22.5 C
London
June 22, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

লেবার নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের আভাসঃ বার্নহামকে ঘিরে বাড়ছে প্রধানমন্ত্রী হওয়ার জল্পনা

যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগ ঘোষণার পর দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন নেতৃত্ব নিয়ে জোরালো আলোচনা শুরু হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে মেকারফিল্ড আসনের সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন অ্যান্ডি বার্নহাম। শপথ গ্রহণের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি প্রকাশ্যে ঘোষণা দেন যে, স্টারমারের স্থলাভিষিক্ত হয়ে যুক্তরাজ্যের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হওয়ার লক্ষ্যে তিনি লেবার পার্টির নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

বার্নহামের এ ঘোষণার পরপরই দলীয় রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ তৈরি হয়েছে। সাবেক স্বাস্থ্য সচিব ওয়েস স্ট্রিটিং তার প্রতি সমর্থন জানিয়েছেন। উল্লেখযোগ্যভাবে, স্ট্রিটিং নিজেও আগে সম্ভাব্য নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার আগ্রহ প্রকাশ করেছিলেন। তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে তিনি বার্নহামের পক্ষে অবস্থান নেওয়ায় দলীয় ঐক্যের একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

ওয়েস্টমিনস্টারে শপথ গ্রহণের পর প্রায় দুই শতাধিক লেবার সংসদ সদস্যের সঙ্গে ছবি তুলতে গেলে বার্নহামকে উচ্ছ্বসিত করতালি ও অভিনন্দনের মাধ্যমে স্বাগত জানানো হয়। উপস্থিত সংসদ সদস্যদের প্রতিক্রিয়া থেকে স্পষ্ট হয়েছে যে, দলটির একটি বড় অংশ তাকে ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে দেখছে।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, কিয়ার স্টারমারের পদত্যাগের পর যে নেতৃত্ব সংকট তৈরি হওয়ার আশঙ্কা ছিল, বার্নহামের প্রতি দ্রুত বাড়তে থাকা সমর্থন সেই অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমিয়ে দিয়েছে। ওয়েস্টমিনস্টারের রাজনৈতিক মহলে এখন ব্যাপকভাবে আলোচনা হচ্ছে যে, তিনি আগামী কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই ১০ নম্বর ডাউনিং স্ট্রিটে প্রবেশ করতে পারেন।

এদিকে পদত্যাগ ঘোষণার সময় আবেগঘন বক্তব্যে কিয়ার স্টারমার তার স্ত্রী ও পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, দীর্ঘ রাজনৈতিক দায়িত্ব পালনের পর এখন তিনি তার সন্তানদের জন্য আরও বেশি সময় দিতে চান। তবে নতুন নেতা নির্বাচিত না হওয়া পর্যন্ত তিনি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও জানিয়েছেন।

স্টারমারের ভাষ্য অনুযায়ী, সেপ্টেম্বর মাসে পার্লামেন্ট পুনরায় অধিবেশনে বসার আগেই নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া শেষ হতে পারে। তবে যদি দল দ্রুত কোনো একক প্রার্থীর পক্ষে ঐকমত্যে পৌঁছে যায়, তাহলে আরও আগেই নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্পন্ন হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

অন্যদিকে, সাবেক সশস্ত্র বাহিনী বিষয়ক মন্ত্রী আল কার্নস ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের জন্য নতুন দৃষ্টিভঙ্গির আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি তরুণদের জন্য কর্মসংস্থান, শিক্ষা ও প্রশিক্ষণের নিশ্চয়তা, শিক্ষাঋণকে আবাসন খাতে বিনিয়োগে রূপান্তর এবং ২৫ বছরের কম বয়সীদের জন্য বিনামূল্যে গণপরিবহন সুবিধাসহ একাধিক নীতিগত প্রস্তাব তুলে ধরেছেন। যদিও তিনি এখনও নেতৃত্ব নির্বাচনে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দেননি।

স্টারমারের পদত্যাগ আন্তর্জাতিক অঙ্গনেও আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ইউক্রেন, কানাডা, ফ্রান্স ও আয়ারল্যান্ডের শীর্ষ নেতারা তার নেতৃত্ব ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতামূলক ভূমিকার প্রশংসা করেছেন। বিশেষ করে ইউক্রেনের প্রতি সমর্থন, ইউরোপীয় মিত্রদের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার এবং আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা ইস্যুতে তার অবস্থানকে বিশ্বনেতারা ইতিবাচকভাবে মূল্যায়ন করেছেন।

সব মিলিয়ে, কিয়ার স্টারমারের বিদায়ের মধ্য দিয়ে ব্রিটিশ রাজনীতিতে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হতে যাচ্ছে। বর্তমান পরিস্থিতিতে অ্যান্ডি বার্নহামই লেবার পার্টির নেতৃত্ব এবং যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রিত্বের সবচেয়ে শক্তিশালী দাবিদার হিসেবে আবির্ভূত হয়েছেন। এখন দলীয় নেতৃত্ব নির্বাচন এবং নতুন সরকারের রূপরেখার দিকে তাকিয়ে রয়েছে পুরো ব্রিটেন।

সূত্রঃ বিবিসি

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশ প্রসঙ্গে মন্তব্য ঘিরে সমালোচনার পর ‘গভীর উদ্বেগে’ লেবার নেতা স্টার্মার

ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে সাময়িক অগ্রগতি

অনলাইন ডেস্ক

গ্যাস মজুত মাত্র দেড় দিনঃ মধ্যপ্রাচ্য সংকটে যুক্তরাজ্যে জ্বালানি আতঙ্ক