ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু জানিয়েছেন, লেবাননে সামরিক অভিযান অব্যাহত থাকবে এবং “যেখানেই প্রয়োজন” সেখানে হামলা চালানো হবে।
এক বিবৃতিতে তিনি নিশ্চিত করেন, লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় হিজবুল্লাহ নেতা নাঈম কাসেমের ঘনিষ্ঠ সহযোগী ও ভাতিজা আলি ইউসুফ হারশি নিহত হয়েছেন। তাকে সংগঠনের নেতার অন্যতম ঘনিষ্ঠ ব্যক্তি হিসেবে উল্লেখ করা হয়।
নেতানিয়াহু বলেন, এই হামলা হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে চলমান অভিযানের অংশ এবং ভবিষ্যতেও এ ধরনের আঘাত অব্যাহত থাকবে। তিনি আরও দাবি করেন, লেবানন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান-এর মধ্যকার যুদ্ধবিরতির অন্তর্ভুক্ত নয়। তবে এই বিষয়ে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর মধ্যে ভিন্নমত দেখা গেছে।
এদিকে লেবাননের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, ইসরায়েলি হামলায় তাদের চারজন সেনা নিহত হয়েছেন। দেশটির কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক হামলাগুলোতে ২০০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত এবং প্রায় ১,১০০ জন আহত হয়েছেন।
এই পরিস্থিতিতে আন্তর্জাতিক মহলে উদ্বেগ বাড়ছে। যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইভেট কুপার-সহ বিভিন্ন দেশের নেতারা লেবাননকে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন।
অন্যদিকে, পাকিস্তানে ইরানি প্রতিনিধি দল আগমনের ঘোষণাকে ঘিরে বিভ্রান্তি তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানে ইরানের রাষ্ট্রদূত রেজা আমিরি মোগাদ্দাম আগে এক বার্তায় প্রতিনিধি দল আসার কথা জানালেও পরে তা মুছে ফেলেন।
ইসলামাবাদে ইরানি দূতাবাস জানায়, এটি ছিল “সময়ের ভুল” এবং বার্তাটি আগেভাগেই প্রকাশ করা হয়েছিল। প্রতিনিধি দল আসবে কি না, তা এখনো নিশ্চিত নয়।
এদিকে ইরানের পরমাণু শক্তি সংস্থার প্রধান মোহাম্মদ ইসলামী জানিয়েছেন, তাদের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি বন্ধ করা হবে না।
তিনি বলেন, কোনো চাপের মুখেই এই কর্মসূচি সীমিত করা সম্ভব নয়। এই বক্তব্য যুক্তরাষ্ট্রের দাবির বিপরীত, যেখানে বলা হয়েছিল যুদ্ধবিরতির অংশ হিসেবে ইরানে সমৃদ্ধকরণ বন্ধ থাকবে।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি প্রধান কাজা কাল্লাস লেবাননেও যুদ্ধবিরতি সম্প্রসারণের আহ্বান জানিয়েছেন।
তিনি বলেন, হিজবুল্লাহ লেবাননকে সংঘাতে জড়িয়ে ফেললেও ইসরায়েলের সামরিক প্রতিক্রিয়া অতিরিক্ত ধ্বংসযজ্ঞ সৃষ্টি করছে, যা আত্মরক্ষার সীমা অতিক্রম করছে।
তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতি যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধবিরতিকে ঝুঁকির মুখে ফেলছে এবং এই যুদ্ধবিরতি লেবাননেও কার্যকর করা জরুরি। পাশাপাশি তিনি হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র হওয়ার আহ্বান জানিয়ে লেবাননের প্রচেষ্টার প্রতি সমর্থন জানান।
সামগ্রিকভাবে, মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা কমার পরিবর্তে নতুন করে বিস্তার লাভ করছে, যেখানে লেবাননকে ঘিরে সংঘাত আন্তর্জাতিক কূটনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

