12.8 C
London
April 3, 2025
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লন্ডন শহর হতে মানুষদের সরিয়ে নিতে কাউন্সিল সমূহের ভিন্ন পরিকল্পনা

২০১৭ সালের পর থেকে ইংল্যান্ডের বিভিন্ন কাউন্সিল কর্তৃপক্ষ ইংল্যান্ডের বিভিন্ন শহরে ৮৫০টিরও বেশি সম্পত্তি কিনেছে।

লন্ডনের কাউন্সিল ও তাদের মালিকানাধীন হাউজিং কোম্পানিগুলো গৃহহীন মানুষদের শহরের বাইরে পুনর্বাসিত করতে £১৪০ মিলিয়নের বেশি ব্যয় করেছে।

এই বাড়িগুলো হয় সরাসরি কাউন্সিলের মালিকানায় থাকে, অথবা তারা আংশিক বা সম্পূর্ণভাবে মালিকানাধীন কোম্পানির মাধ্যমে পরিচালিত হয়। এগুলো গৃহহীন ব্যক্তি ও পরিবারগুলোর জন্য জরুরি অস্থায়ী আশ্রয় অথবা স্থায়ী ব্যক্তিগত ভাড়ার বাসস্থানের ব্যবস্থা হিসেবে ব্যবহার করে কাউন্সিল।

বেশিরভাগ বাড়ি দক্ষিণ-পূর্ব ও পূর্ব ইংল্যান্ডের দরিদ্র এলাকাগুলোতে অবস্থিত, যেখানে ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে গৃহহীনতার চরম চাপ রয়েছে। তবে গত এক বছরে, লন্ডনের কাউন্সিলগুলো আরও দূরে নজর দিয়েছে, মিডল্যান্ডসে কিছু সম্পত্তি কিনেছে এবং উত্তর-পূর্ব ইংল্যান্ডেও কেনার পরিকল্পনা করছে।

গৃহায়ন সংস্থাগুলো বলছে, পরিবারগুলোকে তাদের নিকটস্থ আত্মীয় ও নিজেদের সম্প্রদায় থেকে সরিয়ে নেওয়ার ফলে “অশান্তিতে” পড়ে যাচ্ছে। লেবার দলের এমপিরা সরকারকে এই “ক্ষতিকর” দূরবর্তী পুনর্বাসন নীতি পুনর্বিবেচনা করার আহ্বান জানিয়েছেন।

ওয়ালথাম ফরেস্ট এবং ব্রোমলি কাউন্সিল, হাউজিং ও সোশ্যাল কেয়ার কোম্পানি মিয়ার্স গ্রুপের সাথে যৌথভাবে কোম্পানি পরিচালনা করে। তারা ২০১৭ সাল থেকে এসেক্সের হারলো ও থাররক এবং কেন্টের মেইডস্টোন এলাকায় ৫০০টিরও বেশি বাড়ি কেনার জন্য প্রায় £৮০ মিলিয়ন ব্যয় করেছে। উভয় কাউন্সিল এসব সম্পত্তি তাদের গৃহহীনতা সংক্রান্ত দায়িত্ব পালনের জন্য ব্যবহার করছে এবং লন্ডনের বাইরে কাউন্সিলের এলাকার গৃহহীনদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করছে।

ব্রেন্ট কাউন্সিল £১৮ মিলিয়নের বেশি ব্যয় করে মিল্টন কেইন্স, হেমেল হেম্পস্টেড এবং স্লাউ এলাকায় ৭৫টি বাড়ি কিনেছে। বারনেট কাউন্সিল পিটারবোরো ও লুটনে প্রায় ৭০টি বাড়ির জন্য £১০ মিলিয়ন ব্যয় করেছে। ব্রেন্ট ও বারনেট কাউন্সিল তাদের মালিকানাধীন কোম্পানির মাধ্যমে ২০১৭ সালের পর এসব সম্পত্তি কিনেছে।

এনফিল্ড কাউন্সিলের মালিকানাধীন হাউজিং গেটওয়ে ২০১৮ সালে £১৩ মিলিয়ন ব্যয়ে হারলোর উপকণ্ঠে গ্রিনওয়ে হাউস নামের একটি পুরনো অফিস ভবন কিনেছিল, যেখানে ৮৩টি ফ্ল্যাট গৃহহীনদের জন্য অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে।

দ্য গার্ডিয়ানের আগের এক অনুসন্ধানে উঠে আসে, কাউন্সিলগুলো গৃহহীন মানুষদের মিডল্যান্ডস ও উত্তর ইংল্যান্ডে স্থায়ীভাবে সরিয়ে নিতে কোম্পানিগুলোর সহায়তায় মিলিয়ন পাউন্ড ব্যয় করেছে। তবে সাম্প্রতিক সম্পত্তি ক্রয়ের প্রবণতা দেখে মনে হচ্ছে, লন্ডনের কাউন্সিলগুলো এখন নিজেরাই এই প্রক্রিয়াটি পরিচালনা করতে শুরু করেছে।

