TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালীতে অচলাবস্থাঃ বৈশ্বিক তেল সরবরাহে ইতিহাসের বৃহত্তম সংকট

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের প্রভাব বিশ্ব জ্বালানি বাজারে গভীর সংকট তৈরি করেছে। তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর জোট ওপেক প্লাস সতর্ক করে জানিয়েছে, সাম্প্রতিক হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত জ্বালানি স্থাপনাগুলো মেরামত করতে বিপুল অর্থ ব্যয় এবং দীর্ঘ সময় প্রয়োজন হবে, যা বৈশ্বিক তেল সরবরাহে দীর্ঘমেয়াদি নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

রোববার জোটভুক্ত দেশগুলোর প্রতিনিধিরা আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। তাদের মতে, জ্বালানির নিরবচ্ছিন্ন প্রবাহ বজায় রাখতে সমুদ্রপথ সুরক্ষিত রাখা এখন সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এদিকে, ওপেক প্লাস নীতিগতভাবে মে মাসে দৈনিক ২ লাখ ৬ হাজার ব্যারেল তেল উৎপাদন বাড়ানোর বিষয়ে সম্মত হয়েছে বলে জানা গেছে। তবে বাস্তব পরিস্থিতিতে এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়া নিয়ে অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। কারণ, ইরান হরমুজ প্রণালী কার্যত অবরুদ্ধ করে রাখায় তেল পরিবহন মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।

বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ এই জলপথ দিয়ে প্রতিদিন প্রায় ১০০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচল করে থাকে। বৈশ্বিক অপরিশোধিত তেলের প্রায় ২০ শতাংশ এই পথেই পরিবাহিত হয়। ফলে প্রণালীতে চলাচল সীমিত হয়ে পড়ায় আন্তর্জাতিক বাজারে সরবরাহ শৃঙ্খল ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বিশ্লেষকরা বলছেন, বর্তমান সংঘাত ইতোমধ্যে তেল সরবরাহ ব্যবস্থায় ইতিহাসের সবচেয়ে বড় বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। এর সরাসরি প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দামে।

চলতি বছরের শুরু থেকে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ৫০ শতাংশের বেশি বৃদ্ধি পেয়েছে। মার্চ মাসে প্রতি ব্যারেল ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে পৌঁছানোর পর বর্তমানে তা কিছুটা কমে প্রায় ১০৯ ডলারে লেনদেন হচ্ছে। তবুও দাম এখনো উচ্চ অবস্থানে রয়ে গেছে, যা বৈশ্বিক অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, যদি দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না ঘটে এবং হরমুজ প্রণালীতে স্বাভাবিক চলাচল পুনরুদ্ধার না হয়, তাহলে জ্বালানি সংকট আরও গভীর হতে পারে এবং এর প্রভাব দীর্ঘ সময় ধরে বিশ্ববাজারে বিরাজ করবে।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

অপারেশন সিঁদুরের বিরোধিতা করে যা বললেন কবীর সুমন

হিজবুল্লাহ প্রধানকে হত্যা, এবার ‘লুকালেন’ খামেনি

৫ মাসে গাজা দখল করতে চান নেতানিয়াহু