21.5 C
London
June 28, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

শেখ হাসিনা বন্দনার পুরোনো পোস্ট ঘিরে নতুন বিতর্কঃ সিলেটের সাবেক ডিসিকে নিয়ে নানামুখী প্রশ্ন

সিলেটে হযরত শাহজালাল (রহ.)-এর মাজারের দানের ডেগ সিলগালা এবং পরবর্তীতে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সারওয়ার আলমকে প্রত্যাহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে নতুন করে শুরু হয়েছে রাজনৈতিক ও সামাজিক বিতর্ক। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, টকশো এবং বিভিন্ন মহলে তার প্রশাসনিক পদক্ষেপের উদ্দেশ্য, স্বচ্ছতা উদ্যোগ এবং রাজনৈতিক অবস্থান নিয়ে নানা প্রশ্ন ও আলোচনা চলছে।

মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার অংশ হিসেবে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে তিনটি ডেগ ও একটি দানবাক্স সিলগালা করা হয়। তবে এ পদক্ষেপকে ঘিরে শুরু থেকেই বিভক্ত প্রতিক্রিয়া দেখা দেয়। একপক্ষ এটিকে স্বচ্ছতা প্রতিষ্ঠার উদ্যোগ হিসেবে দেখলেও অন্যপক্ষ অভিযোগ করছে, ৭০০ বছরের ঐতিহ্যবাহী একটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের ব্যবস্থাপনায় তাড়াহুড়ো করে প্রশাসনিক হস্তক্ষেপ করা হয়েছে।

সমালোচকদের দাবি, মাজারে দানের অর্থ গণনা এবং জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পাঁচ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘটনাও প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। সংক্ষুব্ধ নাগরিক আন্দোলনের সিলেটের সমন্বয়ক আব্দুল করিম চৌধুরী অভিযোগ করেন, স্বচ্ছতার কথা বললেও এ পদক্ষেপ ছিল রাজনৈতিক প্রদর্শনের অংশ। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে সারওয়ার আলমের কোনো প্রকাশ্য বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

এদিকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সারওয়ার আলমের অতীতের কয়েকটি ফেসবুক পোস্টও নতুন করে আলোচনায় এসেছে। বিভিন্ন পোস্টে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান সম্পর্কে তার প্রশংসাসূচক মন্তব্য উদ্ধৃত করে সমালোচকরা তার রাজনৈতিক নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন। আবার সাম্প্রতিক সময়ে বর্তমান সরকারের প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে দেওয়া শুভেচ্ছাবার্তাও আলোচনায় এসেছে। তবে এসব পোস্ট তার ব্যক্তিগত মতামত নাকি প্রশাসনিক দায়িত্বের বাইরে ব্যক্তিগত প্রকাশ—সে বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

অন্যদিকে সমালোচকরা আরও অভিযোগ করছেন, মাজারের হিসাব-নিকাশে স্বচ্ছতার উদ্যোগ নেওয়া হলেও জেলা প্রশাসনের এলআর ফান্ড, বিভিন্ন তহবিলের অর্থ ব্যবস্থাপনা এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের আরোপিত জরিমানার বিষয়েও একই ধরনের স্বচ্ছতা নিশ্চিত হওয়া উচিত। তবে এসব বিষয়ে জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিস্তারিত কোনো ব্যাখ্যা প্রকাশ করা হয়নি।

মাজার ইস্যুতে সরকারের অবস্থানও তুলনামূলক সংযত। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থানমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী সাংবাদিকদের বলেন, মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা আনার উদ্যোগে কিছুটা তাড়াহুড়ো হয়েছে এবং বিষয়টি জনপ্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে করা উচিত ছিল। তিনি উল্লেখ করেন, এটি দীর্ঘদিনের একটি ঐতিহ্য এবং পরিবর্তন আনতে হলে সংশ্লিষ্ট সবার সঙ্গে আলোচনা প্রয়োজন।

পরবর্তীতে সরকারের উদ্যোগে মাজারের আর্থিক ব্যবস্থাপনা পর্যালোচনার জন্য ১২ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। কমিটিকে এক মাসের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য ও যৌক্তিক ব্যবস্থাপনা পদ্ধতির সুপারিশ দিতে বলা হয়েছে।

ডেগ সিলগালা ও ডিসি প্রত্যাহারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে সিলেটে দুই ধরনের প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। একদিকে সারওয়ার আলমের পুনর্বহালের দাবিতে মানববন্ধন, বিক্ষোভ ও সড়ক অবরোধ হয়েছে; অন্যদিকে মাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, গবেষক, লেখক ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অনেক ব্যবহারকারী প্রশাসনের পদক্ষেপের সমালোচনা করেছেন। কবি, সাংবাদিক, লেখক ও বিশ্লেষকদের কেউ কেউ মন্তব্য করেছেন, ঘটনাটি মাজারকেন্দ্রিক নতুন রাজনৈতিক ও সামাজিক বিভাজন তৈরি করেছে।

তবে সারওয়ার আলম বা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষ এসব অভিযোগের অধিকাংশ বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। ফলে তার বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগগুলোর স্বাধীন ও নিরপেক্ষ যাচাই এখনো বাকি রয়েছে।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

গোয়েন্দা প্রতিবেদনে তারেক রহমানের ফ্লাইট থেকে বাদ দুই কেবিন ক্রু

বন্যার্তদের জন্য ১১ লক্ষাধিক টাকা দিলেন রোহিঙ্গা শরণার্থীরা

দলিলাদি যার ভুমি তার –আসছে নতুন ভুমি আইন