TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

‘যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থবিরোধী’ আখ্যা দিয়ে একযোগে বহু আন্তর্জাতিক সংস্থা ত্যাগ

ট্রাম্প প্রশাসন ঘোষণা দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ৩১টি জাতিসংঘভুক্ত সংস্থা এবং ৩৫টি জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের বাইরে মোট ৬৬টি সংস্থা থেকে নাম প্রত্যাহার করবে। হোয়াইট হাউসের ভাষ্য অনুযায়ী, এসব সংস্থা জলবায়ু পরিবর্তন, অভিবাসন, শ্রম, লিঙ্গসমতা ও বৈচিত্র্যভিত্তিক তথাকথিত “ওক” (woke) এজেন্ডা অনুসরণ করে, যা যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী।

 

যুক্তরাষ্ট্র যেসব ৩১টি জাতিসংঘ সংস্থা ছাড়ছে তা হল;
১\ ডিপার্টমেন্ট অব ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল অ্যাফেয়ার্স
২\ ইকোনমিক অ্যান্ড সোশ্যাল কাউন্সিল (ইকোসক) – আফ্রিকার জন্য অর্থনৈতিক কমিশন
৩\ ইকোসক – লাতিন আমেরিকা ও ক্যারিবীয় অঞ্চলের জন্য অর্থনৈতিক কমিশন
৪\ ইকোসক – এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন
৫\ ইকোসক – পশ্চিম এশিয়ার জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক কমিশন
৬\ আন্তর্জাতিক আইন কমিশন
৭\ আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের অবশিষ্ট কার্যক্রম ব্যবস্থাপনা সংস্থা
৮\ আন্তর্জাতিক বাণিজ্য কেন্দ্র
৯\ আফ্রিকা বিষয়ক জাতিসংঘ বিশেষ উপদেষ্টার দপ্তর
১০\ সশস্ত্র সংঘাতে শিশু বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির দপ্তর
১১\ সংঘাতে যৌন সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির দপ্তর
১২\ শিশুদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বিষয়ক জাতিসংঘ মহাসচিবের বিশেষ প্রতিনিধির দপ্তর
১৩\ শান্তি প্রতিষ্ঠা কমিশন
১৪\ শান্তি প্রতিষ্ঠা তহবিল
১৫\ আফ্রিকান বংশোদ্ভূত জনগণের জন্য স্থায়ী ফোরাম
১৬\ জাতিসংঘ সভ্যতার জোট
১৭\ বন উজাড় ও বন অবক্ষয় থেকে নির্গমন হ্রাস বিষয়ক জাতিসংঘ কর্মসূচি
১৮\ জাতিসংঘ বাণিজ্য ও উন্নয়ন সম্মেলন
১৯\ জাতিসংঘ গণতন্ত্র তহবিল
২০\ জাতিসংঘ জ্বালানি কর্মসূচি
২১\ নারী ও লিঙ্গসমতা এবং নারীর ক্ষমতায়ন বিষয়ক জাতিসংঘ সংস্থা
২২\ জাতিসংঘ জলবায়ু পরিবর্তন ফ্রেমওয়ার্ক কনভেনশন (ইউএনএফসিসিসি)
২৩\ জাতিসংঘ মানব বসতি কর্মসূচি
২৪\ জাতিসংঘ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট
২৫\ জাতিসংঘ মহাসাগর কর্মসূচি
২৬\ জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল
২৭\ প্রচলিত অস্ত্র নিবন্ধন সংক্রান্ত জাতিসংঘ রেজিস্টার
২৮\ জাতিসংঘ সিস্টেম প্রধান নির্বাহীদের সমন্বয় বোর্ড
২৯\ জাতিসংঘ সিস্টেম স্টাফ কলেজ
৩০\ জাতিসংঘ পানি কর্মসূচি
৩১\ জাতিসংঘ বিশ্ববিদ্যালয়

এই সিদ্ধান্তের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ দিক হলো ইউএনএফসিসিসি থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যাহার। ১৯৯২ সালের এই চুক্তির ভিত্তিতেই প্যারিস জলবায়ু চুক্তি গড়ে ওঠে।

ট্রাম্প প্রশাসন আগেই ঘোষণা দিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয়বারের মতো প্যারিস চুক্তি ছাড়বে, যা কার্যকর হবে ২৭ জানুয়ারি ২০২৬ থেকে। এর ফলে যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক জলবায়ু আলোচনার পুরো কাঠামো থেকেই কার্যত বেরিয়ে যাচ্ছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, ইউএনএফসিসিসি একটি সেনেট অনুমোদিত চুক্তি হওয়ায়, প্রেসিডেন্টের একতরফা প্রত্যাহার সিদ্ধান্ত আদালতে চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারেন।

