19.3 C
London
June 14, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

সন্ত্রাসবিরোধী আইনে হিথ্রো বিমানবন্দরে আটক টমি রবিনসনঃ জব্দ করা হলো মোবাইল ফোন

যুক্তরাজ্যের আলোচিত কট্টর ডানপন্থী কর্মী টমি রবিনসনকে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় লন্ডনের হিথ্রো বিমানবন্দরে আটক করেছে পুলিশ। শনিবারের এই ঘটনায় দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে বিতর্কের সৃষ্টি হয়েছে।

স্টিফেন ইয়াক্সলি-লেনন নামেও পরিচিত টমি রবিনসনকে যুক্তরাজ্যের কাউন্টার-টেররিজম অ্যান্ড বর্ডার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৯-এর ধারা ৩-এর আওতায় আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এ সময় তার ব্যবহৃত আইফোন ও স্যামসাং গ্যালাক্সি মোবাইল ফোন জব্দ করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

তবে পুলিশি এই পদক্ষেপের সঙ্গে নির্দিষ্ট কোনো তদন্ত বা ঘটনার সম্পর্ক রয়েছে কি না, সে বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছু জানায়নি লন্ডনের মেট্রোপলিটন পুলিশ। পুলিশের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে মন্তব্য করতেও অস্বীকৃতি জানানো হয়েছে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একাধিক পোস্টে রবিনসন দাবি করেন, তাকে প্রায় তিন ঘণ্টা ধরে আটক রাখা হয়েছিল এবং তার ব্যক্তিগত ডিভাইসগুলো জব্দ করা হয়েছে। একই সঙ্গে তিনি তার সমর্থকদের কাছে আইনি লড়াইয়ের ব্যয় নির্বাহের জন্য অর্থ সহায়তার আহ্বান জানান।

রবিনসনের এক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া বিবৃতিতে বলেন, “তারা সম্ভবত জানতে চায় তিনি কার সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন এবং তার তথ্যসূত্র কারা। এটি বাকস্বাধীনতা ও অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ওপর আঘাত ছাড়া আর কিছু নয়।”

অন্যদিকে, সমালোচকরা বলছেন, জাতীয় নিরাপত্তা ও জননিরাপত্তার স্বার্থে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী তাদের আইনি ক্ষমতা প্রয়োগ করেছে। তবে সুনির্দিষ্ট তথ্য প্রকাশ না হওয়ায় এ নিয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা তৈরি হয়েছে।

কাউন্টার-টেররিজম অ্যান্ড বর্ডার সিকিউরিটি অ্যাক্ট ২০১৯ অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যের সীমান্ত, বিমানবন্দর ও সমুদ্রবন্দরে দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তারা শত্রুতামূলক কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, প্রস্তুতি বা বাস্তবায়নের সন্দেহে কোনো ব্যক্তিকে থামিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ, তল্লাশি এবং প্রয়োজনবোধে আটক করতে পারেন।

৪৩ বছর বয়সী রবিনসন সাম্প্রতিক সময়ে যুক্তরাজ্যে বর্ণগত উত্তেজনা ও অভিবাসনবিরোধী বক্তব্যের কারণে আবারও ব্যাপক আলোচনায় উঠে আসেন। সাউদাম্পটনে পুলিশ হেফাজতে ১৮ বছর বয়সী হেনরি নওয়াকের মৃত্যুর ঘটনায় প্রকাশিত পুলিশ বডি-ক্যামেরার ফুটেজ নিয়ে তিনি সরব ভূমিকা পালন করেন।

এ ঘটনার জেরে সাউদাম্পটনে অনুষ্ঠিত বিক্ষোভে তার সমর্থকদের অংশগ্রহণ ব্যাপক আলোচনার জন্ম দেয়। বিক্ষোভ চলাকালে দাঙ্গাকারীদের সঙ্গে পুলিশের সংঘর্ষে ১৩ জন পুলিশ সদস্য এবং একটি পুলিশ কুকুর আহত হওয়ার খবর পাওয়া যায়।

এছাড়া উত্তর আয়ারল্যান্ডের বেলফাস্টে সংঘটিত একটি ছুরিকাঘাতের ঘটনার ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচার করেন রবিনসন। সন্দেহভাজন হামলাকারী একজন সুদানি আশ্রয়প্রার্থী বলে দাবি করা হয়। পরবর্তীতে তিনি যুক্তরাজ্য ও উত্তর আয়ারল্যান্ডজুড়ে পরিকল্পিত বিভিন্ন বিক্ষোভের তথ্যও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করেন, যা আরও বেশি জনদৃষ্টি আকর্ষণ করে।

উল্লেখ্য, এটি প্রথমবার নয় যে সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় রবিনসনকে জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হতে হয়েছে। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে স্পেনে যাওয়ার পথে ফোকস্টোনে চ্যানেল টানেলের কাছে তাকে আটক করা হয়েছিল। সে সময় পুলিশ তার মোবাইল ফোনের পিন নম্বর জানতে চাইলে তিনি তা দিতে অস্বীকৃতি জানান। তার দাবি ছিল, ডিভাইসটিতে গোপন সাংবাদিকতাসংক্রান্ত তথ্য সংরক্ষিত রয়েছে।

পরবর্তীতে ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় জেলা আদালতের এক বিচারক মন্তব্য করেন যে, সংশ্লিষ্ট পুলিশি তল্লাশি আইনসম্মত ছিল কি না, সে বিষয়ে তিনি নিশ্চিত হতে পারেননি। এর ফলে সন্ত্রাসবাদ-সংক্রান্ত অভিযোগ থেকে অব্যাহতি পান রবিনসন।

সাম্প্রতিক এই আটকাদেশ যুক্তরাজ্যে জাতীয় নিরাপত্তা, নাগরিক স্বাধীনতা এবং বাকস্বাধীনতার সীমারেখা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিষয়টি নিয়ে রাজনৈতিক মহল, মানবাধিকারকর্মী এবং রবিনসনের সমর্থক-সমালোচকদের মধ্যে তীব্র আলোচনা চলছে।

এদিকে, হিথ্রো বিমানবন্দরের সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে পুলিশি তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে ধারণা করা হলেও কর্তৃপক্ষ আনুষ্ঠানিকভাবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু প্রকাশ করেনি। ফলে টমি রবিনসনকে কেন আটক করা হয়েছিল এবং জব্দ করা তথ্য-উপাত্তের মাধ্যমে কী অনুসন্ধান চালানো হচ্ছে, তা নিয়ে এখনও ধোঁয়াশা রয়ে গেছে।

সূত্রঃ আইরিশ টাইমস

এম.কে

আরো পড়ুন

ঋণ ও করের চাপে যুক্তরাজ্যে অর্ধলাখ ব্যবসায় ধস

ফ্লিক্সবাসের নতুন রুটঃ মাত্র £৪.৪৯ টিকিটে লন্ডন থেকে ব্রাইটনে সরাসরি ভ্রমণ

তরুন প্রজম্মের কাছে জনপ্রিয়তা হারাচ্ছে ব্রিটিশ রাজপরিবার