8.1 C
London
March 6, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েল হামলায় ব্রিকসের বিভক্ত প্রতিক্রিয়া, নেতৃত্বে ভারতের সতর্ক কূটনীতি

ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ সামরিক হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রতিক্রিয়া দেখা গেলেও ব্রিকস জোটের অবস্থান এবার তুলনামূলকভাবে নীরব। বিশ্লেষকদের মতে, জোটটির বর্তমান চেয়ারম্যান নরেদ্র মোদি নেতৃত্বাধীন ইন্ডিয়া এই বিষয়ে সতর্ক কূটনৈতিক অবস্থান নেওয়ায় সংগঠনের প্রতিক্রিয়া সীমিত হয়ে পড়েছে।

ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযান “অপারেশন এপিক ফিউরি” শুরু হওয়ার প্রায় এক সপ্তাহ পার হলেও ব্রিকস জোট আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো যৌথ বিবৃতি দেয়নি। অথচ গত বছর ব্রাজিলের নেতৃত্বে থাকা সময় একই ধরনের সংঘাতে ব্রিকস দ্রুত প্রতিক্রিয়া জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলাকে আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছিল।

২০০৯ সালে অর্থনৈতিক সহযোগিতার লক্ষ্য নিয়ে গঠিত ব্রিকস (ব্রাজিল, রাশিয়া, ইন্ডিয়া, চায়না, সাউথ আফ্রিকা) বর্তমানে বৈশ্বিক রাজনীতিতে “গ্লোবাল সাউথ”–এর একটি গুরুত্বপূর্ণ জোট হিসেবে বিবেচিত। অনেক বিশ্লেষক এটিকে পশ্চিমা শিল্পোন্নত দেশগুলোর সংগঠন জি–সেভেনের বিকল্প প্ল্যাটফর্ম হিসেবে দেখেন।

প্রতিষ্ঠাকালীন পাঁচ সদস্যের বাইরে ২০২৪ সালের পর জোটটি সম্প্রসারিত হয়ে এতে ইরান, সৌদি আরব, ইউনাইটেড আরব আমিরাত, ইজিপ্ট, ইথিওপিয়া এবং ইন্দোনেশিয়া যুক্ত হয়েছে। ফলে জোটটির কৌশলগত গুরুত্ব আরও বেড়েছে।

তবে ইরানে হামলার ঘটনায় ব্রিকসের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে ভিন্ন প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। সাউথ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল র‍্যাম্পোসা যুদ্ধবিরতির আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সংঘাত দ্রুত বন্ধ হওয়া প্রয়োজন এবং পরিস্থিতি আরও বিস্তৃত হলে তা পুরো অঞ্চলের জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

অন্যদিকে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার সমালোচনা করেছেন। রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সার্জেই লেভরভ বলেছেন, ইরান পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করছে—এমন কোনো প্রমাণ নেই এবং এই যুদ্ধ বরং মধ্যপ্রাচ্যে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।

একইভাবে চায়নার পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ই ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক হামলার বিরোধিতা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে কূটনৈতিক আলোচনা এগোচ্ছিল—ঠিক সেই সময় হামলা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে।

তবে প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের মধ্যে ভারতই একমাত্র দেশ, যারা যুক্তরাষ্ট্র–ইসরায়েলের হামলার সরাসরি নিন্দা করেনি। ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কেবল সংলাপ ও কূটনীতির মাধ্যমে দ্রুত সংঘাতের অবসানের আহ্বান জানিয়েছে।

বিশ্লেষকদের মতে, ভারতের এই সতর্ক অবস্থানের পেছনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বড় ভূমিকা রাখছে। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ইসরায়েল সফর করে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠক করেন এবং প্রতিরক্ষা ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে একাধিক সহযোগিতা চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ব্রিকস সদস্যদের ভিন্ন কৌশলগত স্বার্থের কারণে ইরান ইস্যুতে ঐক্যবদ্ধ অবস্থান তৈরি করা কঠিন হয়ে পড়েছে। তবে চীনের গবেষকদের মতে, বিভিন্ন দেশের ভিন্ন অবস্থান থাকা সত্ত্বেও বহুপাক্ষিকতা ও শান্তিপূর্ণ সমাধানের লক্ষ্যেই ব্রিকস জোটকে এগিয়ে যেতে হবে।

সূত্রঃ আল জাজিরা

এম.কে

আরো পড়ুন

মানবিক ভিসা চালু করতে যাচ্ছে পর্তুগাল

ভারতে চারধাম যাত্রার পথে ভয়াবহ হেলিকপ্টার দুর্ঘটনাঃ তদন্তের নির্দেশ মুখ্যমন্ত্রীর

জেফ বেজোসকে টপকে বিশ্বের দ্বিতীয় শীর্ষ ধনী জাকারবার্গ