ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইরানের নতুন নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে। তবে তেহরান তাৎক্ষণিকভাবে এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে একে “মিথ্যা ও ভিত্তিহীন” বলে উল্লেখ করেছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নতুন শাসনব্যবস্থার প্রেসিডেন্ট আগের নেতাদের তুলনায় কম উগ্র এবং বেশি বুদ্ধিমান। তার ভাষ্য অনুযায়ী, ওই নেতা যুক্তরাষ্ট্রের কাছে যুদ্ধবিরতির আবেদন জানিয়েছেন।
তবে ট্রাম্প ঠিক কাকে “নতুন প্রেসিডেন্ট” হিসেবে উল্লেখ করেছেন, তা স্পষ্ট নয়। তিনি আগেই জানিয়েছেন, তার প্রশাসন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ গালিবাফ-এর সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছে।
ট্রাম্প আরও শর্ত দেন, হরমুজ প্রণালী পুরোপুরি খোলা, নিরাপদ ও বাধামুক্ত না হওয়া পর্যন্ত কোনো চুক্তি হবে না। অন্যথায় ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি।
অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের একাধিক কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুদ্ধবিরতির বিষয়ে আলোচনা চলছে এবং এর বিনিময়ে হরমুজ প্রণালী খুলে দেওয়ার বিষয়টি গুরুত্বপূর্ণ শর্ত হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। এই তথ্য অ্যাক্সিওস-কে নিশ্চিত করেছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
এদিকে বুধবার রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেওয়ার কথা রয়েছে ট্রাম্পের, যেখানে তিনি ইরান পরিস্থিতি এবং চলমান সামরিক অভিযানের অগ্রগতি তুলে ধরবেন।
খবরে বলা হয়েছে, এই ভাষণে ট্রাম্প ন্যাটো সদস্য দেশগুলোর ভূমিকা নিয়ে তীব্র অসন্তোষ প্রকাশ করতে পারেন। কারণ তার আহ্বান সত্ত্বেও জোটভুক্ত অনেক দেশ এই অভিযানে অংশ নেয়নি।
পরিস্থিতির প্রেক্ষিতে ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রকে ন্যাটো থেকে প্রত্যাহারের বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে জানা গেছে, যা আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান যুদ্ধ, হরমুজ প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ এবং ন্যাটো জোটের ভবিষ্যৎ—এই তিনটি ইস্যু এখন বৈশ্বিক কূটনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে যে কোনো সিদ্ধান্ত বিশ্বরাজনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ
এম.কে

