মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সৌদি আরবের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনার প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। ওমানের রাজধানী মাস্কাটে সম্ভাব্য এ বৈঠকের মাধ্যমে দুই পক্ষের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। তবে আলোচনায় বসার আগে ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ প্রত্যাহার এবং দেশটির ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরব ও তাদের জোটের সব বিদেশি সেনা সরিয়ে নেওয়ার দাবি জানিয়েছে হুতিরা।
প্রদত্ত তথ্য অনুযায়ী, সৌদি আরবের পক্ষ থেকে হুতিদের সঙ্গে আলোচনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সৌদি আরবের জনকূটনীতি বিষয়ক উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. রায়েদ ক্রিমলির বরাতে বলা হয়েছে, হুতিরা আলোচনায় বসার প্রস্তাবে সরাসরি অস্বীকৃতি জানিয়েছে। এ অবস্থানের পেছনে ইরানের উসকানি ও অব্যাহত সমর্থন রয়েছে বলেও অভিযোগ করেছে রিয়াদ।
হুতিদের প্রধান শর্তগুলোর মধ্যে প্রথমটি হলো, ইয়েমেনের ওপর থেকে অবরোধ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার করতে হবে। একই সঙ্গে রাজধানী সানার বিমানবন্দর এবং গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রবন্দর হুদায়দাহ সম্পূর্ণভাবে খুলে দিতে হবে। হুতিদের অবস্থান অনুযায়ী, এসব যোগাযোগপথ স্বাভাবিক না করা পর্যন্ত শান্তি আলোচনায় অগ্রসর হওয়ার সুযোগ নেই।
দ্বিতীয় শর্ত হিসেবে ইয়েমেনের ভূখণ্ড থেকে সৌদি আরব ও তাদের মিত্র জোটের সব বিদেশি সেনা স্থায়ীভাবে প্রত্যাহারের দাবি জানিয়েছে হুতিরা। তাদের বক্তব্য, ইয়েমেনের অভ্যন্তরীণ সংকটের রাজনৈতিক সমাধানের পথ তৈরি করতে হলে প্রথমে বিদেশি সামরিক উপস্থিতির অবসান ঘটাতে হবে।
হুতিদের দাবি, এসব শর্ত পূরণ হওয়ার পরই তারা ইয়েমেনের অন্যান্য অভ্যন্তরীণ পক্ষের সঙ্গে আলোচনায় বসে রাজনৈতিক সমঝোতার বিষয়ে আলোচনা করতে প্রস্তুত হবে। ফলে সৌদি আরবের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার উদ্যোগ আপাতত অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
ইয়েমেনের সংঘাত দীর্ঘদিন ধরে আঞ্চলিক শক্তিগুলোর প্রতিদ্বন্দ্বিতা, সামরিক হস্তক্ষেপ এবং মানবিক সংকটের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে। সৌদি আরব ও ইরানের মধ্যকার আঞ্চলিক প্রতিদ্বন্দ্বিতাও এই সংঘাতের গুরুত্বপূর্ণ প্রেক্ষাপট। এমন পরিস্থিতিতে অবরোধ প্রত্যাহার ও বিদেশি সেনা প্রত্যাহারের মতো শর্তকে আলোচনার পূর্বশর্ত হিসেবে তুলে ধরায় শান্তি উদ্যোগের অগ্রগতি আরও জটিল হতে পারে।
সূত্রঃ এপি
এমকে

