ইরানে চলমান সরকারবিরোধী বিক্ষোভ দমনে প্রাণঘাতী দমন-পীড়ন বন্ধ হচ্ছে বলে দাবি করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। বুধবার তিনি বলেন, “নির্ভরযোগ্য সূত্রে” তিনি জানতে পেরেছেন যে ইরানে হত্যাকাণ্ড থামছে এবং অভিযুক্ত বিক্ষোভকারীদের ফাঁসির কোনো পরিকল্পনাও নেই।
বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসের ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমাদের জানানো হয়েছে যে ইরানে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হচ্ছে—এটি বন্ধ হয়েছে, বন্ধ হচ্ছে। এবং কোনো ফাঁসির পরিকল্পনা নেই। একটিও নয়, একাধিকও নয়।” তিনি যোগ করেন, এই তথ্য এসেছে “অপর পক্ষের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সূত্র” থেকে এবং বিষয়টি শিগগিরই যাচাই করা হবে।
এর এক দিন আগে, মঙ্গলবার, সিবিএস ইভিনিং নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন, সরকারবিরোধী বিক্ষোভকারীদের ফাঁসি দেওয়া হলে ইরানি সরকারের বিরুদ্ধে “খুব শক্ত পদক্ষেপ” নেওয়া হবে। সেই প্রেক্ষাপটেই তার সাম্প্রতিক মন্তব্য আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে।
সিবিএস নিউজের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, ইরানে চলমান অস্থিরতা দমনে নিরাপত্তা বাহিনীর অভিযানে অন্তত ১২ হাজার মানুষ নিহত হয়েছে। দুটি সূত্রের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, নিহতের প্রকৃত সংখ্যা ২০ হাজার পর্যন্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ট্রাম্প জানান, তার কাছে আসা তথ্যে বলা হয়েছে, বুধবারই ব্যাপকসংখ্যক ফাঁসি কার্যকর হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত সেগুলো হচ্ছে না। “তারা বলেছে হত্যাকাণ্ড বন্ধ হয়েছে এবং ফাঁসিগুলোও হবে না। আজ অনেক ফাঁসি হওয়ার কথা ছিল—কিন্তু সেগুলো হবে না,” বলেন তিনি।
একজন সাংবাদিক জানতে চান, এই পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিকল্প কি আর বিবেচনায় নেই। জবাবে ট্রাম্প বলেন, “আমরা দেখব প্রক্রিয়াটি কীভাবে এগোয়।” অর্থাৎ সামরিক পদক্ষেপ পুরোপুরি বাতিল করা হয়নি, তবে আপাতত পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এর আগে ট্রাম্প ইরানের জনগণকে উদ্দেশ করে বলেছিলেন, “সহায়তা আসছে।” যদিও তিনি এর বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেননি, তবে ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য অনুযায়ী, প্রেসিডেন্টের হাতে একাধিক বিকল্প রয়েছে—প্রচলিত সামরিক হামলা থেকে শুরু করে সাইবার অভিযানের মতো কৌশলও এর অন্তর্ভুক্ত।
এই পরিস্থিতিতে ইরানে বাস্তবেই সহিংসতা বন্ধ হয় কি না এবং যুক্তরাষ্ট্র কী ধরনের পদক্ষেপ নেয়—সেদিকে এখন নজর আন্তর্জাতিক মহলের।
সূত্রঃ সিবিএস নিউজ
এম.কে

