ব্রিটেনে জরুরি ভিত্তিতে জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদনের ক্ষেত্রে নতুন কড়াকড়ি আরোপ করতে যাচ্ছে অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কোর্ট। আগামী ১৯ অক্টোবর ২০২৬ থেকে জরুরি বিবেচনার জন্য করা আবেদন পরীক্ষা করার সময় আদালত মূলত ফর্ম এন৪৬৩-এর তথ্যের ওপরই নির্ভর করবে। ফলে আবেদনটি কেন জরুরি, তা ওই ফর্মেই স্পষ্টভাবে তুলে ধরতে হবে।
ইমিগ্রেশন ও আশ্রয়সংক্রান্ত মামলায় সময়সীমা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হওয়ায় নতুন এই পরিবর্তন আইনজীবী ও আবেদনকারীদের জন্য বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে।
ফ্রি মুভমেন্টের ৮ অক্টোবরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বর্তমানে কোনো জুডিশিয়াল রিভিউ আবেদন জরুরি ভিত্তিতে বিবেচনার প্রয়োজন রয়েছে কি না, তা বোঝাতে আইনজীবীরা মামলার অন্যান্য নথিতে থাকা তথ্যও ব্যবহার করতে পারেন। কিন্তু ১৯ অক্টোবর থেকে এই সুযোগ থাকবে না। আদালত জরুরি বিবেচনার বিষয়টি নির্ধারণের সময় ফর্ম এন৪৬৩-কে আলাদাভাবে দেখবে।
অর্থাৎ, কোনো আবেদন দ্রুত শুনানি বা জরুরি বিবেচনার জন্য উপযুক্ত কেন—সেটি আবেদনের সঙ্গে থাকা অন্য নথিতে উল্লেখ থাকলেও শুধু সেই তথ্যের ওপর নির্ভর করা যাবে না। ফর্ম এন৪৬৩-এর মধ্যেই জরুরিতার কারণ পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে হবে।
এই পরিবর্তনের কথা জানিয়ে নতুন একটি প্র্যাকটিস স্টেটমেন্ট জারি করেছেন বিচারপতি মি. জাস্টিস চেম্বারলেন। এটি ৩০ সেপ্টেম্বর ২০২৬ জারি করা হয়।
আদালতের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, জরুরি বিবেচনার জন্য করা আবেদনের সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়ে যাওয়ায় অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ কোর্টের প্রশাসনিক ও বিচারিক সম্পদের ওপর চাপ তৈরি হয়েছে। নতুন পদ্ধতির মাধ্যমে জরুরি আবেদনের বিষয়টি আরও সুস্পষ্ট ও কার্যকরভাবে যাচাই করার ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
ইমিগ্রেশন আইনজীবীদের জন্য এর অর্থ হলো, কোনো সময়-সংবেদনশীল সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে জরুরি জুডিশিয়াল রিভিউ করতে চাইলে ফর্ম এন৪৬৩ অত্যন্ত সতর্কতার সঙ্গে পূরণ করতে হবে। আবেদনের জরুরি হওয়ার কারণ, কেন দ্রুত আদালতের হস্তক্ষেপ প্রয়োজন এবং বিলম্ব হলে কী ধরনের সমস্যা তৈরি হতে পারে—এসব বিষয় ফর্মেই যথেষ্ট পরিষ্কারভাবে তুলে ধরতে হবে।
তবে এই পরিবর্তনের অর্থ জুডিশিয়াল রিভিউয়ের অধিকার বন্ধ হয়ে যাওয়া নয়। মূলত জরুরি ভিত্তিতে কোনো আবেদন বিবেচনার ক্ষেত্রে আদালতের প্রাথমিক যাচাইয়ের পদ্ধতিতে পরিবর্তন আনা হচ্ছে।
সূত্রঃ ফ্রি মুভমেন্ট
এমকে

