17.1 C
London
October 5, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশসিলেট

সিলেটে মানবতার নজিরঃ চাকরি বাঁচাতে সম্পত্তিহীন তরুণকে এক শতক জমি দিলেন প্রতিবেশী

মৌলভীবাজারের জুড়ীতে চাকরির পুলিশ ভেরিফিকেশনে সম্পত্তির তথ্য নিয়ে বিপাকে পড়া এক তরুণের পাশে দাঁড়িয়ে মানবতার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন তার এক প্রতিবেশী। পরিবারের নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকায় চাকরি হাতছাড়া হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে ওই তরুণকে কোনো বিনিময় ছাড়াই এক শতক জমি দান করেছেন প্রতিবেশী। এমনকি জমি রেজিস্ট্রেশনের খরচও নিজেই বহন করেছেন তিনি।

রোববার (৪ অক্টোবর) জুড়ী উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। সরকারি বিধিমালা ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গোপনীয়তার কথা বিবেচনা করে দাতা ও গ্রহীতার নাম প্রকাশ করা হয়নি। ঘটনাটি ঘটেছে মৌলভীবাজারের জুড়ী উপজেলায়, বৃহত্তর সিলেট অঞ্চলে।

জানা গেছে, সম্প্রতি সোনালী ব্যাংকের একটি নিয়োগ পরীক্ষায় চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন জুড়ী উপজেলার ওই তরুণ। চাকরির নিয়োগ প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে তার পরিবারের স্থাবর সম্পত্তির বিবরণ যাচাই করা হচ্ছিল। কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করা পরিবারটির নিজস্ব কোনো জমি বা অন্য স্থাবর সম্পত্তি ছিল না।

তরুণের বাবার নামে কোনো জমি না থাকায় পুলিশ বা গোয়েন্দা ভেরিফিকেশনে চাকরি নিয়ে জটিলতা তৈরি হতে পারে—এমন আশঙ্কা দেখা দেয়। এতে পুরো পরিবার দিশাহারা হয়ে পড়ে।

বিষয়টি জানতে পারেন তরুণের এক প্রতিবেশী। এরপর কোনো ধরনের বিনিময় বা আর্থিক সুবিধা ছাড়াই নিজের জমি থেকে এক শতক জমি ওই তরুণের পরিবারকে দান করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি। শুধু জমি লিখে দেওয়াই নয়, দলিলের রেজিস্ট্রেশনসহ প্রয়োজনীয় খরচও নিজেই বহন করেন।

জুড়ী উপজেলার সাব-রেজিস্ট্রার মো. মহিউদ্দিন বলেন, চাকরি পাওয়া এক তরুণের বাবার নামে কোনো স্থাবর সম্পত্তি না থাকায় ভেরিফিকেশনে বাদ পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। বিষয়টি জানতে পেরে প্রতিবেশী ওই ব্যক্তি কোনো বিনিময় ছাড়াই এক শতক জমি দান করেছেন। তিনি জানান, তরুণটির পরিবার দীর্ঘদিন ধরে ভাড়া বাসায় বসবাস করে আসছে।

ঘটনাটি প্রকাশ্যে আসার পর স্থানীয়ভাবে ব্যাপক আলোচনা তৈরি হয়েছে। অনেকেই প্রতিবেশীর এই উদ্যোগকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে দেখছেন।

বিশেষ করে ধর্মের পরিচয়কে কেন্দ্র করে সমাজে যখন বিভাজন, দূরত্ব ও ঘৃণা তৈরির নানা ঘটনা সামনে আসে, তখন বিপদের সময়ে একজন প্রতিবেশীর এমন নিঃস্বার্থ সহযোগিতা ভিন্ন এক বার্তা দিয়েছে। মানুষের পরিচয়ের আগে মানবিকতাই যে বড়—এই ঘটনাটি যেন তারই বাস্তব উদাহরণ।

একটি চাকরি শুধু একজন তরুণের কর্মজীবনের সুযোগ নয়; এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে একটি পরিবারের ভবিষ্যৎ। সেই ভবিষ্যৎ অনিশ্চয়তার মুখে পড়ার মুহূর্তে প্রতিবেশীর এগিয়ে আসা পরিবারটির জন্য বড় সহায়তা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

স্থানীয়দের মতে, সামাজিক বিভাজন ও ধর্মীয় বিদ্বেষের বাইরে মানুষের বিপদে মানুষ এগিয়ে আসাই সমাজের সবচেয়ে বড় শক্তি। জুড়ীর এই ঘটনা সেই মানবিক সম্পর্কেরই একটি বিরল উদাহরণ হয়ে থাকল।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এমকে

আরো পড়ুন

সিলেটের সব থানায় বসানো হলো ‘মেশিনগান পোস্ট’

রোহিঙ্গারা নানা অপকর্মে জড়িত

বিজয় দিবস কেন্দ্র করে দেশে ফিরতে পারেন তারেক রহমান, প্রস্তুতি জোরদার