14.2 C
London
March 23, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লেবার দলে তীব্র দ্বন্দ্বঃ অভিবাসন নীতি নিয়ে স্টারমারকে আল্টিমেটাম, পদত্যাগের হুমকিতে শাবানা মাহমুদ

যুক্তরাজ্যের ক্ষমতাসীন লেবার দলে অভিবাসন নীতি নিয়ে তীব্র অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব তৈরি হয়েছে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ কঠোর অভিবাসন সংস্কার বাস্তবায়নে দৃঢ় অবস্থান নিয়েছেন এবং তা আটকে দেওয়া হলে পদত্যাগের হুমকি দিয়েছেন বলে জানা গেছে। এতে প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের নেতৃত্বাধীন সরকার নতুন করে চাপে পড়েছে।

সরকারের কেন্দ্রীয় কার্যালয় নাম্বার টেন থেকে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, প্রস্তাবিত এই নীতিতে কিছু পরিবর্তন আনা হতে পারে। তবে দলীয় ভেতরে বিরোধ ক্রমেই বাড়ছে। বিশেষ করে লেবার দলের প্রভাবশালী নেতা অ্যাঞ্জেলা রেইনারের নেতৃত্বে একাংশ এই পরিকল্পনার কড়া সমালোচনা করছেন।

প্রস্তাবিত সংস্কারের মূল বিষয় হলো—অভিবাসীদের স্থায়ী বসবাসের অনুমতি পাওয়ার সময়সীমা বর্তমান পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে দশ বছর করা। এই নিয়ম শুধু নতুন আবেদনকারীদের জন্য নয়, বরং যারা ইতোমধ্যে যুক্তরাজ্যে অবস্থান করছেন তাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করার পরিকল্পনা রয়েছে। ফলে অনেক অভিবাসীকে প্রত্যাশার চেয়ে অতিরিক্ত পাঁচ বছর অপেক্ষা করতে হতে পারে।

এই প্রস্তাবকে কেন্দ্র করে লেবার দলের অনেক সংসদ সদস্য একে “নিয়ম বদলে দেওয়া” হিসেবে উল্লেখ করেছেন। গত সপ্তাহে এক বক্তব্যে অ্যাঞ্জেলা রেইনার এই পদক্ষেপকে “বিশ্বাসভঙ্গ” বলে আখ্যা দেন এবং এর বিরোধিতা করেন।

অন্যদিকে, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী শাবানা মাহমুদ মনে করেন, এই নীতি বাস্তবায়ন না করলে দেশের কল্যাণ ও আবাসন ব্যবস্থা ভয়াবহ চাপে পড়বে। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, ২০৩০ সালের মধ্যে প্রায় ১৬ লাখ মানুষ স্থায়ী বসবাসের যোগ্য হয়ে উঠতে পারেন, যা ইতোমধ্যেই চাপে থাকা সরকারি সেবাগুলোকে আরও সংকটে ফেলতে পারে।

শাবানা মাহমুদ সম্প্রতি এক বক্তব্যে বলেন, ২০২২ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আসা বিপুলসংখ্যক নিম্নদক্ষ কর্মী ও তাদের পরিবারের সদস্যদের কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের চাপ তৈরি হতে পারে। তাই নতুন নিয়ম বর্তমান অবস্থানরতদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য করা প্রয়োজন।
তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পদক্ষেপ না নিলে সরকারি অর্থনীতিতে প্রায় ১০ বিলিয়ন পাউন্ডের চাপ সৃষ্টি হবে এবং আবাসন ও স্বাস্থ্যসেবার মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলো আরও বিপদের মুখে পড়বে।

তবে সরকার এখন কিছু ‘অন্তর্বর্তী ব্যবস্থা’ বিবেচনা করছে, যাতে ইতোমধ্যে থাকা অভিবাসীদের ওপর প্রভাব কিছুটা কমানো যায়। সরকার জানিয়েছে, এই নীতিমালা এখনো পরামর্শ প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে এবং চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে বিভিন্ন পক্ষের মতামত নেওয়া হবে।

সব মিলিয়ে, অভিবাসন নীতিকে ঘিরে লেবার দলে যে বিভক্তি তৈরি হয়েছে, তা ভবিষ্যতে সরকারের স্থিতিশীলতার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়াতে পারে বলে বিশ্লেষকরা মনে করছেন।

সূত্রঃ দ্য এক্সপ্রেস

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনে ১৫ লাখ মানুষ প্রতিমাসে ৭৩৭ পাউন্ড সহায়তা পাচ্ছেন

যুক্তরাজ্যে দুই সন্তানের বেনিফিট সীমা প্রত্যাহারঃ বড় পদক্ষেপ চ্যান্সেলর রিভসের

গরমে লন্ডন জুড়ে যত্রতত্র অগ্নিকাণ্ড

অনলাইন ডেস্ক