যুক্তরাষ্ট্র যেসব ৩৫টি অ-জাতিসংঘ আন্তর্জাতিক সংস্থা ছাড়ছে তা হল;
★২৪/৭ কার্বনমুক্ত জ্বালানি কমপ্যাক্ট
★কলম্বো প্ল্যান কাউন্সিল
★পরিবেশগত সহযোগিতা কমিশন
★এডুকেশন ক্যাননট ওয়েট
★হাইব্রিড হুমকি মোকাবিলায় ইউরোপীয় উৎকর্ষ কেন্দ্র
★ইউরোপীয় জাতীয় মহাসড়ক গবেষণাগার ফোরাম
★ফ্রিডম অনলাইন কোয়ালিশন
★বৈশ্বিক কমিউনিটি সম্পৃক্ততা ও স্থিতিশীলতা তহবিল
★বৈশ্বিক সন্ত্রাসবিরোধী ফোরাম
★সাইবার দক্ষতা বিষয়ক বৈশ্বিক ফোরাম
★অভিবাসন ও উন্নয়ন বিষয়ক বৈশ্বিক ফোরাম
★আন্তঃআমেরিকান গ্লোবাল চেঞ্জ রিসার্চ ইনস্টিটিউট
★খনি, খনিজ ও টেকসই উন্নয়ন বিষয়ক ★আন্তঃসরকারি ফোরাম
★জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক আন্তঃসরকারি প্যানেল (আইপিসিসি)
★জীববৈচিত্র্য ও বাস্তুতন্ত্র বিষয়ক বিজ্ঞান-নীতি প্ল্যাটফর্ম
★সাংস্কৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার বিষয়ক আন্তর্জাতিক কেন্দ্র
★আন্তর্জাতিক তুলা উপদেষ্টা কমিটি
★আন্তর্জাতিক উন্নয়ন আইন সংস্থা
★আন্তর্জাতিক জ্বালানি ফোরাম
★শিল্পকলা ও সংস্কৃতি সংস্থার আন্তর্জাতিক ফেডারেশন
★গণতন্ত্র ও নির্বাচন সহায়তা বিষয়ক আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউট
★ন্যায়বিচার ও আইনের শাসন বিষয়ক আন্তর্জাতিক ইনস্টিটিউট
★আন্তর্জাতিক সিসা ও দস্তা গবেষণা গোষ্ঠী
★আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য জ্বালানি সংস্থা
★আন্তর্জাতিক সৌর জোট
★আন্তর্জাতিক উষ্ণমণ্ডলীয় কাঠ সংস্থা
★প্রকৃতি সংরক্ষণ বিষয়ক আন্তর্জাতিক ইউনিয়ন
★প্যান আমেরিকান ভূগোল ও ইতিহাস ইনস্টিটিউট
আটলান্টিক সহযোগিতা অংশীদারত্ব
★এশিয়ায় জলদস্যুতা ও সশস্ত্র ডাকাতি দমন বিষয়ক আঞ্চলিক সহযোগিতা চুক্তি
★আঞ্চলিক সহযোগিতা কাউন্সিল
★একবিংশ শতাব্দীর নবায়নযোগ্য জ্বালানি নীতি নেটওয়ার্ক
★ইউক্রেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি কেন্দ্র
★প্রশান্ত মহাসাগরীয় আঞ্চলিক পরিবেশ কর্মসূচির সচিবালয়

ইউরোপ কাউন্সিলের ভেনিস কমিশন
তবে যুক্তরাষ্ট্র জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ, ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম এবং জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থা–তে সদস্য হিসেবে থাকবে বলে জানিয়েছে প্রশাসন। তাদের মতে, এসব সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের নিরাপত্তা ও মানবিক স্বার্থের সঙ্গে সরাসরি যুক্ত।

বিশ্লেষকদের মতে, একযোগে এত সংখ্যক আন্তর্জাতিক সংস্থা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সরে যাওয়া বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থা, জলবায়ু কূটনীতি ও মানবাধিকার উদ্যোগে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সম্মেলন ভারতে, ঢাকায় আসছেন না পুতুল

মোদি সরকারের তালেবান তোষামোদ: জাভেদ আখতার বললেন, ‘লজ্জায় মাথা কাটা যাচ্ছে’

শপথ নেয়ার আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি চান ট্রাম্প

নিউজ ডেস্ক