10 C
London
March 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় ২০২৫-এর শেষে যুক্তরাজ্যে নাগরিকত্ব আবেদনে রেকর্ড

২০২৫ সালের শেষ দিকে যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্বের জন্য আবেদনের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ওই সময়ে ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য মোট ৯০ হাজার ৫৫৫টি আবেদন জমা পড়ে, যা আগের প্রান্তিকের তুলনায় ৪৪ শতাংশ বেশি এবং ২০০৪ সালে রেকর্ড শুরু হওয়ার পর সর্বোচ্চ।

এই বৃদ্ধি ঘটেছে এমন এক সময়ে, যখন যুক্তরাজ্যের রাজনৈতিক দলগুলো অভিবাসন নীতিকে কঠোর করার প্রতিযোগিতায় নেমেছে।

বিশেষ করে রিফর্ম ইউকে ঘোষণা করেছে, তারা ক্ষমতায় এলে বিদেশি নাগরিকদের স্থায়ীভাবে থাকার অধিকার বাতিল বা পুনর্বিবেচনার পরিকল্পনা নেবে। এমনকি যাদের অনির্দিষ্টকালের জন্য থাকার অনুমতি (আইএলআর) রয়েছে, তাদের ক্ষেত্রেও নতুন করে পাঁচ বছর মেয়াদি নবায়নযোগ্য ভিসার জন্য আবেদন করতে বাধ্য করা হতে পারে।

অন্যদিকে লেবার পার্টির সম্মেলনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ ঘোষণা করেন, স্থায়ীভাবে বসবাসের যোগ্যতা অর্জনের আগে অভিবাসীদের যুক্তরাজ্যে বসবাসের নির্ধারিত সময়সীমা দ্বিগুণ করা হবে। পাশাপাশি ভাষাজ্ঞান ও সরকারি অর্থনীতিতে অবদানের ক্ষেত্রে কঠোর নতুন শর্ত আরোপের প্রস্তাবও তুলে ধরা হয়।

আইনজীবীদের মতে, এই নীতিগত পরিবর্তনের আশঙ্কা অনেককে দ্রুত নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করতে উদ্বুদ্ধ করছে। বিশেষ করে যারা বহু বছর ধরে আইএলআর নিয়ে বসবাস করছিলেন কিন্তু আগে নাগরিকত্ব নেওয়ার প্রয়োজন মনে করেননি, তারাও এখন আবেদন করছেন।

যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মধ্যেও আবেদনের প্রবণতা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের অধীনে উত্তপ্ত রাজনৈতিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে অনেক পেশাজীবী যুক্তরাজ্যে স্থিতিশীলতার খোঁজ করছেন।

২০২২ সালের এক নীতিগত পরিবর্তনের ফলে যেসব আমেরিকানের ব্রিটিশ দাদী ছিলেন, তারা নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করার সুযোগ পাচ্ছেন। ডিসেম্বর ২০২৫ পর্যন্ত এক বছরে ৮ হাজার ৭৯০ জন মার্কিন নাগরিক ব্রিটিশ নাগরিকত্বের জন্য আবেদন করেছেন, যা আগের বছরের তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি।

 

ইউরোপীয় ইউনিয়নের নাগরিকদের মধ্যেও আবেদন বেড়েছে, বিশেষ করে ব্রেক্সিট-পূর্ব ব্যবস্থায় স্থায়ী মর্যাদা পাওয়া ব্যক্তিদের মধ্যে। ২০২৫ সালের তৃতীয় ও চতুর্থ প্রান্তিকের মধ্যে ভারতীয়দের আবেদন ৫৫ শতাংশ, পাকিস্তানিদের ২৮ শতাংশ এবং ইতালীয়দের ৮৪ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।

একই সময়ে নাগরিকত্ব পরীক্ষায় অংশগ্রহণকারীর সংখ্যাও ৪৮ শতাংশ বেড়ে ৫৯ হাজার ৪৭২-এ পৌঁছেছে, যা রেকর্ড সর্বোচ্চ। এটি ইঙ্গিত দেয় যে সামনের সময়ে নাগরিকত্বের আবেদন আরও বাড়তে পারে।

তবে আবেদনের সংখ্যা বাড়লেও ২০২৫ সালে স্থায়ী বসবাসের অনুমতি ও নাগরিকত্ব মঞ্জুরের হার আগের বছরের তুলনায় যথাক্রমে ১০ শতাংশ ও ১৩ শতাংশ কমেছে বলে স্বরাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে।

আইন বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, ক্রমাগত পরিবর্তিত অভিবাসন নীতি এবং যুক্তরাজ্য ও বৈশ্বিক রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার প্রেক্ষাপটে অনেকেই নাগরিকত্বকে ভবিষ্যতের নিরাপত্তা হিসেবে দেখছেন।

সূত্রঃ ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের শিক্ষার্থীদের গ্রীষ্মের ছুটি সাধারণ নির্বাচনকে প্রভাবিত করবে

অভিভাবকদের ঘরে বসে কাজ করার ফলে স্কুলে উপস্থিতি কমছেঃ অফস্টেড প্রধান

সাধারণ নির্বাচনের মাধ্যমে ঋষি সুনাক ইতিহাসের আস্তাকুঁড়ে নিক্ষেপিত হবেন