TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

শিশুদের হাতকড়া পরিয়ে বহিষ্কার করা হতে পারে—যুক্তরাজ্যের নতুন নীতিতে উদ্বেগ

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদন প্রত্যাখ্যান হওয়া প্রায় ১৫০টি পরিবারকে মাত্র সাত দিনের মধ্যে স্বেচ্ছায় দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিতে বলেছে দেশটির স্বরাষ্ট্র দপ্তর। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সিদ্ধান্ত না নিলে তাদের জোরপূর্বক বহিষ্কারের মুখে পড়তে হতে পারে বলে সতর্ক করা হয়েছে। এই নির্দেশনার পর পরিবারগুলো আরও সময় দেওয়ার জন্য সরকারের কাছে আবেদন জানিয়েছে।

 

সরকারি তথ্য অনুযায়ী, এই উদ্যোগটি একটি পরীক্ষামূলক কর্মসূচির অংশ হিসেবে চালু করেছে যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর হোম অফিস। কর্মসূচির আওতায় আশ্রয় আবেদন বাতিল হওয়া পরিবারগুলোকে দ্রুত নিজ দেশে ফিরে যাওয়ার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। এতে প্রণোদনা হিসেবে প্রতি পরিবারের সদস্যকে সর্বোচ্চ ১০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত এবং একটি পরিবারের জন্য মোট সর্বোচ্চ ৪০ হাজার পাউন্ড পর্যন্ত আর্থিক সহায়তার প্রস্তাব রাখা হয়েছে।

তবে যেসব পরিবারকে এই প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে তারা বলছে, মাত্র সাত দিনের মধ্যে এমন গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত কঠিন। কারণ এই সিদ্ধান্তের ফলে তাদের সন্তানদের স্কুল, বন্ধু এবং দীর্ঘদিন ধরে গড়ে ওঠা সামাজিক পরিবেশ ছেড়ে যেতে হবে। অনেক পরিবারই বলছে, তাদের সন্তানরা বর্তমানে যুক্তরাজ্যের শিক্ষাব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষার প্রস্তুতি নিচ্ছে।

জিসিএসই (জি সি এস ই) পরীক্ষার প্রস্তুতি নেওয়া এক কিশোরীর বাবা জানান, এই নির্দেশনা পাওয়ার পর তার পরিবার গভীর মানসিক চাপে রয়েছে। তার ভাষায়, কয়েক বছর ধরে যুক্তরাজ্যই তাদের বাড়ি হয়ে উঠেছিল। এখন হঠাৎ করে সবকিছু ছেড়ে চলে যেতে হবে—এই চিন্তায় তার স্ত্রী ভেঙে পড়েছেন এবং মেয়ের শিক্ষাজীবনও অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।

আরেকজন অভিভাবক জানান, তিনি ও তার ছেলে দুজনেই বিষণ্নতা ও উদ্বেগজনিত সমস্যার চিকিৎসা নিচ্ছেন। তাদের দাবি, নিজ দেশে ফিরে গেলে নিরাপত্তা নিয়ে গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হতে পারে। তাই কী সিদ্ধান্ত নেওয়া উচিত তা ভাবার জন্য তারা সরকারের কাছে আরও সময় চেয়েছেন।

পরিবারগুলোর অভিযোগ, স্বরাষ্ট্র দপ্তরের পাঠানো বার্তায় দ্রুত সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। কেউ কেউ দাবি করেছেন, তাদের জানানো হয়েছে যে স্বেচ্ছায় না ফিরলে সরকার জোরপূর্বক বহিষ্কারের ব্যবস্থা নেবে এবং প্রয়োজনে শারীরিক শক্তি ব্যবহার করা হতে পারে।

নতুন নীতিমালার আলোচনাপত্রে বলা হয়েছে, প্রয়োজনে শিশুদের ক্ষেত্রেও বলপ্রয়োগ করা যেতে পারে। আগে যেখানে বলপ্রয়োগ কেবল শিশুদের নিজেদের বা অন্যদের ক্ষতি থেকে রক্ষার জন্য ব্যবহৃত হতো, সেখানে এখন দেশ থেকে সরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়াতেও তা ব্যবহার করা সম্ভব হবে।

তবে সরকারি তথ্য অনুযায়ী, গত বছর যুক্তরাজ্যে পরিবারভিত্তিক বহিষ্কারের বেশিরভাগই স্বেচ্ছায় হয়েছে। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ২০২৩ সালে মোট ১ হাজার ১৫৯টি পরিবার স্বেচ্ছায় দেশ ছেড়েছে, যেখানে মাত্র ১৭টি পরিবারকে জোরপূর্বক বহিষ্কার করা হয়েছে।

এদিকে পরীক্ষামূলক এই কর্মসূচি শেষ হওয়ার আগে এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি নয় যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তর। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, কর্মসূচির ফলাফল মূল্যায়নের পর ভবিষ্যতে এ ধরনের নীতিমালার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

অন্যদিকে প্রভাবিত পরিবারগুলো এখনো যুক্তরাজ্যে থাকার কোনো আইনি পথ খুঁজে পাওয়ার আশা করছে। তাদের মতে, যদি শেষ পর্যন্ত দেশ ছাড়তেই হয়, তবে তারা এই দেশে কাটানো সময় এবং এখানকার মানুষের সহানুভূতির স্মৃতি নিয়েই ফিরে যাবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

গর্ভপাত আর অপরাধ নয়ঃ ব্রিটিশ পার্লামেন্টে নারীর অধিকার রক্ষায় ঐতিহাসিক জয়

যুক্তরাজ্যে তরমুজের ছবি ঘিরে শাস্তির হুমকি, এনএইচএসের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি নার্সের বৈষম্যের মামলা

ক্রিপ্টোকারেন্সি জালিয়াতি, লন্ডনে একজন হারালেন প্রায় ৩ কোটি টাকা