TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

২৬ বছর যুক্তরাজ্যে বসবাসের পরও বহিষ্কারের মুখে জ্যামাইকান নাগরিক

যুক্তরাজ্যে টানা ২৬ বছর বসবাস, নিজস্ব ব্যবসা, পাঁচজন ব্রিটিশ সন্তান এবং একজন ব্রিটিশ জীবনসঙ্গী থাকা সত্ত্বেও জ্যামাইকান নাগরিক মার্ক নেলসনকে নিজ দেশে বহিষ্কারের উদ্যোগ নিয়েছে যুক্তরাজ্যের সরকার। গত সপ্তাহে ঘোষিত নতুন অভিবাসন বিলের অধীনে এটি বহিষ্কারের প্রথম দিককার আলোচিত ঘটনাগুলোর একটি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিষয়টি নতুন করে দেশটির কঠোর অভিবাসন নীতি এবং মানবাধিকার সুরক্ষা নিয়ে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

৪৬ বছর বয়সী মার্ক নেলসন ২০০০ সালে যুক্তরাজ্যে আসেন এবং পরে একটি গাড়ি মেরামতের ব্যবসা গড়ে তোলেন। তার পাঁচজন ব্রিটিশ সন্তান এবং একজন ব্রিটিশ জীবনসঙ্গী রয়েছেন। তবে ২০১৭ সালে গাঁজার গাছ চাষের দায়ে তিনি চার বছরের কারাদণ্ডে দণ্ডিত হন। নেলসনের দাবি, ব্যবসায় মারাত্মক আর্থিক সংকটের মুখে পড়েই তিনি ওই অপরাধে জড়িয়ে পড়েছিলেন। কারাভোগের পর থেকে তিনি আর কোনো অপরাধে জড়াননি।

২০২২ সালে বহিষ্কারের আশঙ্কা নিয়ে দ্য গার্ডিয়ান-এ লেখা এক নিবন্ধে নেলসন জানান, জ্যামাইকায় তার আর কোনো ঘনিষ্ঠ আত্মীয় বা পরিচিত নেই। যেসব প্রপিতামহ-প্রমাতামহ তাকে বড় করেছিলেন, তারা তার ১৬ বছর বয়সেই মারা যান। ফলে বহু বছর ধরে যুক্তরাজ্যই তার একমাত্র বাস্তব বাসস্থান।

এর আগে তার বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত স্থগিত করা হয়েছিল। পরিবর্তে তাকে ইলেকট্রনিক নজরদারির আওতায় রাখা হয় এবং প্রতি সপ্তাহে হোম অফিসের রিপোর্টিং সেন্টারে হাজিরা দিতে বলা হয়। কিন্তু গত বৃহস্পতিবার নিয়মিত হাজিরা দিতে গেলে তাকে গ্রেপ্তার করে আটক করা হয়। পরে জানানো হয়, সরকার তাকে জ্যামাইকায় ফেরত পাঠানোর পরিকল্পনা করছে।

হিথ্রো বিমানবন্দরের কাছে একটি অভিবাসন আটক কেন্দ্র থেকে নেলসন বলেন, আবারও বহিষ্কারের মুখোমুখি হওয়ায় তিনি মানসিকভাবে ভেঙে পড়েছেন। তার ভাষায়, হোম অফিসের এই পদক্ষেপ তার মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে এবং জীবনে প্রথমবারের মতো তাকে বিষণ্নতার ওষুধ গ্রহণ করতে হচ্ছে।

তিনি বলেন, শুধু তার নয়, তার পরিবারের সদস্যদের জীবনও এই সিদ্ধান্তে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। বিশেষ করে পাঁচ সন্তানকে ছেড়ে চলে যাওয়ার চিন্তা তাকে কষ্ট দিচ্ছে। তিনি জানান, নিজের অতীতের ভুলের কথা সন্তানদের কাছে খোলাখুলিভাবে বলেন, যাতে তারা একই ভুল না করে।

নেলসনের জীবনসঙ্গী র্যাচেল ডার্বিশায়ারও সরকারের সিদ্ধান্তের কঠোর সমালোচনা করেছেন। তার দাবি, নেলসন একজন শান্ত ও দায়িত্বশীল মানুষ। কিন্তু হোম অফিস তার সঙ্গে এমন আচরণ করছে, যেন তিনি অত্যন্ত ভয়ংকর কোনো অপরাধী।

এদিকে নতুন অভিবাসন বিলে বহিষ্কারসংক্রান্ত মামলায় পারিবারিক ও ব্যক্তিগত জীবনের অধিকার সুরক্ষাকারী ইউরোপীয় মানবাধিকার সনদের আর্টিকেল ৮ (Article 8) প্রয়োগের ক্ষেত্রে আরও কঠোর মানদণ্ড নির্ধারণ করা হয়েছে। যদিও আইনে ব্যতিক্রমী পরিস্থিতি—যেমন যুক্তরাজ্যের সমাজে একজন ব্যক্তির দীর্ঘমেয়াদি সম্পৃক্ততা, জন্মভূমিতে ফিরে গিয়ে পুনর্বাসনের বাস্তবতা এবং পরিবারের ওপর বহিষ্কারের প্রভাব—বিবেচনার সুযোগ রাখা হয়েছে, তবুও নেলসনের ক্ষেত্রে সরকার বহিষ্কারের সিদ্ধান্তে এগোচ্ছে বলে জানা গেছে।

এ ঘটনায় মানবাধিকারকর্মী ও অভিবাসন আইন বিশেষজ্ঞদের মধ্যে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। তাদের মতে, দীর্ঘদিনের বৈধ বসবাস, পরিবার এবং সমাজের সঙ্গে গভীর সম্পর্ক থাকা ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত মানবিক ও আইনি উভয় দিক থেকেই সতর্কতার সঙ্গে বিবেচনা করা উচিত।

এ বিষয়ে মন্তব্য জানতে যুক্তরাজ্যের হোম অফিসের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিকভাবে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।

সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান

এম.কে

আরো পড়ুন

গবেষণায় প্রকাশ, লন্ডন বিশ্বের সবচেয়ে ধীরগতি ও ব্যয়বহুল শহর গাড়ি চালকদের জন্য

নিউজ ডেস্ক

যুক্তরাজ্যে ক্যানসার চিকিৎসায় ৭ মিনিটের ইনজেকশন

বরিস জনসনের ৬ দফা প্রস্তাব