7.6 C
London
February 5, 2026
TV3 BANGLA
যুক্তরাজ্য (UK)

ইরানবিরোধী আন্দোলনের ঢেউ লন্ডনেঃ দূতাবাস থেকে নামানো হলো তেহরানের পতাকা

লন্ডনে অবস্থিত ইরানি দূতাবাসে নাটকীয় বিক্ষোভের ঘটনা ঘটেছে। এক বিক্ষোভকারী দূতাবাস ভবনের সামনের অংশ বেয়ে উঠে ব্যালকনিতে পৌঁছে ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পতাকা নামিয়ে ফেলেন এবং তার পরিবর্তে প্রাক্-বিপ্লবী ইম্পেরিয়াল ইরানের ‘সিংহ ও সূর্য’ প্রতীকযুক্ত পতাকা উত্তোলন করেন। এই পতাকাটি বহু বছর ধরে ইরানি সরকার নিষিদ্ধ করে রেখেছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ও ছবিতে দেখা যায়, হাইড পার্কের বিপরীতে অবস্থিত দূতাবাস ভবনের সামনে জড়ো হওয়া শত শত ইরানবিরোধী সমর্থক ওই বিক্ষোভকারীকে উল্লাস ও স্লোগানের মাধ্যমে উৎসাহ দেন। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ইরানে চলমান সরকারবিরোধী আন্দোলনের প্রতি সংহতি জানাতেই এই প্রতীকী পদক্ষেপ নেওয়া হয়।

পুলিশ জানায়, ঘটনার সময় দূতাবাস এলাকায় ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা নেওয়া হয়। অন্তত ১৩টি টেরিটোরিয়াল পুলিশ ভ্যান ও পাঁচটি নিয়মিত পুলিশ ভ্যান মোতায়েন করা হয়। দুইজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে—একজনকে গুরুতর অনধিকার প্রবেশ ও জরুরি সেবাকর্মীর ওপর হামলার অভিযোগে এবং অন্যজনকে গুরুতর অনধিকার প্রবেশের অভিযোগে। স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড জানায়, বড় ধরনের কোনো বিশৃঙ্খলা হয়নি এবং দূতাবাসের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পুলিশ সদস্যরা এলাকায় অবস্থান করছেন।

বিক্ষোভকারীর উত্তোলিত পতাকাটি বর্তমানে ইরানের গণতান্ত্রিক বিরোধী আন্দোলনের একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক। পতাকাটিতে সবুজ, সাদা ও লাল রঙের মাঝে সূর্যের সামনে তলোয়ারধারী একটি সিংহের প্রতীক রয়েছে। কিছু সময় পর দূতাবাসের এক কর্মকর্তা ভবনের ভেতর থেকে ব্যালকনিতে উঠে পতাকাটি নামিয়ে ফেলেন, এ সময় ভিড়ের মধ্য থেকে দুয়োধ্বনি শোনা যায়।

ইরানে সরকারবিরোধী বিক্ষোভ শুরু হয় গত ২৮ ডিসেম্বর থেকে। কয়েক সপ্তাহের আন্দোলনে ডজনখানেক মানুষ নিহত এবং ২ হাজার ৩০০-এর বেশি মানুষ গ্রেপ্তার হয়েছেন বলে বিভিন্ন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে। অর্থনৈতিক সংকট, দমনমূলক নীতি ও রাজনৈতিক স্বাধীনতার অভাব এই আন্দোলনের মূল কারণ হিসেবে উঠে এসেছে।

লন্ডনের বিক্ষোভে অংশ নেওয়া ব্রিটিশ-ইরানি নাগরিক মোরাদ আলিজানি জানান, ইরানে তার বৃদ্ধ বাবা-মা বিক্ষোভে অংশ নিচ্ছেন, যা তাকে গভীরভাবে নাড়া দিয়েছে। তিনি বলেন, “এটা শুধু প্রতিবাদ নয়, এটা একটি বিপ্লব। তরুণ প্রজন্ম আর ভয় পাচ্ছে না।” তিনি ব্রিটিশ সরকারের ভূমিকা নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন এবং ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ড নিষিদ্ধ না করার সমালোচনা করেন।

আরেক বিক্ষোভকারী, ৩৪ বছর বয়সী ইরানি চিকিৎসক সেপি দোরোস্তকার বলেন, ২০২২ সালের ‘নারী, জীবন, স্বাধীনতা’ আন্দোলনের সময় গুলিবিদ্ধ হওয়ার পর তিনি দেশ ছাড়তে বাধ্য হন। তার মতে, পশ্চিমা দেশগুলোর এখনই কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুযোগ রয়েছে এবং এবারের আন্দোলন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে আলাদা।

বিক্ষোভ চলাকালে দূতাবাসের বাইরে পাহলভি রাজবংশের পতাকা হাতে মোটরসাইকেল মিছিল দেখা যায়। কয়েকজন বিক্ষোভকারী ইসরায়েলের পতাকাও বহন করেন। অংশগ্রহণকারীদের অনেকেই দাবি করেন, ইরানের বর্তমান শাসকগোষ্ঠীর পতন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি সম্ভাব্য হয়ে উঠেছে।

এদিকে যুক্তরাজ্যের প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমার ইরানে বিক্ষোভ দমনের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে তেহরানকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানিয়েছেন। ফ্রান্স ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে দেওয়া যৌথ বিবৃতিতে তিনি বিক্ষোভকারীদের হত্যার তীব্র নিন্দা জানান এবং মতপ্রকাশ ও শান্তিপূর্ণ সমাবেশের অধিকার নিশ্চিত করার আহ্বান জানান।

বিশ্লেষকদের মতে, লন্ডনে ইরানি দূতাবাসে এই প্রতীকী পতাকা বদলের ঘটনা শুধু প্রবাসী ইরানিদের ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ নয়, বরং আন্তর্জাতিক অঙ্গনে তেহরানবিরোধী চাপ আরও দৃশ্যমান হয়ে ওঠার একটি গুরুত্বপূর্ণ ইঙ্গিত।

সূত্রঃ দ্য টেলিগ্রাফ

এম.কে

আরো পড়ুন

বৈদ্যুতিক এয়ার ট্যাক্সির প্রথম সফল উড্ডয়ন

শেষ কয়েকটা মাস ক্যানসারে ভুগেছেন রানি দ্বিতীয় এলিজাবেথ

অনলাইন ডেস্ক

ইংল্যান্ডে ভ্যাকসিন পাসপোর্ট, ওয়ার্ক ফ্রম হোম ও মাস্ক ব্যবহারের কঠোর নীতি ঘোষণা

অনলাইন ডেস্ক