকে “হতাশাজনক রাজনৈতিক ভঙ্গি” বলে মন্তব্য করেছেন।

অভিবাসী অধিকার সংগঠনগুলো পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে।

ওয়ার্ক রাইটস সেন্টারের প্রধান নির্বাহী ডোরা-অলিভিয়া ভিকল বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে আইসিই অভিযানের অভিজ্ঞতা উদ্বেগজনক ছিল এবং সেই মডেল অনুসরণ করা হলে পরিবার ও কমিউনিটিতে অস্থিরতা তৈরি হতে পারে। ফ্রিডম ফ্রম টর্চারের সহযোগী পরিচালক নাতাশা সাঙ্গারিদেসের মতে, এই প্রস্তাব বিভাজন বাড়াবে এবং সমাজে ভয় ও অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করবে।

রিফর্ম ইউকের এই নীতিপ্রস্তাব আগামী নির্বাচনের আগে অভিবাসন প্রশ্নে রাজনৈতিক বিতর্ককে আরও তীব্র করে তুলবে বলেই ধারণা করা হচ্ছে। দলটি কঠোর অবস্থানের মাধ্যমে জনসমর্থন বাড়ানোর চেষ্টা করছে, অন্যদিকে সমালোচকরা মানবাধিকার, সামাজিক সংহতি ও অর্থনৈতিক বাস্তবতার প্রশ্ন তুলে এর বাস্তবায়নযোগ্যতা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করছেন।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় ব্রিটিশ পরিবারকে ব্যাটারি ও খাদ্য মজুতের নির্দেশ

লন্ডনের গ্রেনফেল টাওয়ার অগ্নিকাণ্ডের চূড়ান্ত তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ

২০২৭ সালের ১ জানুয়ারি থেকে পরিবর্তিত যুক্তরাজ্যের গ্র্যাজুয়েট ভিসা মেয়াদ ঘোষণা