13.6 C
London
May 20, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

হাইকোর্টের নির্দেশ অমান্যের অভিযোগে সাবেক গভর্নরের রিসোর্ট বিতর্কে

টাঙ্গাইলের বাসাইল উপজেলার দাপনাজোর এলাকায় একটি বালিকা বিদ্যালয়ের সঙ্গে একই গেট ও প্রবেশপথ ব্যবহার করে স্পা ও রিসোর্টে যাতায়াতের ঘটনায় স্থানীয়ভাবে উদ্বেগ ও বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, স্কুলছাত্রীদের নিয়মিত যাতায়াতের পথ ব্যবহার করছেন রিসোর্টের অতিথিরাও, যা শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও শিক্ষার পরিবেশ নিয়ে অভিভাবকদের মধ্যে শঙ্কা তৈরি করেছে।

 

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, বাংলাদেশ ব্যাংকের সদ্য বিদায়ী গভর্নর আহসান হাবিব মনসুরের মালিকানাধীন রিসোর্ট ও স্পা সেন্টারটি বিদ্যালয়ের সংলগ্ন এলাকায় গড়ে তোলা হয়েছে। রিসোর্ট নির্মাণের সময় পৃথক প্রবেশপথ বা সীমানা প্রাচীর নির্মাণ না করায় বর্তমানে একই গেট ব্যবহার করতে হচ্ছে বিদ্যালয়ের ছাত্রী ও রিসোর্টে আগত অতিথিদের।

১৯৯২ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্থা লিডস্ট্রিম নূরজাহান বালিকা উচ্চবিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে এলাকার কন্যাশিক্ষার গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান হিসেবে পরিচিত ছিল। একসময় চার শতাধিক শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করলেও বর্তমানে ছাত্রীর সংখ্যা কমে প্রায় ৮০ জনে নেমে এসেছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

স্থানীয়দের দাবি, বিদ্যালয়ের শান্ত ও নিরাপদ পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই শিক্ষার্থী সংখ্যা কমতে শুরু করে।

অভিযোগ রয়েছে, ২০২০ সালে বিদ্যালয়ের প্রতিষ্ঠাতাদের উদ্যোগে স্কুলসংলগ্ন এলাকায় প্রথমে ওয়াটার গার্ডেন রিসোর্ট চালু করা হয় এবং পরে সেখানে স্পা সেন্টার যুক্ত করা হয়। এ নিয়ে এলাকাবাসীর আপত্তি থাকলেও কার্যকর কোনো পরিবর্তন আনা হয়নি।

জানা গেছে, ২০২২ সালে জেলা শিক্ষা অফিস পৃথক গেট নির্মাণের জন্য ১৫ দিনের সময়সীমা নির্ধারণ করে নির্দেশনা দেয়। পরবর্তীতে স্থানীয়দের রিট আবেদনের প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ১৪ মে হাইকোর্টও আলাদা প্রবেশপথ নির্মাণের নির্দেশ দেন। তবে এখনো সেই নির্দেশ বাস্তবায়ন হয়নি বলে অভিযোগ রয়েছে।

স্থানীয়দের আরও দাবি, রিসোর্টে বিশেষ আয়োজনের অংশ হিসেবে মাসে একদিন নৃত্য পরিবেশনা ও কনসার্ট অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে টিকিটের বিনিময়ে অতিথিদের অংশগ্রহণের সুযোগ দেওয়া হয়। থার্টি ফার্স্ট নাইটসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে উচ্চ শব্দ ও অনাকাঙ্ক্ষিত পরিবেশ তৈরি হয় বলেও অভিযোগ করেছেন এলাকাবাসী।
বিদ্যালয়ের প্রায় ৩০৬ দশমিক ৫ শতাংশ জমির মধ্যে উল্লেখযোগ্য অংশ বর্তমানে রিসোর্টের দখলে চলে গেছে বলেও অভিযোগ উঠেছে। এমনকি বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষকের জন্য নির্মিত বাসভবনও রিসোর্টের কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে বলে কয়েকজন শিক্ষক জানিয়েছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় বাসিন্দা ও অভিভাবকদের ভাষ্য, একটি বালিকা বিদ্যালয়ের পাশে স্পা সেন্টার পরিচালনা সামাজিকভাবে সংবেদনশীল বিষয়। একই প্রবেশপথ ব্যবহারের কারণে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা ও মানসিক স্বাচ্ছন্দ্য নিয়ে তারা উদ্বিগ্ন।

এ বিষয়ে রিসোর্টের ভারপ্রাপ্ত জেনারেল ম্যানেজার জানিয়েছেন, মালিকপক্ষ দেশে ফিরলে পৃথক প্রবেশপথ নির্মাণের বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া হতে পারে। অন্যদিকে বাসাইল উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আকলিমা খাতুন বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের পরিবেশ সুরক্ষা সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে অভিযোগগুলো তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ঘটনাটি ঘিরে এলাকায় সামাজিক দায়বদ্ধতা, পরিকল্পনার ঘাটতি এবং শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি নতুন করে আলোচনায় এসেছে। স্থানীয়দের প্রত্যাশা, দ্রুত প্রশাসনিক পদক্ষেপের মাধ্যমে বিদ্যালয়ের স্বাভাবিক পরিবেশ নিশ্চিত করা হবে।

সূত্রঃ খবরের কাগজ

এম.কে

আরো পড়ুন

১০ আগস্ট খসড়া ও ৩১ আগস্ট চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ

নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারীর পদত্যাগের খবর অস্বীকার করল এনসিপি

আগামীকাল (বুধবার) নয়াপল্টনে বিএনপির সমাবেশ