TV3 BANGLA
বাংলাদেশসিলেট

সিলেটে বিএনপির নিরঙ্কুশ আধিপত্য, সরকার গঠনে বাড়ছে সিলেটের মন্ত্রী প্রত্যাশা

বাংলাদেশের জাতীয় নির্বাচন গতকাল শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। নির্বাচন শেষে প্রাপ্ত ফলাফলে স্পষ্ট হয়েছে—দেশের রাজনৈতিক মানচিত্রে বড় পরিবর্তন এসেছে। সরকার গঠনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলটির নিরঙ্কুশ বিজয়ে দ্রুত মন্ত্রিসভা গঠনের সম্ভাবনাও জোরালো হয়ে উঠেছে।

সিলেট বিভাগে বিএনপির বিজয় সবচেয়ে আলোচিত বিষয় হয়ে উঠেছে। বিভাগের ১৯টি আসনের মধ্যে ১৮টিতেই বিএনপি প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন। এই বিপুল বিজয়কে বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান-এর প্রতি সিলেটবাসীর বিশেষ সম্মান ও রাজনৈতিক আস্থার প্রতিফলন হিসেবে দেখছেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা। ‘সিলেটের জামাতা’ হিসেবে তারেক রহমান যে মর্যাদা পেয়েছেন, তা এই ফলাফলের মধ্য দিয়েই স্পষ্ট।

সিলেট বিভাগের যে একটি আসনে বিএনপি পরাজিত হয়েছে, সেখানে দলীয় জোট প্রার্থীকে সমর্থন দেওয়া হলেও বিএনপির এক বিদ্রোহী প্রার্থীর অংশগ্রহণের কারণে ভোট বিভক্ত হয় বলে স্থানীয়দের ধারণা। এলাকাবাসীর মতে, ঐ বিদ্রোহী প্রার্থী না থাকলে সিলেট বিভাগে ‘ক্লিন সুইপ’ হতো বিএনপির।

এদিকে সরকার গঠনের প্রক্রিয়া শুরু হওয়ার আগেই সিলেট থেকে কতজন মন্ত্রী মন্ত্রিসভায় জায়গা পাবেন—তা নিয়ে জোর আলোচনা শুরু হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটারদের প্রত্যাশা, এই বিপুল সমর্থনের যথাযথ প্রতিদান হিসেবে সিলেট বিভাগ থেকে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রী নিয়োগ দেওয়া হবে।

সম্ভাব্য মন্ত্রীদের তালিকায় রয়েছেন সিলেট-০১ আসন থেকে নির্বাচিত খন্দকার মুক্তাদির এবং মৌলভীবাজার-০৩ আসনের বিজয়ী নাসের রহমান। হবিগঞ্জ থেকে নির্বাচিত রেজা কিবরিয়াকেও মন্ত্রী করা হতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে। পাশাপাশি টেকনোক্র্যাট কোটার আওতায় সিলেট থেকে একজন মন্ত্রী নিয়োগের সম্ভাবনাও উড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে না।

এছাড়া দীর্ঘদিন নিখোঁজ বিএনপি নেতা ইলিয়াস আলীর পরিবারের প্রতি সম্মান জানিয়ে তার পত্নীকে মন্ত্রী করার দাবিও উঠেছে এলাকাবাসীর পক্ষ থেকে। হবিগঞ্জের সাবেক মেয়র জিকে গউস এবং সিলেটের সাবেক মেয়র আরিফুল হক চৌধুরীকেও মন্ত্রিসভায় দেখার স্বপ্ন দেখছেন বিএনপি সমর্থকরা।

প্রবাসী রাজনীতিতেও সিলেটের ভূমিকা আলোচনায় এসেছে। যুক্তরাজ্য প্রবাসী বিএনপি নেতা হুমায়ুন কবিরকে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী করা হতে পারে—এমন আলোচনাও রাজনৈতিক মহলে শোনা যাচ্ছে। সব মিলিয়ে, সরকার গঠনের আগে সিলেট বিভাগ এখন জাতীয় রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে।

নির্বাচনের রায় স্পষ্ট—সিলেট বিএনপির ঘাঁটি হিসেবেই তার অবস্থান আরও শক্ত করেছে। এখন দেখার বিষয়, এই গণসমর্থনের কতটা প্রতিফলন নতুন সরকারের মন্ত্রিসভায় পাওয়া যায়।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের নাতির মৃত্যু

ভারতের সংসদে বাংলাদেশ নিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের বিবৃতি

নির্বাচন বন্ধ করাই আমাদের লক্ষ্য, আন্দোলন সহিংস হতে পারে—ভারতীয় গণমাধ্যমে হাসিনাপুত্র জয়