12.7 C
London
February 23, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

রমজানে ‘মোরাল পুলিশিং’ বিতর্কঃ কুষ্টিয়ায় এমপি আমির হামজা বিরুদ্ধে সমালোচনার ঝড়

কুষ্টিয়ার পাটিকাবাড়ি বাজারে রমজান মাসে নামাজের সময় টিভি ও ক্যারাম খেলা বন্ধ রাখার হুঁশিয়ারিকে কেন্দ্র করে ‘মোরাল পুলিশিং’-এর অভিযোগ উঠেছে জামায়াতে ইসলামীর নেতা ও নবনির্বাচিত সংসদ সদস্য আমির হামজার বিরুদ্ধে। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে তাকে এবং এক পুলিশ কর্মকর্তাকে দোকানিদের সতর্ক করতে দেখা যায়। ঘটনাটি ঘিরে স্থানীয় ব্যবসায়ী, মানবাধিকারকর্মী ও আইনজীবীদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে।

গত শনিবার সন্ধ্যায় কুষ্টিয়া সদরের পাটিকাবাড়ি বাজারে এই ঘটনা ঘটে। ভিডিওতে দেখা যায়, নেতাকর্মীদের সঙ্গে বাজারে উপস্থিত হন আমির হামজা। তার সঙ্গে ছিলেন পাটিকাবাড়ি পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ মসিউল আজম। এক পর্যায়ে একটি চায়ের দোকানে ক্যারাম খেলা ও টিভি চলতে দেখে পুলিশ কর্মকর্তা ধমকের সুরে বলেন, “কোনো ক্যারাম, কোনো টিভি চলবে না। এককথায় শেষ, রমজান মাস।” এ সময় সংসদ সদস্য দোকানিদের উদ্দেশ্যে বলেন, নামাজের সময় এসব কার্যক্রম থেকে বিরত থাকতে।

ঘটনার পর বাজারের অধিকাংশ দোকানে টিভি ও ক্যারাম খেলা বন্ধ রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক দোকানি বলেন, এতে তাদের বেচাকেনা কমে গেছে। তার দাবি, তারা এমনভাবে টিভি চালান বা খেলাধুলা করেন যাতে মুসল্লিদের নামাজে ব্যাঘাত না ঘটে।

সমালোচনার মুখে পুলিশ কর্মকর্তা মসিউল আজমকে পাটিকাবাড়ি ফাঁড়ি থেকে প্রত্যাহার করে পুলিশ লাইনসে সংযুক্ত করা হয়েছে।

তিনি স্থানীয় সাংবাদিকদের কাছে দাবি করেন, ওপরের নির্দেশেই তিনি এমন পদক্ষেপ নিয়েছেন। তবে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন জানিয়েছেন, পুলিশের পক্ষ থেকে এ ধরনের কোনো নির্দেশনা দেওয়া হয়নি। তার ভাষ্য, সংসদ সদস্যের উপস্থিতিতে তার বক্তব্যই পুলিশ কর্মকর্তা উচ্চস্বরে পুনরাবৃত্তি করেছেন, যা পুলিশি দায়িত্বের সীমার মধ্যে পড়ে না।

সংসদ সদস্য আমির হামজা বিষয়টি স্বীকার করে বলেন, তিনি মোরাল পুলিশিং করতে চাননি; বরং ‘দ্বীনের দায়’ থেকে রমজানের পবিত্রতা রক্ষায় আহ্বান জানিয়েছেন। তার দাবি, পুরো মাসজুড়ে সবকিছু বন্ধ রাখার কথা তিনি বলেননি, শুধু নামাজের সময়টুকু বিবেচনায় রাখার অনুরোধ করেছেন। তিনি আরও বলেন, পুলিশ কর্মকর্তা তার কথাগুলোই “একটু উঁচু গলায়” বলেছেন।

মানবাধিকারকর্মীরা ঘটনাটিকে উদ্বেগজনক হিসেবে দেখছেন। মানবাধিকারকর্মী নূর খান লিটন বলেন, একজন নির্বাচিত সংসদ সদস্যের এ ধরনের কর্মকাণ্ডে জড়ানো দুঃখজনক এবং সংবিধান ও আইনের প্রতি স্পষ্ট ধারণা থাকলে এমন আচরণ প্রত্যাশিত নয়।

আইনজীবীরা বলছেন, বাংলাদেশের সংবিধানে ধর্মীয় স্বাধীনতা ও ব্যক্তিস্বাধীনতার অধিকার স্বীকৃত।
সংবিধানের ৩২ অনুচ্ছেদে আইন অনুযায়ী ব্যতীত জীবন ও ব্যক্তিস্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত না করার কথা বলা হয়েছে এবং ৪১ অনুচ্ছেদে ধর্ম পালন ও প্রচারের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী মনজিল মোরসেদ বলেন, নির্দিষ্ট অভিযোগ ছাড়া এভাবে দোকানিদের ধমকানো আইনসম্মত নয়। কারও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে ব্যাঘাত ঘটলে অভিযোগের ভিত্তিতে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া যেতে পারে, তবে আগাম নির্দেশ দিয়ে কার্যক্রম বন্ধে বাধ্য করা সংবিধানসম্মত নয়।

পুলিশ সুপার জসীম উদ্দিন বলেন, রমজানে কখন দোকান খোলা থাকবে বা টিভি চলবে কি-না, তা আইনানুগ কোনো নিষেধাজ্ঞার বিষয় নয়; এটি মূলত ধর্মীয় অনুভূতির প্রশ্ন। তিনি জানান, ঘটনাটি তদন্ত করে প্রয়োজন হলে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ার পর জনমনে এক ধরনের আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, জনপ্রতিনিধি ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ভূমিকা ও সীমা নিয়ে এই বিতর্ক ভবিষ্যতে আরও বড় আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

সূত্রঃ বিবিসি বাংলা

এম.কে

আরো পড়ুন

ভূমিকম্পে ঢাকায় অন্তত ৩ জন নিহত

অবশেষে জনতার হাতে আটক রায়হান হত্যার প্রধান অভিযুক্ত এসআই আকবর

অনলাইন ডেস্ক

তারেক রহমানকে ‘ভাই’ সম্বোধন করে মমতার অভিনন্দন