17.5 C
London
September 10, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডনের আইনশৃঙ্খলা ও সামাজিক পরিবেশ নিয়ে জনমত জরিপে উঠে এলো চাঞ্চল্যকর তথ্য

লন্ডনে এমন কিছু এলাকা রয়েছে, যেখানে অমুসলিমরা প্রবেশ করতে পারেন না এবং শরিয়াহ আইন প্রাধান্য পায়—এমন ধারণা পোষণ করেন যুক্তরাজ্যের ৩৪ শতাংশ মানুষ। দুই হাজারের বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের ওপর পরিচালিত এক জনমত জরিপে এ তথ্য উঠে এসেছে।

মার্চে পরিচালিত ওই জরিপটি করেছে ইউগভ। এটি কিংস কলেজ লন্ডনের ‘লন্ডন হ্যাজ ফলেন?—যুক্তরাজ্যের রাজধানীতে অপরাধ, জাতি, ধর্ম ও জীবনযাপন নিয়ে ভুল ধারণা’ শীর্ষক গবেষণার অংশ। কিংস কলেজ লন্ডনের সাম্প্রতিক গবেষণাতেও অপরাধ নিয়ে মানুষের ধারণা এবং বাস্তব পরিসংখ্যানের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ব্যবধানের কথা তুলে ধরা হয়েছে।

জরিপে ৩৪ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, রাজধানীতে এমন এলাকা রয়েছে যেখানে অমুসলিমদের প্রবেশের সুযোগ নেই। বিপরীতে ৩৬ শতাংশ এই ধারণার সঙ্গে দ্বিমত পোষণ করেছেন। প্রায় এক-পঞ্চমাংশ উত্তরদাতা জানিয়েছেন, বিষয়টি সত্য কি না সে সম্পর্কে তারা নিশ্চিত নন।

লন্ডনকে ঘিরে এমন ধারণার বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও সাম্প্রতিক সময়ে মন্তব্য করেছেন। জিবি নিউজকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, লন্ডনের কিছু এলাকায় পুলিশ প্রবেশ করতে চায় না এবং সেখানে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে সমস্যা রয়েছে বলে তিনি মনে করেন।

ট্রাম্প বলেন, লন্ডন একসময় খুব নিরাপদ শহর ছিল। কিন্তু বর্তমানে সেখানে ভিন্ন সংস্কৃতি ও ভিন্ন ধরনের মানুষের উপস্থিতির কারণে শহরটি অনেক বদলে গেছে বলে তিনি দাবি করেন। একই সাক্ষাৎকারে তিনি লন্ডনের মেয়র সাদিক খানকেও কঠোরভাবে সমালোচনা করেন।

ট্রাম্পের এসব মন্তব্যের বিরোধিতা করেছেন সাদিক খান। এর আগে লন্ডনের মেয়র ট্রাম্পের রাজধানী সম্পর্কিত বক্তব্যকে ‘মিথ্যা ও অপপ্রচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করেন। তার দাবি, অনলাইনে লন্ডনকে আইনশৃঙ্খলাহীন ও অবনতিশীল শহর হিসেবে উপস্থাপন করা হলেও বাস্তব পরিস্থিতি ভিন্ন।

সাদিক খান জাতীয় পরিসংখ্যান দপ্তরের তথ্য উদ্ধৃত করে দাবি করেছেন, ইংল্যান্ড ও ওয়েলসের অন্যান্য অংশের তুলনায় লন্ডনে সহিংস অপরাধের শিকার হওয়ার সম্ভাবনা কম। তিনি আরও বলেন, বিশ্বের সেরা শহরের তালিকায় লন্ডন শীর্ষস্থান ধরে রেখেছে।

লন্ডনের মেয়র আরও বলেন, রাজধানী সম্পর্কে বাস্তব পরিস্থিতি এবং কিছু মানুষের ধারণার মধ্যে বড় ধরনের ব্যবধান তৈরি হয়েছে। তার মতে, অনলাইনে ছড়িয়ে পড়া ভুল তথ্য এই ব্যবধান তৈরিতে ভূমিকা রাখছে।

শরিয়াহ আইন নিয়েও লন্ডনে বিতর্ক রয়েছে। গত মে মাসে জিবি নিউজের একটি অনুসন্ধানে রাজধানীতে শরিয়াহভিত্তিক বিভিন্ন আইনি সেবার তথ্য প্রকাশ করা হয়। এসব সেবার মধ্যে ইসলামী আইনশাস্ত্রের ভিত্তিতে বিয়ে, বিবাহবিচ্ছেদ ও উত্তরাধিকারসংক্রান্ত বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

যুক্তরাজ্যে মোট কতটি শরিয়াহ কাউন্সিল কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তা স্পষ্ট নয়। তবে জিবি নিউজের অনুসন্ধানে শুধু লন্ডনেই অন্তত পাঁচটি শরিয়াহ কাউন্সিলের কার্যক্রমের প্রমাণ পাওয়ার দাবি করা হয়েছে।

এর আগে গত বছর জাতিসংঘে ট্রাম্প লন্ডনে শরিয়াহ আইন চালু হওয়ার আশঙ্কার কথাও বলেছিলেন। সাদিক খান তখন ওই মন্তব্যকে ‘আপত্তিকর ও বিদ্বেষপূর্ণ’ বলে প্রত্যাখ্যান করেছিলেন।

এদিকে, লন্ডনের মেয়র হিসেবে সাদিক খানের কর্মকাণ্ড নিয়েও জনমত জরিপে অসন্তোষের চিত্র উঠে এসেছে। গত মাসে ইউগভের এক জরিপে ৫৬ শতাংশ লন্ডনবাসী বলেছেন, ২০২৮ সালের পরবর্তী মেয়র নির্বাচনে সাদিক খানের পরিবর্তে নতুন কোনো প্রার্থীকে লেবার পার্টির পক্ষ থেকে মনোনয়ন দেওয়া উচিত।

অপরাধ মোকাবিলায় মেয়রের ভূমিকা নিয়েও জরিপে নেতিবাচক মত পাওয়া যায়। ৫৭ শতাংশ উত্তরদাতা বলেছেন, অপরাধ মোকাবিলায় সাদিক খানের কার্যক্রম ভালো হয়নি। বিপরীতে ৩১ শতাংশেরও কম মানুষ তার কর্মকাণ্ডকে ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন।

তবে সাদিক খান এখনো ২০২৮ সালের মেয়র নির্বাচনে চতুর্থ মেয়াদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন কি না, তা আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেননি। চলতি বছরের শুরুতে তিনি সম্ভাব্য নির্বাচনী প্রচারণা নিয়ে প্রস্তুতির ইঙ্গিত দিয়েছিলেন।

সূত্রঃ জিবি নিউজ/ ইউ.গভ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যের সাফোকের ইসলামী সমাবেশে কথিত সন্ত্রাসী হুমকিঃ ১২ জন গ্রেপ্তার

নাইজাল ফারাজের টরি-রিফর্ম কোয়ালিশন প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান

নিউজ ডেস্ক

মানসিক ভারসাম্যহীন আলবেনিয়ানদের যুক্তরাজ্য হতে নির্বাসন দিয়েছে সরকার