গত ডিসেম্বর, এনফিল্ড কাউন্সিল ঘোষণা করেছিল যে, তারা লিভারপুলের আশপাশে ২৮টি বাড়ি কিনবে, যা অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা হবে এবং পরবর্তীতে গৃহহীন পরিবারগুলোর জন্য স্থায়ী আবাসন খুঁজে বের করার পরিকল্পনা রয়েছে।

রেডব্রিজ কাউন্সিল ২০২০ সাল থেকে লন্ডনের বাইরে ৫৫টি বাড়ি কিনতে £১০ মিলিয়নের বেশি ব্যয় করেছে। যার মধ্যে কয়েকটি কভেন্ট্রি ও লেস্টারে অবস্থিত। এগুলো বর্তমানে অস্থায়ী আবাসন হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে, তবে কাউন্সিল জানিয়েছে যে, ভবিষ্যতে এই বাড়িগুলোতে গৃহহীন পরিবারগুলোকে স্থায়ীভাবে পুনর্বাসন করা হবে।

সবচেয়ে জনপ্রিয় এলাকা হারলো, যেখানে ২০১৭ সালের পর থেকে লন্ডনের কাউন্সিলগুলো ১৬৪টি সম্পত্তি কিনেছে।

অনেক বাড়িই এমন এলাকায় কেনা হয়েছে, যেখানে স্থানীয়ভাবে শত শত পরিবার ইতিমধ্যেই গৃহহীন। উদাহরণস্বরূপ, বাসিলডনে লন্ডনের কাউন্সিলগুলোর মালিকানাধীন ৮৪টি বাড়ি রয়েছে, যেখানে প্রায় ৭০০ পরিবার জরুরি আশ্রয়ে বসবাস করছে।

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, নিজের এলাকার বাইরে অস্থায়ী আবাসনে বসবাসকারী পরিবারের সংখ্যা সর্বকালের সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে, গত ১২ মাসে এই সংখ্যা ৩৯% বৃদ্ধি পেয়েছে।

পার্লামেন্টের হাউজিং, কমিউনিটি এবং স্থানীয় সরকার বিষয়ক কমিটির চেয়ারপারসন লেবার এমপি ফ্লোরেন্স এশালোমি, বলেছেন,

” আমাদের সবচেয়ে দুর্বল পরিবারগুলোর জন্য চরম ক্ষতিকর, যারা প্রয়োজনীয় সহায়তা থেকে বঞ্চিত হয় এবং শিশুরা স্কুলে যেতে কয়েক ঘণ্টা পথ পাড়ি দিতে বাধ্য হয়। এটি একদিকে আবাসন সংকটের ফল, অন্যদিকে স্থানীয় কাউন্সিলগুলোর তহবিল সংকটের প্রতিফলন।”

গিলিংহাম ও রেইনহামের এমপি নৌশাবাহ খান বলেন:

“দূরবর্তী পুনর্বাসন নীতির নেতিবাচক প্রভাব হচ্ছে, এটি একটি ধ্বংসপ্রাপ্ত আবাসন বাজারের চিহ্ন, যা ১৪ বছর ধরে রক্ষণশীল সরকারের অবহেলার শিকার হয়েছে।”

গৃহায়ন দাতব্য সংস্থা শেল্টারের প্রধান নির্বাহী পলি নেইট বলেন:

“গৃহহীন হওয়া একটি ট্রমার মতো, আর তার ওপর পরিবারগুলোকে রাতারাতি দূরে সরিয়ে নেওয়া তাদের জীবন আরও বিপর্যস্ত করে তোলে। কাউন্সিলগুলোর উচিত স্থানীয় এলাকায় তাদের জন্য আশ্রয় নিশ্চিত করা, কিন্তু ভয়াবহ আবাসন সংকট, অতিরিক্ত বাড়ি ভাড়া এবং গৃহহীনতার রেকর্ড বৃদ্ধি এটি কঠিন করে তুলেছে।”

তিনি আরও বলেন:

“এই অস্থায়ী সমাধানে অর্থ ব্যয় না করে, আমাদের সেই জায়গায় নতুন সামাজিক বাসস্থান নির্মাণ করতে হবে, যেখানে এর সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন।”

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে
০৮ মার্চ ২০২৫

আরো পড়ুন

ঋষি সুনাকের উপর চাপ বাড়ছে, ইংল্যান্ডে ফের ধর্মঘটে চিকিৎসকরা

ইরানের ৪০ কোটি পাউন্ড পাওনা ফেরত দিতে চায় ব্রিটেন

নগদ অর্থ দিয়ে আলবেনিয়ানদের দেশে ফেরত পাঠাচ্ছে যুক্তরাজ্য