TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ডে প্রাণহানির আশঙ্কাঃ স্ট্রাটফোর্ড ট্র্যাজেডির পর সাদিক খানকে কড়া সতর্কবার্তা

লন্ডন আন্ডারগ্রাউন্ড নেটওয়ার্কে আরও প্রাণহানির ঝুঁকি রয়েছে—এমন কঠোর সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে লন্ডনের মেয়র স্যার সাদিক খানকে। স্ট্রাটফোর্ড টিউব স্টেশনে ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে সংঘটিত এক মর্মান্তিক দুর্ঘটনার পর প্রকাশিত করোনারের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ না নিলে ভবিষ্যতে একই ধরনের প্রাণঘাতী ঘটনা ঘটতে পারে।

 

ওই ঘটনায় ৭২ বছর বয়সী পেনশনভোগী ব্রায়ান মিচেল চারটি টিউব ট্রেনে চাপা পড়ে নিহত হন। তদন্তে এটিকে দুর্ঘটনাজনিত মৃত্যু হিসেবে চিহ্নিত করা হলেও আদালতে উপস্থাপিত তথ্য অনুযায়ী, প্রথম সংঘর্ষটি সম্ভবত এড়ানো যেত। সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, তিনি জুবিলি লাইন ট্রেন থেকে নেমে বেঞ্চে বসেছিলেন, পরে উঠে দাঁড়িয়ে ভারসাম্য হারিয়ে প্ল্যাটফর্ম থেকে ট্র্যাকে পড়ে যান।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, মিচেল ট্র্যাক থেকে উঠে আসার চেষ্টা করেছিলেন। কিন্তু সেই সময় একটি আগত ট্রেন তাকে আঘাত করে এবং ঘটনাটি কারও নজরে না আসায় ট্রেনটি পেছনে সরে যাওয়ার সময়ও তার ওপর দিয়ে চলে যায়। পরবর্তী সময়ে আরও দুটি ট্রেন প্ল্যাটফর্মে ঢুকে বের হয়, প্রতিটিই দু’বার করে তার ওপর দিয়ে অতিক্রম করে। শেষ পর্যন্ত চতুর্থ ট্রেন আসার সময় একজন কর্মী থামানোর চেষ্টা করলেও তা সফল হয়নি।

পূর্ব লন্ডনের সিনিয়র করোনার গ্রেইম আরভিন বলেন, ট্রেন অপারেটরদের দায়িত্ব হলো সামনে থাকা ট্র্যাকের দিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখা এবং প্রয়োজনে স্বয়ংক্রিয় ট্রেন অপারেশন (ATO) ব্যবস্থা অগ্রাহ্য করে ব্রেক প্রয়োগ করা। কিন্তু এই ঘটনায় অন্তত তিনজন আলাদা ট্রেন অপারেটর ট্র্যাকে থাকা ব্যক্তিকে শনাক্ত করতে ব্যর্থ হন। আদালতে শোনা যায়, ট্র্যাকের বিন্যাস এমন ছিল যে সতর্ক থাকলে মিচেলের উপস্থিতি লক্ষ্য করা সম্ভব ছিল এবং সময়মতো ব্রেক কষলে বহু মিটার আগেই ট্রেন থামানো যেত।

করোনারের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, স্ট্রাটফোর্ড স্টেশনের প্ল্যাটফর্ম ১৩ একটি টার্মিনাস প্ল্যাটফর্ম হওয়ায় ট্রেন অপারেটরদের মনোযোগের মাত্রা কমে যেতে পারে, যা এই গাফিলতির একটি কারণ হতে পারে। তবে এ ধরনের ঝুঁকি কমাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে—এমন কোনো স্পষ্ট প্রমাণ তদন্তে পাওয়া যায়নি।

ঘটনার পর গত দুই বছরে ব্রিটিশ ট্রান্সপোর্ট পুলিশ, রেল অ্যাক্সিডেন্ট ইনভেস্টিগেশন ব্রাঞ্চ (RAIB) এবং ট্রান্সপোর্ট ফর লন্ডন (TfL) পৃথক তদন্ত চালালেও প্রাণঘাতী ঝুঁকি কমানোর মতো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে। বিশেষ করে ট্র্যাকে মানুষের উপস্থিতি শনাক্ত ও কর্মীদের তাৎক্ষণিক সতর্ক করার জন্য যে প্রযুক্তিগত ব্যবস্থা সুপারিশ করা হয়েছিল, তা এখনো স্ট্রাটফোর্ড স্টেশনে বাস্তবায়ন করা হয়নি।

এছাড়া স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থায় ট্রেন চালানোর সময় চালকদের মনোযোগ ও সতর্কতা বাড়াতে যে প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে, তা কার্যকর হয়েছে—এমন কোনো নির্ভরযোগ্য তথ্যও নেই। জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ও স্পষ্ট যোগাযোগ নিশ্চিত করতে স্টেশন কর্মীদের প্রশিক্ষণ সম্পর্কেও একই ধরনের ঘাটতির কথা উঠে এসেছে।

এদিকে টিএফএলের চিফ অপারেটিং অফিসার ক্লেয়ার ম্যান এক বিবৃতিতে বলেন, “স্ট্রাটফোর্ড টিউব স্টেশনে মর্মান্তিকভাবে নিহত ব্রায়ান মিচেলের পরিবার ও বন্ধুদের প্রতি আমরা গভীর সমবেদনা জানাই।” তবে করোনারের সতর্কবার্তার পরও বাস্তব পদক্ষেপ কত দ্রুত নেওয়া হবে—সেই প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

চাকরিতে যোগ দিলেই দুই হাজার পাউন্ড পর্যন্ত বোনাস!

অনলাইন ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে সংগীত উৎসবে গুলিতে কিশোর নিহতঃ হত্যাকারীর সন্ধানে £২০,০০০ পুরস্কার ঘোষণা

যুক্তরাজ্যের অভিবাসন তথ্যঘাটতি নীতি প্রণয়নকে বাধাগ্রস্ত করছেঃ অক্সফোর্ড গবেষণা