18.4 C
London
September 24, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশসিলেট

২০২৯ সালের জুনে চালুর লক্ষ্য ঢাকা-সিলেট ৬ লেন মহাসড়কঃ কমবে দীর্ঘ যানজট ও ভ্রমণ সময়

দীর্ঘদিনের যানজট ও সড়ক যোগাযোগের নানা সীমাবদ্ধতা কমাতে ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক ৬ লেনে উন্নীত করার কাজ এগিয়ে চলছে। ২০৯ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রকল্পের পুরো অংশ ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে চালুর লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে ঢাকা থেকে সিলেটের সড়ক যোগাযোগে ভ্রমণ সময় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসার প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

বর্তমানে ঢাকা থেকে সিলেট যেতে স্বাভাবিক পরিস্থিতিতে প্রায় ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা সময় লাগলেও যানজট, সড়কের বিভিন্ন অংশে কাজ এবং ডাইভারশনের কারণে অনেক সময় যাত্রা দীর্ঘ হয়ে যায়। বিশেষ করে রূপগঞ্জ-ভুলতা এবং সরাইলসহ কয়েকটি এলাকায় যানজটের কারণে যাত্রীদের অতিরিক্ত সময় রাস্তায় কাটাতে হয়।

প্রকল্পসংশ্লিষ্ট সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, গত ছয় মাসে ভূমি অধিগ্রহণের অগ্রগতি ২০ শতাংশ থেকে বেড়ে ৫৬ শতাংশে পৌঁছেছে। আগামী দুই মাসের মধ্যে শতভাগ জমি হস্তান্তরের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। একই সময়ে প্রকল্পের মূল ভৌত কাজের অগ্রগতি প্রায় ২৭ শতাংশে পৌঁছেছে।

প্রকল্পটি মোট ১৩টি প্যাকেজে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। এর মধ্যে আটটি প্যাকেজে কাজ তুলনামূলকভাবে দ্রুত এগোলেও রূপগঞ্জ-ভুলতা এবং সরাইল-মাধবপুর অংশের পাঁচটি প্যাকেজের অগ্রগতি পিছিয়ে রয়েছে। এসব প্যাকেজের কাজ দ্রুত শেষ করতে বিশেষ নজরদারি ও ঠিকাদারদের ওপর চাপ বাড়ানো হয়েছে।

প্রকল্পের পরিকল্পনা অনুযায়ী, মহাসড়কটি ছয় লেনে উন্নীত হলে যানবাহনের চলাচল আরও সুশৃঙ্খল হবে। মূল দ্রুতগতির লেনের পাশাপাশি ধীরগতির যানবাহনের জন্য পৃথক সার্ভিস লেন রাখার পরিকল্পনা রয়েছে। এর ফলে বিভিন্ন গতির যানবাহনের চলাচল আলাদা করার মাধ্যমে সড়কের নিরাপত্তা বাড়ানোর লক্ষ্য রয়েছে।

প্রকল্পটি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে সম্পন্ন হলে ঢাকা থেকে সিলেটের যাতায়াতে সময় প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ ঘণ্টায় নামিয়ে আনার লক্ষ্য রয়েছে। এতে দীর্ঘ দূরত্বের যাত্রী ও পণ্যবাহী যানবাহনের চলাচলে সময় সাশ্রয় হতে পারে।

ঢাকা-সিলেট মহাসড়ক দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের সঙ্গে রাজধানী ও অন্যান্য অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক যোগাযোগের একটি প্রধান অংশ। সিলেট বিভাগের পাশাপাশি এই করিডোরের সঙ্গে যুক্ত বিভিন্ন জেলা, ব্যবসা-বাণিজ্য ও পর্যটনকেন্দ্রের যোগাযোগেও মহাসড়কটির গুরুত্ব রয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হলে সিলেট অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও পণ্য পরিবহনে সময় কমার পাশাপাশি তামাবিল স্থলবন্দরকেন্দ্রিক আন্তঃসীমান্ত বাণিজ্যেও যোগাযোগ সুবিধা বাড়তে পারে। একই সঙ্গে জাফলং, শ্রীমঙ্গলসহ সিলেট ও মৌলভীবাজার অঞ্চলের পর্যটনকেন্দ্রগুলোতে সড়ক যোগাযোগ আরও সহজ হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

তবে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্পটি শেষ করতে ভূমি অধিগ্রহণ, পিছিয়ে থাকা প্যাকেজগুলোর কাজ এবং নির্মাণকাজের গতি বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রকল্পের নির্ধারিত লক্ষ্য অনুযায়ী ২০২৯ সালের জুনের মধ্যে পুরো ২০৯ কিলোমিটার মহাসড়ক ছয় লেনে চালু করার পরিকল্পনা রয়েছে।

সূত্রঃ সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও প্রকল্পসংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের তথ্য

এমকে

আরো পড়ুন

জুলাই গণহত্যাঃ শেখ হাসিনা ও কামালের মৃত্যুদণ্ড, ট্রাইব্যুনালে ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা

নিউজ ডেস্ক

করোনাকালে লন্ডন ছেড়ে সিলেটে ১৬৫ প্রবাসী

অনলাইন ডেস্ক

ফারুকীকে প্রথম অভিনন্দন বার্তা জয়ের