মধ্যপ্রাচ্যের গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালীতে চলমান উত্তেজনার মধ্যেই তুরস্কের মালিকানাধীন দ্বিতীয় একটি জাহাজ নিরাপদে প্রণালী অতিক্রম করেছে। এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন তুরস্কের পরিবহনমন্ত্রী আবদুল কাদির উরালওগলু। তিনি জানান, সংঘাত শুরুর সময় প্রণালীতে তুরস্কের মালিকানাধীন মোট ১৫টি জাহাজ অবস্থান করছিল, যার মধ্যে এখন পর্যন্ত দুইটি জাহাজ সফলভাবে বেরিয়ে এসেছে।
মন্ত্রী আরও জানান, এখনো চারটি জাহাজ প্রণালী ত্যাগের কোনো অনুরোধ জানায়নি। এর মধ্যে দুইটি জ্বালানি পরিবহনকারী এবং বাকি দুইটি আঞ্চলিক বাণিজ্যে নিয়োজিত। বাকি নয়টি জাহাজ সরিয়ে নিতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে সমন্বয় করে কাজ চলছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
তিনি তুর্কি গণমাধ্যম সিএনএন তুর্ক-কে দেওয়া সাক্ষাৎকারে এসব তথ্য জানান। এর আগে গত ১৩ মার্চ প্রথম জাহাজটির নিরাপদ যাত্রা নিশ্চিত করা হয়, যা ইরানের অনুমতির ভিত্তিতে সম্ভব হয়েছিল। তবে দ্বিতীয় জাহাজটি ঠিক কখন প্রণালী অতিক্রম করেছে, সে বিষয়ে নির্দিষ্ট সময় জানানো হয়নি।
বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এই হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়। সাম্প্রতিক সংঘাতের জেরে ইরানের পক্ষ থেকে নৌ চলাচলে হুমকি দেওয়ায় এই পথ কার্যত অচল হয়ে পড়েছিল, যা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য ও জ্বালানি বাজারে উদ্বেগ সৃষ্টি করে।
তবে সাম্প্রতিক সময়ে কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। এর মধ্যে একটি ফরাসি জাহাজ কোম্পানি সিএমএ সিজিএম-এর মালিকানাধীন কনটেইনারবাহী জাহাজও রয়েছে, যা সম্প্রতি উপসাগরীয় এলাকা ত্যাগ করেছে। এটি সংঘাত শুরুর পর পশ্চিমা বিশ্বের কোনো জাহাজের প্রথম নিরাপদ অতিক্রম বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এই প্রণালীকে ঘিরে চলমান কূটনৈতিক তৎপরতা এবং সীমিত আকারে জাহাজ চলাচল পুনরায় শুরু হওয়া পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার ইঙ্গিত দিচ্ছে। তবে পূর্ণমাত্রায় নৌ চলাচল স্বাভাবিক হতে হলে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা প্রশমিত হওয়া জরুরি বলে তারা মনে করছেন।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

