TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

সোশ্যাল মিডিয়ায় ভাইরাল বঙ্গোপসাগরের গ্যাস ‘চুরি’ বিতর্কঃ ভারত-চীন ইস্যুতে নতুন আলোচনা

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি বঙ্গোপসাগরের তলদেশ থেকে বাংলাদেশের প্রাকৃতিক গ্যাস প্রতিবেশী ভারত বিশেষ প্রযুক্তি ব্যবহার করে উত্তোলন করছে—এমন দাবি নিয়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে। ভাইরাল হওয়া বিভিন্ন ভিডিও ও পোস্টে অভিযোগ করা হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের সামুদ্রিক গ্যাসক্ষেত্র থেকে পরোক্ষভাবে গ্যাস অন্য দেশে চলে যাচ্ছে এবং সাম্প্রতিক সময়ে চীন এ বিষয়ে বাংলাদেশকে তথ্য ও প্রযুক্তিগত সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।

তবে এসব দাবির পক্ষে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশ সরকার, ভারত সরকার, চীন সরকার কিংবা সংশ্লিষ্ট কোনো আন্তর্জাতিক সংস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে যাচাইকৃত তথ্য বা প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি। ফলে বিষয়টি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা হলেও অভিযোগগুলোর সত্যতা স্বাধীনভাবে নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি।

ভাইরাল বক্তব্যে বলা হয়েছে, তরল ও গ্যাসীয় পদার্থের চাপের পার্থক্যকে কাজে লাগিয়ে সীমান্তসংলগ্ন এলাকায় বিশেষ ধরনের দিকনির্দেশিত (ডিরেকশনাল) ড্রিলিং প্রযুক্তির মাধ্যমে বাংলাদেশের গ্যাসক্ষেত্র থেকে গ্যাস অন্যদিকে প্রবাহিত করা সম্ভব হয়েছে। একই সঙ্গে ১৯৯০ সালে ইরাক ও কুয়েতের মধ্যে তেলক্ষেত্র নিয়ে উত্থাপিত বিতর্কের উদাহরণও তুলে ধরা হয়েছে।

এছাড়া দাবি করা হয়েছে, আন্তর্জাতিক সমুদ্রসীমা নির্ধারণের পর বাংলাদেশের কয়েকটি অফশোর ব্লকে ভারতের রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠানকে অনুসন্ধানের দায়িত্ব দেওয়া হলেও প্রত্যাশিত উৎপাদন শুরু হয়নি। এর ফলে দীর্ঘ সময় ধরে বাংলাদেশের নিজস্ব গ্যাস উত্তোলন বিলম্বিত হয়েছে এবং দেশকে ব্যয়বহুল আমদানিকৃত এলএনজির ওপর নির্ভরশীল হতে হয়েছে।

সামাজিক মাধ্যমে প্রচারিত বক্তব্যে আরও বলা হয়েছে, চীন আধুনিক অফশোর প্রযুক্তি ব্যবহার করে বাংলাদেশের গভীর সমুদ্রে গ্যাস অনুসন্ধান ও উত্তোলনে সহযোগিতার আগ্রহ প্রকাশ করেছে। তবে এ ধরনের কোনো চুক্তি বা প্রযুক্তিগত সহযোগিতা সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা পাওয়া যায়নি।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞদের মতে, অফশোর গ্যাসক্ষেত্রে দিকনির্দেশিত ড্রিলিং একটি স্বীকৃত প্রযুক্তি হলেও আন্তর্জাতিক সীমান্ত অতিক্রম করে অন্য দেশের প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনের অভিযোগ অত্যন্ত গুরুতর। এমন অভিযোগ প্রমাণের জন্য বিস্তৃত ভূতাত্ত্বিক তথ্য, উৎপাদন উপাত্ত, সিসমিক জরিপ এবং আন্তর্জাতিক পর্যায়ের স্বাধীন কারিগরি তদন্ত প্রয়োজন।

বিশ্লেষকদের মতে, বাংলাদেশের সামুদ্রিক গ্যাসসম্পদ দেশের জ্বালানি নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তাই বঙ্গোপসাগরের গ্যাসক্ষেত্র নিয়ে যেকোনো অভিযোগ বা বিতর্কের ক্ষেত্রে রাজনৈতিক বক্তব্যের পরিবর্তে আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে বৈজ্ঞানিক অনুসন্ধান, স্বচ্ছ তথ্য প্রকাশ এবং সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর আনুষ্ঠানিক অবস্থানই হওয়া উচিত সত্য উদঘাটনের প্রধান ভিত্তি।

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশে ব্রয়লার মুরগিতে নতুন ব্যাকটেরিয়াঃ কসাই দোকানের অপরিচ্ছন্নতা চরম পর্যায়ে

জুলাই ঘোষণাপত্রঃ ১৫ জানুয়ারির মধ্যে প্রকাশ হচ্ছে না, সিদ্ধান্ত আগামী সপ্তাহে

যুক্তরাজ্যে ‘ফেইক ম্যারেজ’ ও প্রতারণার পথে ভিসা নয়ঃ আইনি জটিলতার আশঙ্কা

নিউজ ডেস্ক