TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্রের প্রভাব মোকাবিলায় এক মঞ্চে চীন-রাশিয়া-ভারত

কিরগিজস্তানের রাজধানী বিশকেকে শুরু হয়েছে সাংহাই সহযোগিতা সংস্থার (এসসিও) দুই দিনের শীর্ষ সম্মেলন। সোমবার (৩১ আগস্ট) শুরু হওয়া এই সম্মেলনে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিসহ সদস্য দেশগুলোর শীর্ষ নেতারা অংশ নিচ্ছেন। সম্মেলনকে ঘিরে চীন, রাশিয়া ও ভারতের মধ্যে কৌশলগত যোগাযোগ এবং পরিবর্তনশীল বিশ্বরাজনীতিতে বহুমেরুকেন্দ্রিকতার প্রশ্নটি নতুন করে আলোচনায় এসেছে।

এসসিও প্রতিষ্ঠার ২৫ বছর পূর্তির বছরে এবারের সম্মেলন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। ২০০১ সালে নিরাপত্তা সহযোগিতার সংগঠন হিসেবে যাত্রা শুরু করা এই জোট সময়ের সঙ্গে সম্প্রসারিত হয়ে বর্তমানে ১০টি পূর্ণ সদস্য দেশকে অন্তর্ভুক্ত করেছে। নিরাপত্তার পাশাপাশি অর্থনীতি, বাণিজ্য, জ্বালানি ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিভিন্ন ক্ষেত্রেও সংগঠনটির কার্যক্রম বিস্তৃত হয়েছে।

চীন ও রাশিয়া সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এসসিওকে পশ্চিমা নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক কাঠামোর বাইরে বৃহত্তর বহুমেরুকেন্দ্রিক বিশ্বব্যবস্থার ধারণা এগিয়ে নেওয়ার একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম হিসেবে গুরুত্ব দিয়ে আসছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে চীন ও রাশিয়ার টানাপোড়েনের প্রেক্ষাপটে সংগঠনটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

সম্মেলনের পাশাপাশি নেতাদের মধ্যে একাধিক দ্বিপক্ষীয় বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। সোমবার রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিনের সঙ্গে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের বৈঠক নির্ধারিত রয়েছে। একই দিনে পুতিনের সঙ্গে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিরও বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে। মঙ্গলবার এসসিওর আনুষ্ঠানিক অধিবেশনের দিন পুতিনের সঙ্গে ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ানের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে।

তবে এসসিওকে সরাসরি কোনো রাজনৈতিক বা সামরিক জোট হিসেবে বিবেচনা করা হয় না। সংগঠনটির সদস্য দেশগুলোর মধ্যেই বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও কৌশলগত মতপার্থক্য রয়েছে। বিশেষ করে ভারত-পাকিস্তান এবং ভারত-চীনের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ থাকায় একই মঞ্চে উপস্থিত থাকলেও প্রত্যেক দেশ নিজেদের জাতীয় স্বার্থ ও কৌশলগত অবস্থানকে অগ্রাধিকার দেয়।

ভারতের জন্য এবারের সম্মেলন আঞ্চলিক শক্তিগুলোর সঙ্গে কূটনৈতিক যোগাযোগ বজায় রাখার পাশাপাশি পরিবর্তিত ভূরাজনৈতিক পরিস্থিতিতে নিজেদের অবস্থান তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ। চীন ও পাকিস্তানের সঙ্গে ভারতের বিভিন্ন বিষয়ে বিরোধ থাকলেও নয়াদিল্লি এসসিওকে বহুপক্ষীয় যোগাযোগ ও সহযোগিতার একটি কার্যকর মঞ্চ হিসেবে ব্যবহার করে আসছে।

অন্যদিকে, চীন ও রাশিয়া এসসিওর পরিধি ও আন্তর্জাতিক প্রভাব আরও বাড়ানোর ওপর জোর দিচ্ছে। চীনের দৃষ্টিতে সংগঠনটি শুধু আঞ্চলিক নিরাপত্তা ও সহযোগিতার ক্ষেত্র নয়; বরং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় বহুমেরুকেন্দ্রিকতার ধারণা তুলে ধরারও একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম।

এবারের সম্মেলনে ইরান, পাকিস্তান, বেলারুশ ও মধ্য এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নেতারাও অংশ নিচ্ছেন। তুরস্কসহ আরও কয়েকটি দেশ সংলাপ অংশীদার হিসেবে এসসিওর সঙ্গে যুক্ত রয়েছে। ফলে এশিয়া ও ইউরেশিয়ার বিস্তৃত অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ শক্তিগুলোর উপস্থিতিতে বিশকেকের এই সম্মেলন আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে।

বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা বিশ্বের সঙ্গে চীন, রাশিয়া ও ইরানের চলমান টানাপোড়েনের মধ্যে একই মঞ্চে এসব দেশের নেতাদের উপস্থিতি বিশ্বরাজনীতির শক্তির ভারসাম্য নিয়ে নতুন করে আলোচনা তৈরি করেছে। তবে এসসিওর সদস্য দেশগুলোর পারস্পরিক স্বার্থের ভিন্নতা এবং বিদ্যমান বিরোধের কারণে সংগঠনটি ভবিষ্যতে কতটা সমন্বিত ভূরাজনৈতিক শক্তিতে পরিণত হবে, সেটিই এখন গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন।

সূত্রঃ এপি, আল-জাজিরা, রয়টার্স

এম.কে

আরো পড়ুন

লন্ডনে ইরানি হামলার আশঙ্কা নেইঃ ব্রিটিশ মন্ত্রীর স্পষ্ট বার্তা

কিউবার ওপর নতুন চাপের পরিকল্পনা ট্রাম্প প্রশাসনেরঃ গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোর দাবি

ফরাসি বিমান নিয়ন্ত্রকদের ধর্মঘটে ইউরোপজুড়ে ভ্রমণ বিপর্যয়, ৩০ হাজার যাত্রীর ছুটি ব্যাহত