ইরানকে ঘিরে চলমান উত্তেজনার মধ্যে সম্ভাব্য মার্কিন স্থল অভিযানে ইসরায়েলি বাহিনী অংশ নেবে না বলে দেশটির গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র যদি ইরানের বিরুদ্ধে স্থল আক্রমণ চালায়, তবে ইসরায়েল সরাসরি সেই যুদ্ধে অংশগ্রহণ করবে না এবং পুরো দায়িত্ব মার্কিন বাহিনীর ওপরই ছেড়ে দেবে।
প্রতিবেদনটি এমন সময় সামনে এসেছে, যখন ওয়াশিংটনে সম্ভাব্য সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে জোরালো আলোচনা চলছে। জানা গেছে, মার্কিন প্রতিরক্ষা দপ্তর সীমিত আকারের অভিযানের বিভিন্ন পরিকল্পনা প্রস্তুত করছে। তবে হোয়াইট হাউস এখনো নিশ্চিত করেনি যে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এ ধরনের কোনো স্থল অভিযানের অনুমোদন দিয়েছেন কিনা।
অন্যদিকে, ইরান স্পষ্ট হুমকি দিয়ে জানিয়েছে, তাদের ভূখণ্ডে কোনো বিদেশি সেনা প্রবেশ করলে কঠোর প্রতিশোধ নেওয়া হবে। ইরানি কর্মকর্তারা সতর্ক করে বলেছেন, মার্কিন বাহিনী স্থল অভিযান শুরু করলে তা ভয়াবহ সংঘর্ষে রূপ নেবে এবং আক্রমণকারী বাহিনী মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বে।
সামরিক বিশ্লেষকদের মতে, ইরানে স্থল আক্রমণ শুরু করা বড় ধরনের কৌশলগত ভুল হতে পারে। রবার্ট পেপে, যিনি নিরাপত্তা বিষয়ে বিশেষজ্ঞ, তিনি সতর্ক করে বলেছেন যে অতীতের যুদ্ধের অভিজ্ঞতা দেখায়—একটি আকাশভিত্তিক সংঘাত দ্রুত স্থলযুদ্ধে রূপ নিতে পারে। তার মতে, বর্তমান পরিস্থিতিতে একই ধরনের লক্ষণ দেখা যাচ্ছে এবং আগামী কয়েকদিন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে।
এদিকে, ইসরায়েলের এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে যুদ্ধবিরোধী গোষ্ঠী ও জাতীয়তাবাদী মতাদর্শের সমর্থকদের মধ্যে অসন্তোষ বেড়েছে। তাদের অভিযোগ, ইসরায়েলের প্রভাবে শুরু হওয়া এই সংঘাতে ঝুঁকি বহন করতে হচ্ছে মার্কিন সেনাদের, অথচ ইসরায়েল নিজে সরাসরি স্থল যুদ্ধে অংশ নিচ্ছে না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও এ নিয়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। অনেক প্রভাবশালী ব্যবহারকারী ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রশ্ন তুলেছেন, কেন যুক্তরাষ্ট্রকে এমন একটি যুদ্ধে জড়ানো হচ্ছে যেখানে মিত্র দেশ নিজেই সামনের সারিতে অংশ নিতে অনাগ্রহী।
সব মিলিয়ে, ইরানকে ঘিরে সম্ভাব্য স্থল অভিযান শুধু সামরিক দিক থেকেই নয়, রাজনৈতিকভাবেও বড় ধরনের বিতর্ক তৈরি করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পরিস্থিতি আরও জটিল আকার ধারণ করতে পারে এবং যুদ্ধের গতিপথ নির্ধারণে আগামী সময় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।
সূত্রঃ দ্য মিডল ইস্ট মনিটর
এম.কে

