ইসরায়েলে নতুন সরকার গঠন নিয়ে রাজনৈতিক তৎপরতা আরও জোরালো হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে ক্ষমতার বাইরে রাখতে বিরোধী দলগুলো ঐক্যবদ্ধ হওয়ার চেষ্টা করছে। এরই মধ্যে অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে জোট গঠনের ক্ষেত্রে নিজের আপত্তি তুলে নিয়েছেন বলে খবর প্রকাশিত হয়েছে ইসরায়েল বেইতেনু পার্টির নেতা আভিগদর লিবারম্যানের।
বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম এন১২-এর সাংবাদিক আমিত সেগাল জানান, লিবারম্যান অতি-ধর্মীয় দলগুলোর সঙ্গে সরকার গঠনের বিষয়ে তার আগের আপত্তি প্রত্যাহার করেছেন। এর ফলে বিরোধী জোটের পক্ষে ইউনাইটেড তোরাহ জুডাইজমের (ইউটিজে) সঙ্গে আলোচনা শুরুর সুযোগ তৈরি হয়েছে। প্রতিবেদনে বলা হয়, সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের আইন তুলনামূলক শিথিল করার সম্ভাবনা নিয়েও আলোচনা চলছে।
তবে লিবারম্যানের দল ইসরায়েল বেইতেনু এ খবর অস্বীকার করেছে। দ্য জেরুজালেম পোস্টকে দেওয়া এক বিবৃতিতে দলটি জানায়, এ ধরনের কোনো সিদ্ধান্তের বিষয়ে তারা অবগত নয় এবং আগের অবস্থানের কোনো পরিবর্তন হয়নি।
এদিকে ইসরায়েলের পরবর্তী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে বিরোধী জোটের প্রার্থী গাদি আইজেনকোটকে দায়িত্ব দেওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। প্রেসিডেন্ট আইজ্যাক হারজগের সঙ্গে রাজনৈতিক দলগুলোর পরামর্শ সভা বৃহস্পতিবার শেষ হওয়ার পথে ছিল। নাফতালি বেনেটের নেতৃত্বাধীন বি’ইয়াহাদ পার্টিও আইজেনকোটের প্রতি সমর্থন জানিয়েছে। এর আগে ইয়াইর গোলান ও আভিগদর লিবারম্যানও তাকে সমর্থনের কথা জানান।
ইসরায়েলের পার্লামেন্ট নেসেটের ১২০টি আসনের মধ্যে নেতানিয়াহুর লিকুদ পার্টি পেয়েছে ২৭টি আসন। আইজেনকোটের ইয়াশার পার্টি পেয়েছে ২১টি এবং নাফতালি বেনেটের বি’ইয়াহাদ পার্টি পেয়েছে ১২টি আসন। নির্বাচনের পর নেতানিয়াহুর জোট ৫৩টি আসন পেলেও সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি। অন্যদিকে আইজেনকোটের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট পেয়েছে ৪৮টি আসন।
আরব দলগুলো সম্মিলিতভাবে ১৯টি আসন পাওয়ায় সরকার গঠনের সমীকরণে তাদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। জয়েন্ট লিস্ট ও রা’আম—দুই পক্ষই আইজেনকোটকে প্রধানমন্ত্রী করার জন্য প্রেসিডেন্টের কাছে সুপারিশ করেছে। জয়েন্ট লিস্ট জানিয়েছে, নেতানিয়াহুকে আবার ক্ষমতায় আসা থেকে ঠেকানোর ক্ষেত্রে তাদের এ সিদ্ধান্ত গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ।
তবে আরব দলগুলোর সমর্থন নিয়ে নেতানিয়াহু বিরোধীদের সমালোচনা করেছেন। রা’আম নেতা মনসুর আব্বাস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে আলোচনায় হামাসকে স্পষ্টভাবে সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করতে রাজি না হওয়ায় নেতানিয়াহু তার সমালোচনা করেন। তিনি অভিযোগ করেন, আরব দলগুলোর সমর্থন ছাড়া আইজেনকোট সরকার গঠন করতে পারবেন না।
এদিকে জেরুজালেমে প্রেসিডেন্টের বাসভবনের বাইরে প্রায় ৪০০ মানুষ বিক্ষোভ করেছেন। তাদের দাবি, নেতানিয়াহু ও আইজেনকোট রাজনৈতিক মতপার্থক্য দূরে রেখে একটি জাতীয় ঐক্যের সরকার গঠন করুন।
অন্যদিকে নেসেটের নতুন স্পিকার নির্বাচন নিয়েও রাজনৈতিক বিরোধ দেখা দিয়েছে। আরব দল রা’আমের আট সদস্যের পক্ষে দলটির নেতা ওয়ালিদ আল-হাওয়াশলা বর্তমান স্পিকার আমির ওহানার কাছে জরুরি আবেদন জানিয়েছেন। নতুন নেসেটের উদ্বোধনী অধিবেশনে নবনির্বাচিত সদস্যদের শপথ গ্রহণের পাশাপাশি স্পিকার নির্বাচনের ভোট আয়োজনের দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেরুজালেম পোস্টের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ২৭ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ভোটার উপস্থিতি ছিল ৭৭ দশমিক ৭ শতাংশ, যা ২০২২ সালের নির্বাচনের তুলনায় ৭ দশমিক ১ শতাংশ বেশি। প্রেসিডেন্ট হারজগ আনুষ্ঠানিক ফল প্রকাশের পর দলগুলোর সঙ্গে পরামর্শ করে সরকার গঠনের দায়িত্ব দেবেন কোনো একজন আইনপ্রণেতাকে। মনোনীত প্রার্থী সরকার গঠনের জন্য প্রথমে ২৮ দিন সময় পাবেন; প্রয়োজনে আরও ১৪ দিন সময় বাড়ানো হতে পারে। নির্ধারিত সময়ে কেউ সরকার গঠন করতে ব্যর্থ হলে দেশটিতে আবারও নির্বাচনের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে।
সূত্রঃ দ্য জেরুজালেম পোস্ট
এমকে

