12.5 C
London
May 16, 2026
TV3 BANGLA
ফিচার

স্মার্টফোনে আসক্তি ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের জন্য নতুন চ্যালেঞ্জ

ডিজিটাল যুগে স্মার্টফোন মানুষের জীবনকে সহজ ও গতিশীল করে তুললেও এর অতিরিক্ত ব্যবহার শিশু-কিশোরদের মানসিক স্বাস্থ্য ও পারিবারিক সম্পর্কের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে বলে সতর্ক করেছেন অনলাইন নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন গেমিং এবং চ্যাটিংয়ের অবাধ ব্যবহার শিশুদের মধ্যে উদ্বেগ, একাকীত্ব, মনোযোগের ঘাটতি ও মানসিক চাপ বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।

অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে কাজ করা এক বিশেষজ্ঞ জানিয়েছেন, স্মার্টফোন ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বর্তমানে এমন এক বাস্তবতায় পৌঁছেছে যেখানে শিশুরা খুব অল্প বয়স থেকেই ভার্চুয়াল জগতের সঙ্গে যুক্ত হয়ে যাচ্ছে। কিন্তু তারা এখনো শিখে উঠতে পারেনি কীভাবে নিজেদের মানসিক সুস্থতাকে অগ্রাধিকার দিতে হবে কিংবা কীভাবে অনলাইন সীমারেখা বজায় রাখতে হবে।

তিনি বলেন, শুধু শিশুরাই নয়, প্রাপ্তবয়স্করাও অনেক সময় দীর্ঘ সময় ধরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ক্রল করা বা অফিস সময়ের বাইরে কাজের ইমেইল চেক করার অভ্যাস থেকে বের হতে পারেন না। ফলে সন্তানদের সামনে বড়দের আচরণও গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, পরিবারভিত্তিক কিছু সাধারণ নিয়ম শিশুদের সুস্থ ডিজিটাল অভ্যাস গড়ে তুলতে সহায়ক হতে পারে। যেমন খাবার টেবিলে ফোন ব্যবহার না করা, পরিবার একসঙ্গে সময় কাটানোর সময় স্মার্টফোন দূরে রাখা, হাঁটতে যাওয়া বা সিনেমা দেখার সময় ডিজিটাল ডিটক্সে থাকা ইত্যাদি।

এছাড়া শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট স্ক্রিন টাইম নির্ধারণ, সন্ধ্যার পর ফোন ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা এবং রাতে শোবার ঘরে ফোন না রাখার মতো নিয়মও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারে বলে মত দিয়েছেন তারা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অতিরিক্ত ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করার ঝুঁকি সম্পর্কেও শিশুদের সচেতন করা জরুরি। পাশাপাশি সম্মতির গুরুত্ব, অনলাইন গোপনীয়তা, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক চ্যাটবট এবং ভুয়া তথ্য বা বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট নিয়েও পরিবারে খোলামেলা আলোচনা হওয়া প্রয়োজন।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সন্তানদের সঙ্গে অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ে আলোচনা যেন বক্তৃতামূলক না হয়ে পারিবারিক আলাপচারিতায় পরিণত হয়, সেদিকে গুরুত্ব দিতে হবে। শিশুদের মতামত জানতে চাওয়া এবং তাদের অভিজ্ঞতা শুনলে তারা আরও স্বাচ্ছন্দ্যে নিজেদের সমস্যার কথা প্রকাশ করতে পারে।

একই সঙ্গে অভিভাবকদের জন্য নির্ভরযোগ্য তথ্যসূত্র থেকে পরামর্শ নেওয়ার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে। এ ক্ষেত্রে বিভিন্ন অনলাইন নিরাপত্তাবিষয়ক প্ল্যাটফর্ম, প্যারেন্টাল কন্ট্রোল গাইডলাইন ও ডিজিটাল সেফটি রিসোর্স গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অনলাইনে শিশুদের মানসিক সুস্থতা নিশ্চিত করতে পাঁচটি বিষয়ের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া প্রয়োজন। এগুলো হলো— নিয়মিত সন্তানদের সঙ্গে কথা বলা, পারিবারিকভাবে অনলাইন ব্যবহারের সীমারেখা নির্ধারণ, নিরাপত্তা সরঞ্জাম ব্যবহার, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম শিশুদের মানসিক অবস্থায় কী প্রভাব ফেলছে তা পর্যবেক্ষণ এবং বড়দের নিজেদের জন্য স্বাস্থ্যকরভাবে ফোন ব্যবহারের অভ্যাস গড়ে তোলা।

তাদের ভাষ্য, প্রযুক্তি থেকে পুরোপুরি দূরে রাখা নয়, বরং সচেতন ও দায়িত্বশীল ব্যবহার শেখানোই এখন সময়ের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ।

সূত্রঃ মিরর

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্রিটেনের আর্থশট পুরস্কার পেলেন বাংলাদেশের ইসরাত

বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ চুরি: উত্তর কোরিয়ার হ্যাকারদের দুর্ধর্ষ কাহিনী

অনলাইন ডেস্ক

অ্যান্টিমাইক্রোবিয়াল রেজিস্ট্যান্স এখন বিশ্বব্যাপী মৃত্যুর অন্যতম কারণ

অনলাইন ডেস্ক