6.4 C
London
January 27, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

সিরিয়ায় আশ্রয় শিবিরে শামীমা বেগমের মুক্তির অপেক্ষাঃ আইএস বধূরা ব্যাগ প্যাকে ব্যস্ত

উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় আশ্রয় শিবির রোজে শামীমা বেগমকে দেখা গিয়েছে। সেখানে প্রাক্তন এই ব্রিটিশ স্কুলছাত্রী আইএসের মহিলা বন্দীদের সঙ্গে আছেন। শিবিরের প্রবেশদ্বারে আবর্জনাপূর্ণ ছোট বাজারে তিনি গ্রোসারি কেনাকাটা করছিলেন। হুডি ও মাস্ক পরা অবস্থায় তাকে বাজারে ঘুরতে দেখা যায়। যখন দ্য টেলিগ্রাফের সাংবাদিকরা তার কাছে যান, ব্রিটিশ উচ্চারণ শুনে দ্রুত তিনি শহরের গভীরে মিলিয়ে যান।

 

শামীমা বেগম, যার যুক্তরাজ্যের নাগরিকত্ব বাতিল করা হয়েছে তিনি এখন মিডিয়াকে এড়িয়ে চলা শিখে ফেলেছেন। আশ্রয় শিবিরে নিজের নিরাপত্তা বজায় রাখার চেষ্টা করছেন। তবে তার পরিস্থিতি এখন কিছুটা পরিবর্তনের দিকে। উত্তর-পূর্ব সিরিয়ায় গত সপ্তাহে সামরিক অভিযানের ফলে কুর্দি কর্তৃপক্ষের দখলকৃত এলাকা সরকারী বাহিনীর হাতে চলে গিয়েছে। প্রায় ৮০% কুর্দি দখলকৃত এলাকা দ্রুত হাত বদল হয়েছে।

রোজ শিবিরে ২,০০০-এরও বেশি বিদেশী আইএস নারী ও শিশু রয়েছে, যার মধ্যে প্রায় ১৫ জন ব্রিটিশ বা দ্বৈত নাগরিক নারী। হোল নামক আশ্রয় শিবিরের পতনের পর বহু আইএস সমর্থক বিশৃঙ্খলার সুযোগে পালিয়েছে বলে জানা যায়। যুক্তরাষ্ট্র প্রায় ৭,০০০ পুরুষ বন্দীকে ইরাকে স্থানান্তরের চেষ্টা করছে।

শিবিরের প্রবেশদ্বার ও বাজারের অংশগুলো এখন শুনশান। রোজ শিবিরের কুর্দি ব্যবস্থাপক হেকেমিয়া ইব্রাহিম জানান, “যে নারীরা আগে খুব দৃশ্যমান ছিল, তারা এখন কম দেখা যায়। শামীমা বেগমও তাদের মধ্যে, ধীরে ধীরে সময় কাটাচ্ছে এবং ভাগ্যের পরিবর্তনের অপেক্ষায় আছেন।” তিনি আরও বলেন, “নারীদের ব্যাগ ইতিমধ্যেই প্যাক করা আছে এবং অনেকেই বিদেশী সমর্থকদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে পালানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।”

এক ব্রিটিশ নারী, যিনি শামীমা বেগমের পাশে ছিলেন তিনি দ্য টেলিগ্রাফকে বলেন, “আমাদের বড় ভুল হয়েছে। আমরা যে কোনো ফলাফল ভোগ করতে প্রস্তুত।”

মিসরীয় নারী উম্ম হামজা বলেন, “শিবিরের সবচেয়ে বিপজ্জনক নারীরা লুকিয়ে থাকে। কারণ মুখ ঢেকে না রাখলে আক্রমণ হতে পারে।”
এখনও রোজ শিবির কুর্দদের সব-মহিলা Women’s Protection Units (YPJ) দ্বারা সুরক্ষিত। তবে শিবিরের কিছু স্থানে আইএস পতাকা দেখা যায়, যেখানে লেখা আছে “আমরা আবার ফিরে আসব।”

কুর্দি কর্মকর্তা সারা ডেরিক জানান, হোল শিবিরের পতনের পর নারীদের মধ্যে মুক্তির আশা আরও জোরদার হয়েছে। সরকারী বাহিনী এগিয়ে গেলে স্থানীয় উপজাতীয় যোদ্ধারা কুর্দ নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর হামলা চালায় এবং শিবিরের ভিতরে বিদ্রোহ ঘটায়।

যুক্তরাজ্য গত বছরে কিছু নাগরিককে রোজ শিবির থেকে ফিরিয়েছে। তবে এখন অনেক বন্দী প্রত্যাবর্তন করতে অস্বীকার করছে এবং আল-শারার বাহিনী দ্বারা মুক্তির আশা করছে। হেকেমিয়া ইব্রাহিম বলেন, “নারীরা বলছে, ‘আমরা আল্লাহ’র উপর অবিশ্বাসী যারা তাদের দেশে ফিরব না। আমাদের স্বামী আল-শারার সঙ্গে আছে।’”

রোজ শিবিরের সাম্প্রতিক উত্তেজনা এবং ভৌগোলিক পরিবর্তন নারীদের মধ্যে আশার সঞ্চার করছে। শিবিরে বন্দীদের মধ্যে বিশ্বাস জন্মেছে যে, আইএস আবার শক্তিশালী হবে এবং খিলাফত পুনরায় প্রতিষ্ঠিত হতে পারে।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

যুক্তরাজ্যে আশ্রয় আবেদনে ব্যাকলগঃ আরো তিন বছর হোটেলে রাখা হতে পারে আশ্রয়প্রার্থীদের

ঋষি সুনাকের দলের আরো দুইজন সাংসদের পদত্যাগ

‘ব্রিটিশ পুলিশের মধ্যে রয়েছে যৌনতাবাদের বিষাক্ত সংস্কৃতি’

নিউজ ডেস্ক