বিভিন্ন দেশের পণ্যের ওপর সর্বনিম্ন ১০ থেকে সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এই তালিকায় যুক্তরাষ্ট্রের ঘনিষ্ঠ মিত্র ও বাণিজ্যিক অংশীদার— ইউরোপীয় ইউনিয়ন, যুক্তরাজ্য, জাপান, ইসরায়েল, তাইওয়ান ও ভারত রয়েছে- তেমনি চীন, ভিয়েতনাম, পাকিস্তান, বাংলাদেশও আছে, এমনকি ইউক্রেনও রয়েছে। তবে নতুন করে শুল্ক আরোপের দেশগুলোর তালিকায় নেই রাশিয়ার নাম।
আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদন মতে, বুধবার হোয়াইট হাউস রোজ গার্ডেনে নিজের বক্তৃতায় ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন, ভারত, জাপান এবং ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ প্রধান মার্কিন বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর অতিরিক্ত শুল্ক আরোপের নির্দিষ্ট বিবরণসহ একটি চার্ট উঁচিয়েছিলেন। তবে, কার্যত সমগ্র বিশ্বকে অন্তর্ভুক্ত করে এমন তালিকা থেকে বাদ পড়েছে রাশিয়া।
পরে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ক্যারোলিন লিভিট বলেন, রাশিয়া ট্রাম্পের শুল্ক তালিকায় নেই কারণ, মার্কিন নিষেধাজ্ঞা ইতোমধ্যেই ‘যেকোনো অর্থবহ বাণিজ্যকে বাধাগ্রস্ত করে’।
যদিও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এখনও মরিশাস বা ব্রুনাইয়ের মতো দেশগুলোর তুলনায় রাশিয়ার সঙ্গে বেশি বাণিজ্য করে, যেগুলো শুল্ক তালিকার অংশ ছিল। এমনকি যুদ্ধবিধ্বস্ত ইউক্রেনও ট্রাম্পের এই শুল্ক তালিকায় রয়েছে।
এদিকে তালিকা থেকে রাশিয়ার অব্যাহতি অনেককেই অবাক করে দিয়েছে। কারণ, মস্কো শিগগিরই ইউক্রেনে যুদ্ধ শেষ করতে ব্যর্থ হলে রাশিয়ার তেলের ওপর অতিরিক্ত নিষেধাজ্ঞার হুমকি দিয়েছিলেন ট্রাম্প।
এছাড়া, গত সপ্তাহে মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, ইউক্রেন ইস্যুতে তিনি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের ওপর ‘খুবই রাগান্বিত’ এবং ‘বিরক্ত’।
শুধু রাশিয়া নয়; বেলারুশ, কিউবা এবং উত্তর কোরিয়ার ওপরও পাল্টা শুল্ক আরোপ করা হয়নি। তবে বিশাল মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি ইরান এবং সিরিয়ার ওপর যথাক্রমে ১০ এবং ৪০ শতাংশ অতিরিক্ত শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের দুটি বৃহত্তম বাণিজ্য সঙ্গী, কানাডা এবং মেক্সিকোর নাম বুধবারের ঘোষণায় উল্লেখ করা হয়নি।
হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, তারা পূর্ববর্তী নির্বাহী আদেশ অনুসারে এই দুই দেশের সাথে আচরণ করবে। যেখানে ফেন্টানাইল এবং সীমান্ত সমস্যা সমাধানের প্রচেষ্টার অংশ হিসাবে দুটি দেশের উপর ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছিল।
এম.কে
০৪ এপ্রিল ২০২৫