21.4 C
London
September 30, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

১ অক্টোবর থেকে ব্রিটেনে ভ্যাপিং পণ্যে নতুন শুল্কঃ বাড়তে পারে দাম

ব্রিটেনে ভ্যাপিং পণ্য ব্যবহারকারীদের জন্য ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে নতুন শুল্ক ব্যবস্থা কার্যকর হচ্ছে। নতুন নিয়মের আওতায় ভ্যাপিং তরলের ওপর ভ্যাপিং প্রোডাক্টস ডিউটি বা ভিপিডি—ভ্যাপিং প্রোডাক্টস ডিউটি নামে নতুন আবগারি শুল্ক আরোপ করা হবে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বার্মিংহাম লাইভ-এর প্রতিবেদনের পাশাপাশি যুক্তরাজ্যের রাজস্ব ও শুল্ক কর্তৃপক্ষ এইচএমআরসি-এর সরকারি নির্দেশনাতেও বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।

নতুন নিয়ম অনুযায়ী, যুক্তরাজ্যে উৎপাদিত অথবা আমদানি করা ভ্যাপিং তরলের ওপর প্রতি ১০ মিলিলিটারে ২ পাউন্ড ২০ পেনি হারে শুল্ক দিতে হবে। শুল্কের হার তরলে নিকোটিনের পরিমাণের ওপর নির্ভর করবে না। অর্থাৎ নিকোটিনযুক্ত ও নিকোটিনবিহীন—উভয় ধরনের ভ্যাপিং তরলই এই শুল্কের আওতায় পড়বে।

এইচএমআরসির হিসাবে, ১ মিলিলিটার ভ্যাপিং তরলের ক্ষেত্রে শুল্ক দাঁড়াবে ২২ পেনি। ফলে ২ মিলিলিটারের একটি পড-এ শুল্ক হবে ৪৪ পেনি এবং ১০ মিলিলিটারের একটি রিফিল বোতলে শুল্ক হবে ২ পাউন্ড ২০ পেনি।

নতুন শুল্কের আওতায় এমন তরলও পড়বে, যাতে নিকোটিন এবং গ্লিসারিন বা গ্লাইকোল রয়েছে। পাশাপাশি ভ্যাপে ব্যবহার করার জন্য তৈরি তরলও এর আওতাভুক্ত হবে। তবে চিকিৎসায় ব্যবহৃত ওষুধ এবং তামাকজাত পণ্য এই সংজ্ঞার বাইরে থাকবে।

নতুন শুল্ক চালুর সঙ্গে ভ্যাপিং পণ্যের জন্য ডিউটি স্ট্যাম্প ব্যবস্থাও চালু হচ্ছে। ১ অক্টোবর থেকে যুক্তরাজ্যের বাজারে বিক্রির জন্য উৎপাদিত বা আমদানি করা নতুন ভ্যাপিং পণ্যে নির্ধারিত ডিউটি স্ট্যাম্প থাকতে হবে, যদি সেগুলো শুল্ক স্থগিত ব্যবস্থার আওতায় না থাকে।

এইচএমআরসি জানিয়েছে, ভ্যাপিং পণ্য উৎপাদনকারী, আমদানিকারক, গুদাম পরিচালনাকারীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যবসাগুলোকে নতুন ব্যবস্থার আওতায় অনুমোদন নিতে হবে। অনুমোদন ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করলে প্রশাসনিক জটিলতার পাশাপাশি দেওয়ানি বা ফৌজদারি ব্যবস্থা নেওয়ার ঝুঁকি থাকতে পারে।

তবে পুরোনো নিয়মের অধীনে আগে উৎপাদিত বা আমদানি করা কিছু শুল্কমুক্ত মজুত পণ্য খুচরা বিক্রেতারা ৩১ মার্চ ২০২৭ পর্যন্ত বিক্রি করতে পারবেন। ১ এপ্রিল ২০২৭ থেকে যুক্তরাজ্যে বিক্রি বা সরবরাহ করা সব ভ্যাপিং পণ্যের ক্ষেত্রে বৈধ ডিউটি স্ট্যাম্প বাধ্যতামূলক হবে।

ব্রিটিশ সরকারের প্রভাব মূল্যায়নে বলা হয়েছে, নতুন শুল্কের ফলে আনুমানিক ৫১ লাখ ভ্যাপ ব্যবহারকারী প্রভাবিত হতে পারেন, কারণ ভ্যাপিং পণ্যের দাম বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারের নীতিগত উদ্দেশ্যের মধ্যে রয়েছে ভ্যাপিং পণ্যের সহজলভ্যতা ও আকর্ষণ কমানো, বিশেষ করে তরুণ এবং যারা আগে ধূমপান করেননি তাদের মধ্যে ভ্যাপিংয়ের প্রবণতা কমানো।

সরকার আরও জানিয়েছে, ভ্যাপিংয়ের ওপর নতুন শুল্ক চালুর একই সময়ে তামাকজাত পণ্যের ওপরও অতিরিক্ত শুল্ক বৃদ্ধি করা হবে, যাতে ভ্যাপিংয়ের তুলনায় ধূমপান আর্থিকভাবে বেশি আকর্ষণীয় হয়ে না ওঠে।

এর আগে ভ্যাপিং পণ্যের ওপর আলাদা কোনো আবগারি শুল্ক ছিল না। নতুন ভ্যাপিং প্রোডাক্টস ডিউটি বা ভিপিডি চালুর মাধ্যমে প্রথমবারের মতো এসব পণ্যের ওপর নির্দিষ্ট আবগারি শুল্ক কার্যকর হচ্ছে।

যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্স অ্যাক্ট ২০২৬-এ প্রতি ১০ মিলিলিটার ভ্যাপিং পণ্যে ২ পাউন্ড ২০ পেনি হারে এই শুল্কের আইনি ভিত্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট বিধান ১ অক্টোবর ২০২৬ থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।

সূত্রঃ দ্য মিরর

এমকে

আরো পড়ুন

মক্কার বৈচিত্র্য তুলে ধরে সাদিক খানের বক্তব্যঃ সমালোচনায় রাজনৈতিক মহল

লন্ডনে ‘কবরের জায়গা’ সংকটঃ ২০৪০ সালের মধ্যে ১৭ কাউন্সিলে শেষ হয়ে যাবে দাফনের স্থান

রুয়ান্ডার পরিকল্পনা কি কেলেংকারি লুকানোর অংশ?

অনলাইন ডেস্ক