TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকবাংলাদেশ

যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত নারীকে টেনেহিঁচড়ে গাড়ি থেকে নামাল আইস এজেন্টরা

যুক্তরাষ্ট্রের মিনেসোটা অঙ্গরাজ্যের মিনিয়াপোলিসে এক নারীকে গাড়ি থেকে টেনেহিঁচড়ে নামিয়ে আটক করেছে ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্টের (আইস) এজেন্টরা।

 

আলিয়া রহমান নামের এই নারী একজন সফটওয়্যার প্রকৌশলী এবং মানবাধিকার ও এলজিবিটি অধিকারকর্মী। তার শৈশবের একটি বড় অংশ কেটেছে বাংলাদেশে।

নিউইয়র্ক পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, অবৈধ অভিবাসীদের গ্রেপ্তারে অভিযানে এসেছিলেন আইস এজেন্টরা। তাদের এই অভিযানের বিরুদ্ধে প্রতিবাদে নামেন স্থানীয় লোকজন। এসময় আলিয়া তার গাড়ি নিয়ে মুখোশধারী এজেন্টদের পথরোধ করেন বলে অভিযোগ তোলা হয়।

এদিকে গত মঙ্গলবারের ঘটনাটির ভিডিও স্যোশাল মিডিয়ায় ভাইরাল হয়েছে।

এতে দেখা যায়, মুখোশধারী এজেন্টরা আলিয়ার গাড়ির কাচ ভেঙে তাকে জোর করে বের করে আনছেন। এ সময় আলিয়া নিজেকে অসুস্থ দাবি করে বলেন তিনি চিকিৎসকের কাছে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। আশপাশে থাকা বিক্ষোভকারীরাও তখন চিৎকার করে আইস এজেন্টদের থামতে বলছিলেন।

ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট বা সংক্ষেপে ‘আইসিই’ যুক্তরাষ্ট্রের হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের অধীন একটি কেন্দ্রীয় সংস্থা। এই সংস্থাটির কর্মীরা ‘আইস এজেন্ট’ হিসেবে পরিচিত। এই সংস্থার সদস্যরা বা এজেন্টরা মূলত অভিবাসন আইন প্রয়োগ, সীমান্ত সুরক্ষা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ দমনের কাজ করে থাকেন। যুক্তরাষ্ট্রে অবৈধ অভিবাসীদের আটক, বিচার ও ফেরত পাঠানোর (ডিপোর্টেশন) দায়িত্বও এই সংস্থার। ডোনাল্ড ট্রাম্পের অভিবাসনবিরোধী কঠোর নীতির কারণে আইস এজেন্টদের তৎপরতা সম্প্রতি ব্যাপক আলোচনায় এসেছে।

নিউইয়র্ক পোস্ট জানায়, ৪৩ বছর বয়সী আলিয়া রহমান একজন অভিজ্ঞ সফটওয়্যার প্রকৌশলী। তিনি নিজেকে ‘কমিউনিটি-ফোকাসড সিকিউরিটি প্র্যাকটিশনার’ হিসেবে পরিচয় দেন। এর আগে তিনি নিউ আমেরিকার ওপেন টেকনোলজি ইনস্টিটিউটের ফেলো ছিলেন, যেখানে পুলিশের বডি ক্যামেরা ব্যবহারের নীতিমালা কাজ করেন।

লিংকডইন প্রোফাইল অনুযায়ী, আলিয়া যুক্তরাষ্ট্রের পারডু ইউনিভার্সিটি থেকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি নিয়েছেন এবং সাইবার নিরাপত্তায় সনদপ্রাপ্ত পেশাজীবী।

আলিয়া রহমানের জন্ম যুক্তরাষ্ট্রে। ছোটবেলায় তিনি পরিবারের সঙ্গে বাংলাদেশে আসেন।

এক সাক্ষাৎকারে বাংলাদেশ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘আমি একটি দেশকে গড়ে উঠতে দেখেছি। আমি পোশাকশ্রমিকদের, বিশেষ করে নারীদের রাস্তায় নেমে অধিকার আদায়ের আন্দোলন করতে দেখেছি।

শৈশব থেকেই আলিয়া নিজেকে ‘জেন্ডার কুইয়ার’ হিসেবে পরিচয় দেন। পড়ালেখার জন্য তিনি যুক্তরাষ্ট্রে ফিরে যান। ২০০১ সালে টুইন টাওয়ার হামলার সময় তার দুই কাজিন নিহত হন।

আলিয়া রহমান দীর্ঘদিন ধরে ব্ল্যাক লাইভস ম্যাটার, ফিলিস্তিনপন্থী আন্দোলন এবং এলজিবিটি অধিকার সংগঠনের সঙ্গে যুক্ত।

মঙ্গলবারের ঘটনার পর আলিয়ার বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ গঠন করা হয়েছে কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে আইসের অভিযোগ, তিনি অবৈধ অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযানে তিনি বাধা সৃষ্টি করেছিলেন।

সূত্রঃ নিউইয়র্ক পোস্ট

এম.কে

আরো পড়ুন

হাসপাতালে পুলিশ কর্মকর্তাকে নির্যাতন করে হত্যার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক

ইসলাম নিয়ে কটূক্তি করায় বিচারের দাবিতে মুম্বাই অভিমুখে হাজার হাজার মুসলিমের যাত্রা

এবার ধর্ষণবিরোধী মানববন্ধনে ছাত্রলীগের হামলার অভিযোগ

অনলাইন ডেস্ক