TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

হলোকাস্টের দায় অস্বীকারকারী মুসলিম অভিবাসীদের জার্মানি ছাড়তে হবেঃ চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস

জার্মানির হলোকাস্টের ঐতিহাসিক দায় স্বীকার করতে অস্বীকারকারী মুসলিম অভিবাসীদের দেশটি ছেড়ে চলে যেতে হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন দেশটির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস। তিনি বলেছেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় ইহুদিদের ওপর সংঘটিত গণহত্যার জন্য জার্মানির ঐতিহাসিক দায় শুধু দেশটির নাগরিকদের নয়, ইসলামী দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। যারা এই দায় স্বীকার করতে ব্যর্থ হবে, তাদের জার্মানিতে থাকার অধিকার নিয়ে প্রশ্ন উঠবে।

শনিবার (৭ নভেম্বর) বার্লিনে ম্যাকাবিয়া গেমসে জার্মানির প্রতিনিধিত্বকারী ইহুদি ক্রীড়াবিদদের সম্মানে আয়োজিত এক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন মের্ৎস। জার্মান সংবাদ সংস্থা ডয়চে প্রেসে-এজেন্টের (ডিপিএ) বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যম।

অনুষ্ঠানে ইহুদি ক্রীড়াবিদদের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগের বিষয়টিও উঠে আসে। ম্যাকাবিয়া গেমসে অংশ নেওয়া একটি বাস্কেটবল দলের কোচ চ্যান্সেলরকে জানান, তার দলের ইহুদি খেলোয়াড়রা নিজেদের দলের জ্যাকেট প্রকাশ্যে পরতে ভয় পাচ্ছেন। কারণ, ওই জ্যাকেটে ইহুদি ধর্মের প্রতীক ডেভিডের তারকা চিহ্ন রয়েছে।

এ ঘটনার পর বক্তব্যে জার্মানির ইতিহাস ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় সংঘটিত হলোকাস্টের প্রসঙ্গ তুলে ধরেন মের্ৎস। তিনি ১৯৮৫ সালে জার্মানির সাবেক প্রেসিডেন্ট রিচার্ড ফন ভাইৎসেকারের বুন্ডেস্টাগে দেওয়া ঐতিহাসিক ভাষণের কথা উল্লেখ করেন। ওই ভাষণে ছয় মিলিয়ন ইহুদিকে হত্যার দায় স্বীকার এবং অতীতের অপরাধের মুখোমুখি হওয়ার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়েছিল।

সাবেক প্রেসিডেন্ট বলেছিলেন, তরুণ প্রজন্ম হলোকাস্টের জন্য দায়ী না হলেও সেই ইতিহাসের উত্তরাধিকারের দায় তাদের বহন করতে হবে। মের্ৎস বলেন, এই ঐতিহাসিক দায়িত্ব পুরো জার্মান সমাজের জন্য প্রযোজ্য। একইভাবে জার্মানিতে আসা অভিবাসীদেরও এই বিষয়টি মেনে নিতে হবে। তার ভাষায়, জার্মানির ঐতিহাসিক দায় স্বীকারের বিষয়টি পাথরে খোদাই করা সত্যের মতো।

জার্মানিতে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনা নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে। দেশটির ইহুদিবিদ্বেষবিষয়ক গবেষণা ও তথ্য সংগ্রহকারী সংস্থা রিয়াসের ফেডারেল অ্যাসোসিয়েশনের চলতি বছরের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৫ সালে শুধু বার্লিনেই ইহুদিবিদ্বেষী ২ হাজার ১৯৭টি ঘটনা নথিভুক্ত করা হয়েছে।

এর আগের বছর, অর্থাৎ ২০২৪ সালে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা ছিল ২ হাজার ৫২১টি। সে হিসাবে এক বছরে ঘটনা কমেছে প্রায় ১৩ শতাংশ। তবে ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের আগের সময়ের তুলনায় ইহুদিবিদ্বেষী ঘটনার সংখ্যা এখনো দ্বিগুণেরও বেশি।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর জার্মানির একজন আইনপ্রণেতা সতর্ক করে বলেছেন, দেশটিতে ইহুদি সম্প্রদায়ের জীবন হলোকাস্ট-পরবর্তী যেকোনো সময়ের তুলনায় ভয়াবহ নিরাপত্তা হুমকির মুখে রয়েছে।

মের্ৎসের বক্তব্যে জার্মানিতে বসবাসরত অভিবাসীদের জন্য হলোকাস্টের ইতিহাস ও ইহুদি সম্প্রদায়ের নিরাপত্তার বিষয়টি নতুন করে সামনে এসেছে। বিশেষ করে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে আসা অভিবাসীদের উদ্দেশে তার এই বক্তব্য দেশটির অভিবাসন, সামাজিক সংহতি ও ইহুদিবিদ্বেষবিরোধী নীতি নিয়ে নতুন আলোচনার জন্ম দিতে পারে।

সূত্রঃ ডয়চে প্রেসে-এজেন্ট

এমকে

আরো পড়ুন

আবার হামলা হলে যুদ্ধ বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে দেওয়া হবেঃ ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ইরানের হুঁশিয়ারি

ভারতকে দেওয়া, বিশেষ সুবিধা বাতিল, করলো সুইজারল্যান্ড

নিউজ ডেস্ক

আমরা এখনো শুরুই করিনি—যুক্তরাষ্ট্রকে কিসের হুঁশিয়ারি দিলেন গালিবাফ