3.1 C
London
March 14, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

হরমুজ প্রণালী সংকটে ট্রাম্প প্রশাসন, পরিকল্পনায় ঘাটতির অভিযোগ

মার্কিন সামরিক হামলার জবাবে ইরান হরমুজ প্রণালী বন্ধ করতে পারে—এমন সম্ভাবনাকে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারকেরা যথেষ্ট গুরুত্ব দেননি বলে অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টির সঙ্গে পরিচিত একাধিক সূত্র বলছে, সংঘাত শুরুর আগে পরিকল্পনা প্রক্রিয়ায় সম্ভাব্য অর্থনৈতিক ঝুঁকি পুরোপুরি বিবেচনায় নেওয়া হয়নি।

সূত্রগুলোর মতে, ডোনাল্ড ট্রাম্প নেতৃত্বাধীন প্রশাসনের ন্যাশনাল সিকিউরিটি টিম সামরিক অভিযানের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়া হিসেবে হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার ঝুঁকিকে পর্যাপ্ত গুরুত্ব দেয়নি। এখন প্রশাসনের ভেতরে অনেক কর্মকর্তা এটিকে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতির একটি হিসেবে দেখছেন।

অভিযান শুরুর আগে অনুষ্ঠিত বিভিন্ন পরিকল্পনা বৈঠকে ডিপার্টমেন্ট অব এনার্জি এবং ডিপার্টমেন্ট অব ট্রেজারি থেকে শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত থাকলেও অতীত প্রশাসনের মতো বিস্তৃত অর্থনৈতিক বিশ্লেষণ ও পূর্বাভাস সিদ্ধান্ত গ্রহণে প্রধান বিষয় ছিল না বলে জানিয়েছে সূত্রগুলো।

মার্কিন ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট এবং এনার্জি সেক্রেটারি ক্রিস রাইট সংঘাতের পরিকল্পনা ও বাস্তবায়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছেন। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ উপদেষ্টাদের ওপর বেশি নির্ভরশীল সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ার কারণে সম্ভাব্য অর্থনৈতিক প্রভাব নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে বিস্তারিত আলোচনা সীমিত হয়ে পড়ে।

এদিকে হরমুজ প্রণালী দিয়ে তেলবাহী জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে ইউএস নেভি দ্বারা সামরিক নিরাপত্তা দেওয়ার পরিকল্পনা থাকলেও তা এখনই বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না। কর্মকর্তারা বলছেন, নিরাপত্তা পরিস্থিতি জটিল হওয়ায় এই উদ্যোগ কার্যকর হতে কয়েক সপ্তাহ সময় লাগতে পারে।

তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিস্থিতির গুরুত্ব কমিয়ে দেখিয়ে বলেছেন, তেলবাহী জাহাজের ক্রুদের সাহস দেখিয়ে প্রণালী পার হওয়া উচিত। তিনি মনে করেন, বর্তমান অস্থিরতা সাময়িক এবং দীর্ঘমেয়াদে এর ইতিবাচক ফল পাওয়া যাবে।

অন্যদিকে আন্তর্জাতিক জ্বালানি খাত এবং কূটনৈতিক মহলে এই পরিস্থিতি নিয়ে বিস্ময় ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সাবেক মার্কিন কর্মকর্তাদের মতে, হরমুজ প্রণালী বন্ধ হয়ে যাওয়ার মতো পরিস্থিতি প্রতিরোধ করা বহু দশক ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল সিকিউরিটি পলিসির অন্যতম প্রধান লক্ষ্য ছিল।

শিপিং ইন্ডাস্ট্রি সংশ্লিষ্ট নির্বাহীরা নিয়মিত মার্কিন নৌবাহিনীর কাছে সামরিক নিরাপত্তা সহায়তা চাইলেও এখন পর্যন্ত তাদের অনুরোধ প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে। তাদের মতে, মার্কিন সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি অত্যন্ত বেশি।

তবে ট্রেজারি সেক্রেটারি স্কট বেসেন্ট বলেছেন, সামরিকভাবে সম্ভব হলেই তেলবাহী জাহাজকে নিরাপত্তা দিয়ে হরমুজ প্রণালী পার করানো হবে। প্রয়োজনে আন্তর্জাতিক কোয়ালিশন গঠন করেও এই কাজ করা হতে পারে।

সম্প্রতি একটি ক্লোজড ডোর ব্রিফিং চলাকালে মার্কিন আইনপ্রণেতারা প্রশাসনের কর্মকর্তাদের কাছে জানতে চান, সংঘাত চলতে থাকলে হরমুজ প্রণালী পুনরায় চালু করার কোনো কার্যকর অপারেশনাল প্ল্যান আছে কি না।

সূত্রগুলোর মতে, প্রশাসনের ভেতরে একটি ধারণা ছিল যে প্রণালী বন্ধ হলে ইরানের ক্ষতিই বেশি হবে। অতীতে মার্কিন হামলার পর ইরান হুমকি দিলেও তা বাস্তবায়ন না করায় এই ধারণা আরও শক্তিশালী হয়েছিল।

এদিকে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা মুজতবা খামেনি বলেছেন, হরমুজ প্রণালী “চাপ প্রয়োগের একটি হাতিয়ার” হিসেবে বন্ধ রাখা হবে। এতে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে অনিশ্চয়তা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
মার্কিন ডিফেন্স সেক্রেটারি পিট হেগসেথ অবশ্য প্রশাসনের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, ইরান দীর্ঘদিন ধরেই হরমুজ প্রণালীকে চাপ প্রয়োগের একটি কৌশল হিসেবে ব্যবহার করে আসছে এবং যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে সচেতন।

বর্তমান পরিস্থিতিতে ইরানের ড্রোন, মিসাইল এবং সমুদ্র মাইন হরমুজ প্রণালীতে জাহাজ চলাচলের জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ফলে জ্বালানি কোম্পানিগুলো সংঘাতের তীব্রতা কমার আগে সেখানে তেলবাহী জাহাজ পাঠাতে অনিচ্ছুক।

বিশ্লেষকদের মতে, এই সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং আন্তর্জাতিক অর্থনীতিতে বড় ধরনের প্রভাব পড়তে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তেলের দাম বাড়লে বিশ্বের সবচেয়ে বড় তেল উৎপাদক হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিকভাবে লাভবানও হতে পারে।

সূত্রঃ সিএনএন

এম.কে

আরো পড়ুন

ভারতকে রুখতে বাংলাদেশের পাশে থাকতে পারে চীন

নিউজ ডেস্ক

আমেরিকায় কঠিন হতে যাচ্ছে নাগরিকত্ব পরীক্ষা

মুসলিমদের ভোটে উপনির্বাচনে জয় ছিনিয়ে আনলেন জর্জ গ্যালোওয়ে