9.9 C
London
October 22, 2026
TV3 BANGLA
বাংলাদেশ

আজানে থামে পূজার আয়োজনঃ নামাজ শেষে শুরু আরতি—৫৪ বছর ধরে সম্প্রীতির বন্ধনে দুই সম্প্রদায়

বরিশালের গৌরনদী উপজেলার আধুনা গ্রামে একই মাঠে পাশাপাশি দাঁড়িয়ে আছে মসজিদ ও মন্দির। মাত্র ১০ ফুট দূরত্বে অবস্থিত দুই ধর্মীয় উপাসনালয়ে দীর্ঘ ৫৪ বছর ধরে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করে আসছেন মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ। পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের এই দৃষ্টান্ত স্থানীয় এলাকায় সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির অনন্য উদাহরণ হয়ে উঠেছে।

সনাতন ধর্মাবলম্বীদের প্রধান ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা উপলক্ষে এবারও মন্দিরটিতে আয়োজন করা হয়েছে পূজার অনুষ্ঠান। বরিশাল জেলার ৫৯০টি পূজামণ্ডপে দুর্গোৎসব উদযাপিত হচ্ছে। উৎসব শান্তিপূর্ণ রাখতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী মোতায়েনের পাশাপাশি স্থানীয় পর্যায়েও সম্প্রীতি বজায় রাখার উদ্যোগ রয়েছে।

গৌরনদী উপজেলার সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামের শেনেরহাট বাজার এলাকায় অবস্থিত শেনেরহাট বাজার জামে মসজিদ ও সার্বজনীন দুর্গা মন্দির। একই মাঠের এক পাশে মুসল্লিরা নামাজ আদায় করেন, অন্য পাশে পূজারি ও ভক্তরা পূজা-অর্চনা করেন। দুই সম্প্রদায়ের মানুষের মধ্যে বিরোধের পরিবর্তে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে পারস্পরিক সহযোগিতা ও সৌহার্দ্যের সম্পর্ক।

মন্দিরের পূজারি স্বপন ভট্টাচার্য বলেন, মসজিদে আজান শুরু হলে তারা পূজার অনুষ্ঠান সাময়িকভাবে বন্ধ রাখেন। নামাজ শেষ হলে আবার পূজার কার্যক্রম শুরু করেন। তার ভাষ্য, দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে দীর্ঘদিনের ভ্রাতৃত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এবং কেউ কখনো কারও ধর্মীয় কর্মকাণ্ডে বিরক্তির কারণ হননি। বরং উভয় সম্প্রদায়ের মানুষ নিজ নিজ উপাসনালয়ের প্রতি শ্রদ্ধাশীল।

স্থানীয় সমাজসেবক মাকসুদ মৃধা বলেন, এলাকার মানুষ মিলেমিশে নিজ নিজ ধর্মীয় আচার পালন করেন। পূর্বপুরুষেরাও একইভাবে সম্প্রীতি বজায় রেখেছেন। ছোটবেলা থেকেই তারা দুর্গাপূজা দেখতে মণ্ডপে যান, অন্যদিকে ঈদসহ বিভিন্ন অনুষ্ঠানে হিন্দু সম্প্রদায়ের প্রতিবেশীরাও অংশ নেন।

মন্দির কমিটির সভাপতি শংকর চন্দ্র দাস জানান, ১৯৭২ সালে আধুনা শেনের বাড়িতে সার্বজনীন দুর্গা মন্দির প্রতিষ্ঠা করা হয়। পরবর্তী সময়ে একই মাঠে জামে মসজিদ নির্মাণ করা হয়। এরপর থেকে পাশাপাশি দুই উপাসনালয়ে নিজ নিজ ধর্মীয় কার্যক্রম পরিচালিত হয়ে আসছে। ৫৪ বছর ধরে দুই সম্প্রদায়ের মানুষ এই সম্প্রীতির বন্ধন ধরে রেখেছেন বলে জানান তিনি।

আধুনা শেন জামে মসজিদের ইমাম মাওলানা কামরুল ইসলাম বলেন, এলাকায় ধর্ম নিয়ে বাড়াবাড়ির কোনো পরিবেশ নেই। মসজিদে আজান শুরু হলে হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষ ঢাকঢোলের শব্দ বন্ধ রাখেন। আজান ও নামাজ শেষ হলে তারা আবার পূজার কার্যক্রম শুরু করেন। বছরের পর বছর ধরে এভাবেই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান বজায় রয়েছে।

গৌরনদী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইব্রাহীম বলেন, সরিকল ইউনিয়নের আধুনা গ্রামের একই স্থানে মসজিদ ও মন্দির দীর্ঘদিন ধরে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে যাচ্ছে। সব ধর্ম ও বর্ণের মানুষের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সম্প্রীতি বজায় রেখে এমন সমাজ গড়ে তোলাই প্রত্যাশিত বলে মন্তব্য করেন তিনি।

সূত্রঃ বাসস

এমকে

আরো পড়ুন

বাংলাদেশসহ ৭৫ দেশের জন্য স্বস্তিঃ ট্রাম্প প্রশাসনের ভিসা নীতি আটকালো আদালত

খালেদা জিয়ার নামে ‘রাষ্ট্রদ্রোহী’ মামলার বাদী আটক

সিলিকন ভ্যালির চাকরি ছেড়ে বাংলাদেশে চিপ ডিজাইন প্রতিষ্ঠান গড়লেন এনায়েতুর রহমান