14.1 C
London
April 22, 2026
TV3 BANGLA
আমেরিকাবাংলাদেশ

আমেরিকায় ‘অমানবিকতা’ সহ্য করতে না পেরে স্বেচ্ছায় দেশে ফিরলেন বাংলাদেশি শিক্ষার্থী

যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চশিক্ষার স্বপ্ন নিয়ে পাড়ি জমানো এক বাংলাদেশি শিক্ষার্থীর গল্প শেষ হলো হতাশা, গ্রেপ্তার এবং মানসিকভাবে ভেঙে পড়ার মধ্য দিয়ে। আইসিই (ইমিগ্রেশন অ্যান্ড কাস্টমস এনফোর্সমেন্ট) হেফাজতে ‘অমানবিক’ পরিবেশের অভিযোগ তুলে শেষ পর্যন্ত নিজ উদ্যোগেই দেশত্যাগ করেন ২৪ বছর বয়সী জয়তু চৌধুরী।

২০২১ সালে এফ-ওয়ান স্টুডেন্ট ভিসায় যুক্তরাষ্ট্রে গিয়ে ইলিনয় ওয়েসলিয়ান বিশ্ববিদ্যালয়ে ফাইন্যান্স বিষয়ে পড়াশোনা শুরু করেন তিনি। পাশাপাশি কম্পিউটার সায়েন্সে মাইনর করছিলেন। সবকিছু ঠিকঠাক চললেও ২০২৫ সালের আগস্টে হঠাৎ করেই তার ভিসা স্ট্যাটাস বাতিল হয়ে যায়, যা তার জীবনে বড় ধরনের অনিশ্চয়তা তৈরি করে।

জয়তুর ভাষ্য অনুযায়ী, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পরিবর্তনজনিত জটিলতার পাশাপাশি অতীতে ঘটে যাওয়া কিছু আইনি সমস্যাও পরিস্থিতিকে জটিল করে তোলে। এর মধ্যে মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানো এবং খুচরা চুরির একটি মামলা ছিল, যার জন্য তিনি অনুতাপ প্রকাশ করেছেন।

২০২৫ সালের ৩ ডিসেম্বর আইসিই কর্মকর্তাদের হাতে গ্রেপ্তারের পর শুরু হয় তার দুঃসহ অধ্যায়। তাকে এক অঙ্গরাজ্য থেকে আরেক অঙ্গরাজ্যের বিভিন্ন হেফাজত কেন্দ্রে স্থানান্তর করা হয়। দীর্ঘ সময় ধরে আটক অবস্থায় থাকা তার মানসিক ও আবেগিক স্থিতি মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করে।

এক সাক্ষাৎকারে জয়তু বলেন, শুরুতে তিনি নিজের আইনি লড়াই চালিয়ে যেতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে গড়ে তোলা জীবন ধরে রাখতে দৃঢ় ছিলেন। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে হেফাজতের পরিবেশ তাকে ভেঙে দেয়। তিনি বলেন, “এক পর্যায়ে আমি সম্পূর্ণভাবে ক্লান্ত, বিপর্যস্ত এবং অনিশ্চয়তায় ডুবে যাই। মনে হয়েছে, আমার সামনে আর কোনো পথ নেই। তখনই আমি নিজেই দেশ ছাড়ার সিদ্ধান্ত নিই।”

তিনি আরও অভিযোগ করেন, আইসিই হেফাজত কেন্দ্রগুলোর পরিবেশ অত্যন্ত অমানবিক এবং সেখানে পর্যাপ্ত চিকিৎসা সুবিধা নেই। তার মতে, এমন পরিবেশ অনেক আটক ব্যক্তিকে ধীরে ধীরে মানসিকভাবে ভেঙে দেয় এবং স্বেচ্ছায় দেশত্যাগে বাধ্য করে।

তবে এসব অভিযোগ সরাসরি নাকচ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের স্বরাষ্ট্র নিরাপত্তা বিভাগ। সংস্থাটির দাবি, তাদের হেফাজত কেন্দ্রগুলোতে প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সুবিধা ও মৌলিক মান বজায় রাখা হয়। এছাড়া দেশে ফেরার টিকিট সংক্রান্ত অভিযোগের জবাবে তারা জানায়, জয়তুর জন্য সরকারিভাবে একটি টিকিটের ব্যবস্থা করা হয়েছিল এবং এতে তার কোনো অর্থ ব্যয় হয়নি।

বর্তমানে বাংলাদেশে ফিরে জয়তু চৌধুরী অনিশ্চিত বাস্তবতার মুখোমুখি। জীবিকা নির্বাহ ও ভবিষ্যৎ নিয়ে দুশ্চিন্তার মধ্যেই দিন কাটছে তার। এরই মধ্যে তাকে পুনরায় যুক্তরাষ্ট্রে ফিরিয়ে নেওয়ার লক্ষ্যে আইনি সহায়তার জন্য আমেরিকায় একটি তহবিল সংগ্রহ কার্যক্রম শুরু হয়েছে।

জয়তুর স্ত্রী অ্যাশলি ইয়ামিলেট, যিনি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও একজন শিক্ষার্থী, এখনও সেখানে অবস্থান করছেন। পুরো ঘটনাটি অভিবাসন নীতি, মানবাধিকার এবং আটক কেন্দ্রগুলোর বাস্তবতা নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

সূত্রঃ টাইমস অব ইন্ডিয়া

এম.কে

আরো পড়ুন

ব্যাপক তুষার ঝড়ে যুক্তরাষ্ট্রে নিহত ৫৫

অনলাইন ডেস্ক

ঢাকা মেডিকেলসহ সারা দেশের হাসপাতাল শাটডাউনের ডাক

সাবেক শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ গ্রেপ্তার