TV3 BANGLA
ফিচারবাংলাদেশ

হাম মহামারিতে ৬ মাস বয়স থেকে টিকাঃ বাংলাদেশে তিন ডোজের সম্ভাব্য কর্মসূচি

বাংলাদেশে চলমান হামের প্রাদুর্ভাবে শতাধিক শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা দেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থায় একটি বড় চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। এই সংকটের মধ্যে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা ঐতিহ্যবাহী টিকাদান সময়সূচির বাইরে গিয়ে জরুরি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন, বিশেষ করে ৬ মাস বয়সী শিশুদের জন্য প্রথম ডোজ চালু করে তিন ডোজের একটি অস্থায়ী কর্মসূচি বাস্তবায়নের মাধ্যমে।

বাংলাদেশের সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচি (EPI) গত কয়েক দশকে শিশু ও মাতৃমৃত্যু হ্রাসে উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখিয়েছে। সাধারণত দেশে হাম-রুবেলা (MR) টিকার প্রথম ডোজ ৯ মাসে এবং দ্বিতীয় ডোজ ১৫-১৮ মাসে দেয়া হয়। এই সময়সূচি মাতৃদেহ থেকে প্রাপ্ত অ্যান্টিবডির ক্ষয় এবং টিকার সর্বোচ্চ কার্যকারিতার ভিত্তিতে নির্ধারিত। জন্মের পর শিশুরা মায়ের অ্যান্টিবডি পায়, যা ৬ মাস পর্যন্ত তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী থাকে এবং ৯ মাসে উল্লেখযোগ্যভাবে হ্রাস পায়।

৬ মাসের আগে টিকা দিলে মাতৃ অ্যান্টিবডি টিকার প্রতিক্রিয়াকে হস্তক্ষেপ করতে পারে, ফলে দীর্ঘমেয়াদি টিকার সক্ষমতা কম হতে পারে।

উন্নত দেশগুলোতে, যেমন যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায়, প্রথম ডোজ ১২-১৫ মাসে এবং বুস্টার ৪-৬ বছরে দেয়া হয়। সেখানে উচ্চ হার্ড ইমিউনিটি এবং স্থিতিশীল টিকাদান কর্মসূচির কারণে ৬-১২ মাসের শিশুরা তুলনামূলক নিরাপদ থাকে। কিন্তু উচ্চ সংক্রমণ ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতিতে (মহামারি, উদ্বাস্তু সংকট বা টিকাদানে ব্যাঘাত) WHO ও CDC-এর নির্দেশনা অনুসারে ৬-১১ মাস বয়সী শিশুদের প্রথম ডোজ দেয়া যায়। এই ক্ষেত্রে ডোজটি অতিরিক্ত হিসেবে গণ্য হয় এবং পরবর্তীতে নিয়মিত দুটি ডোজ সম্পূর্ণ করতে হয়।

চলমান সংকট এবং প্রস্তাবিত সমাধান
২০২৬ সালের মার্চ থেকে বাংলাদেশে হামের ব্যাপক প্রাদুর্ভাব দেখা দেয়, যাতে হাজার হাজার সন্দেহজনক কেস এবং কয়েকশ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এটি টিকাদানে সাম্প্রতিক ব্যাঘাত (স্টকআউট ও কর্মসূচির অভাব) এবং হার্ড ইমিউনিটির ঘাটতির ফল। শেখ হাসিনার সরকারের আমলে বাংলাদেশ হাম নির্মূলের দ্বারপ্রান্তে ছিল, কিন্তু এখন পরিস্থিতি উলটে গেছে এবং যার দায়ভার পড়ে ড. মোহাম্মদ ইউনুসের তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপর।

জনস্বাস্থ্য গবেষকদের মতে, এই সংকট মোকাবিলায় আগামী দু-তিন বছরের জন্য অস্থায়ী তিন ডোজের কর্মসূচি যৌক্তিক হতে পারেঃ

প্রথম ডোজঃ ৬ মাস বয়সে (জরুরি সুরক্ষার জন্য, যদিও দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতা কম হতে পারে)।

দ্বিতীয় ডোজঃ ১২ মাস বয়সে।

তৃতীয় ডোজঃ ১৮ মাস বয়সে (বুস্টার হিসেবে)।

এই ব্যবস্থা চলমান মৃত্যু ঠেকাতে সাহায্য করবে এবং হার্ড ইমিউনিটি পুনরুদ্ধারে ভূমিকা রাখবে। সরকার ইতিমধ্যে ৬-৫৯ মাস বয়সী শিশুদের জন্য বিশেষ ক্যাম্পেইন চালিয়েছে। বিশেষজ্ঞরা সুপারিশ করছেন যে, এই ধরনের ব্যতিক্রমী পদক্ষেপ অন্তত দু’বছর চালু রেখে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে নিয়মিত দুই ডোজে ফিরে যাওয়া উচিত।

বর্তমান সময়ে সরকারের প্রধান চ্যালেঞ্জ হলো টিকার সরবরাহ, কোল্ড চেইন ব্যবস্থাপনা এবং জনসচেতনতা। মাতৃ অ্যান্টিবডির হস্তক্ষেপের কারণে ৬ মাসে দেয়া ডোজের কার্যকারিতা পুরোপুরি নাও হতে পারে, তাই অতিরিক্ত ডোজ অপরিহার্য। সরকারকে তরুণ জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে আলোচনা করে বৈজ্ঞানিকভিত্তিক সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

বাংলাদেশের অতীত সাফল্য দেখিয়েছে যে, শক্তিশালী EPI কর্মসূচির মাধ্যমে সংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে দ্রুত ও সমন্বিত পদক্ষেপ এই অর্জনকে পুনরুদ্ধার করবে বলে আশা করা যায়।

(এই প্রতিবেদনটি উপলব্ধ বৈজ্ঞানিক তথ্য, WHO/CDC নির্দেশনা এবং সাম্প্রতিক প্রাদুর্ভাবের তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি। সর্বশেষ আপডেটের জন্য DGHS বা WHO-এর সঙ্গে যোগাযোগ করুন।)

সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া

লেখকঃ ড. শামীম আহমেদ

আরো পড়ুন

ভাইরাল শেখ হাসিনার পদত্যাগপত্রটি ভুয়া দাবি আওয়ামী লীগের

ঢাকার সিগন্যালে যুক্ত হচ্ছে এআই, অযথা হর্ন বাজালেই শাস্তি

পুতুলকে নিয়ে ভাবমূর্তি সংকটে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা