TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

রানওয়েতে ‘গর্ত’, যুক্তরাজ্যে বিমানবন্দরে সব ফ্লাইট স্থগিত—আতঙ্কে চিৎকার যাত্রীদের

রানওয়ের একটি অংশে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় যুক্তরাজ্যের ব্রিস্টল বিমানবন্দরে সব ধরনের বিমান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। শুক্রবার সন্ধ্যা থেকে শুরু হওয়া এই অচলাবস্থা শনিবারেও অব্যাহত রয়েছে। ফলে শত শত যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়েছেন এবং অনেক ফ্লাইট বাতিল বা অন্য বিমানবন্দরে ঘুরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রানওয়ের একটি অংশে ত্রুটি শনাক্ত হওয়ার পর যাত্রীদের নিরাপত্তার স্বার্থে উড্ডয়ন ও অবতরণ সাময়িকভাবে বন্ধ করে দেওয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি জরুরি ভিত্তিতে পরিদর্শন ও মেরামতের কাজ চলছে। তবে ঠিক কী কারণে রানওয়েতে এই ত্রুটি তৈরি হয়েছে, সে বিষয়ে এখনো বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা দেওয়া হয়নি।

শুক্রবার সন্ধ্যা ৬টা ৮ মিনিটে ব্রিস্টল বিমানবন্দরে বিমান ওঠানামা বন্ধ করা হয়। প্রথমে শনিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত কার্যক্রম স্থগিত রাখার কথা জানানো হলেও পরে পরিস্থিতির কারণে এই সময়সীমা বাড়ানো হয়। এতে যাত্রীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা আরও বেড়ে যায়।

আটকে পড়া যাত্রীদের কয়েকজন রানওয়ের সমস্যাটিকে ‘রানওয়ের মধ্যে একটি গর্ত’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। তবে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে ত্রুটির প্রকৃতি সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়নি।

বিমানবন্দরের ভেতরের পরিস্থিতিও ছিল বেশ উত্তেজনাপূর্ণ। নিউক্যাসলগামী একটি ফ্লাইটে যাত্রার কথা থাকা রিচার্ড ব্রডবেন্ট জানান, হঠাৎ সব ফ্লাইট বাতিলের ঘোষণা দিয়ে যাত্রীদের টার্মিনালের নিচতলার একটি এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। সেখানে প্রচণ্ড ভিড় তৈরি হয়।

ব্রডবেন্টের ভাষ্য অনুযায়ী, পরিস্থিতি এতটাই বিশৃঙ্খল হয়ে পড়ে যে অ্যালার্ম বাজতে শুরু করলে যাত্রীদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনেকে চিৎকার করতে থাকেন। তার পরিবারের একজন সদস্যও ঘটনায় ভীষণভাবে বিচলিত হয়ে পড়েন।

এক যাত্রী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ ইজিজেটের প্রতি ক্ষোভ প্রকাশ করে অভিযোগ করেন, তারা ব্রিস্টল বিমানবন্দরে আটকা পড়ে আছেন এবং কর্তৃপক্ষের কাছ থেকে পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না।

গ্লাসগো যাওয়ার কথা থাকা পল স্মিথও বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের ব্যবস্থাপনার সমালোচনা করেছেন। তার ছেলের ২০তম জন্মদিন উপলক্ষে এই যাত্রার পরিকল্পনা থাকলেও ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় তা ভেস্তে যায়।

তিনি অভিযোগ করেন, যাত্রীদের সঙ্গে যোগাযোগ, প্রয়োজনীয় পরামর্শ এবং সহায়তার ব্যবস্থা অত্যন্ত দুর্বল ছিল। এমনকি এক ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে টার্মিনালের পাবলিক অ্যানাউন্সমেন্ট সিস্টেমে কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি বলেও জানান তিনি।

ফলে যাত্রীরা বিমান সংস্থার প্রতিনিধিদের কাছ থেকেই পরিস্থিতির আপডেট জানার চেষ্টা করেন। অনেক যাত্রীকে লাগেজ ফেরত নেওয়ার জায়গায় দীর্ঘ সময় অপেক্ষা করতে দেখা যায়।

এদিকে ব্রিস্টলের উদ্দেশে যাত্রা করা বেশ কয়েকটি বিমানও শুক্রবার সন্ধ্যায় গন্তব্য পরিবর্তন করতে বাধ্য হয়েছে। বিমান চলাচল পর্যবেক্ষণকারী তথ্য অনুযায়ী, কিছু ফ্লাইটকে লন্ডনের গ্যাটউইক, বার্মিংহাম এবং কার্ডিফ বিমানবন্দরে অবতরণ করানো হয়েছে।

ব্রিস্টল বিমানবন্দর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, রানওয়ের ত্রুটির কারণে সতর্কতামূলক ব্যবস্থা হিসেবে বিমান চলাচল সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত অংশটি পরীক্ষা ও মেরামতের কাজ চলছে এবং যাত্রীদের নিরাপত্তাই কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার।

বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ যাত্রীদের নিজ নিজ ফ্লাইটের বিষয়ে সর্বশেষ তথ্য জানতে সংশ্লিষ্ট এয়ারলাইনের সঙ্গে যোগাযোগ করার পরামর্শ দিয়েছে। একই সঙ্গে ইজিজেটও ব্রিস্টল বিমানবন্দর থেকে যাতায়াতকারী যাত্রীদের চলমান পরিস্থিতির কারণে আরও বিঘ্নের জন্য প্রস্তুত থাকার সতর্কতা দিয়েছে।

তবে কখন বিমানবন্দরের স্বাভাবিক কার্যক্রম পুরোপুরি চালু হবে, সে বিষয়ে এখনো নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি। রানওয়ের ত্রুটির কারণও তদন্ত ও পরিদর্শন শেষ না হওয়া পর্যন্ত স্পষ্ট হবে না বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ফলে দ্বিতীয় দিনেও ব্রিস্টল বিমানবন্দরকে ঘিরে তৈরি হয়েছে চরম ভোগান্তি। যাত্রীদের একাংশ বিকল্প যাত্রাপথ খুঁজছেন, অন্যদিকে বাতিল ও ঘুরিয়ে দেওয়া ফ্লাইটের কারণে যুক্তরাজ্যের অন্যান্য বিমানবন্দরেও অতিরিক্ত চাপ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

 

সূত্রঃ জিবি নিউজ

এম.কে

আরো পড়ুন

নতুন রেকর্ড ভাঙল এনএইচএসের ওয়েটিং লিস্ট

জাতিগত বৈষম্য মোকাবেলায় সরকারের নতুন পরিকল্পনা

অনলাইন ডেস্ক

বাজেটে অব্যাহত থাকবে ফারলো স্কিম

নিউজ ডেস্ক