স্পেনের সর্বোচ্চ ফৌজদারি আদালত আবারও ইসরায়েলি তৈরি পেগাসাস স্পাইওয়্যার ব্যবহার করে প্রধানমন্ত্রী ও অন্যান্য সিনিয়র মন্ত্রীদের ফোন লক্ষ্য করার তদন্ত স্থগিত করেছে। আদালতের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের ধারাবাহিক সহযোগিতা না থাকার কারণে মামলাটি কার্যকরভাবে এগিয়ে নিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়নি। বিচারক হোসে লুইস কালামা বলেছেন, এ ধরনের আচরণ আন্তর্জাতিক আইনি চুক্তির লঙ্ঘন এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে সৎ বিশ্বাসের নীতির পরিপন্থী।
মে ২০২২ সালে এই তদন্ত শুরু হয়, যখন স্পেনের সরকার প্রকাশ করে যে প্রধানমন্ত্রী পেদ্রো সানচেজ এবং প্রতিরক্ষা মন্ত্রী মার্গারিটা রব্লেসের ফোনে পেগাসাস সংক্রমিত হয়েছিল। পরে জানা যায়, দেশটির অন্তর মন্ত্রী ও কৃষি মন্ত্রীর ফোনও লক্ষ্য করা হয়েছে। ঘটনার পর দেশীয় গোয়েন্দা প্রধান পাজ এস্তেবানকে বরখাস্ত করা হয় এবং জাতীয় গোয়েন্দা কেন্দ্রের (CNI) কিছু অপূর্ণতা স্বীকার করা হয়।
আদালত পূর্বে জুলাই ২০২৩ সালে তদন্ত বন্ধ করেছিলেন, তবে ফরাসি কর্তৃপক্ষের দেওয়া নতুন তথ্যের ভিত্তিতে তা পুনরায় খোলা হয়। ফ্রান্স থেকে প্রাপ্ত খবর সুনির্দিষ্টভাবে কোনো নতুন তথ্য দেয়নি, যা স্পেনীয় রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য করা ব্যক্তিকে চিহ্নিত করতে সহায়ক হতো।
বিচারক কালামা জানান, NSO গ্রুপের প্রধান নির্বাহীর সঙ্গে সাক্ষাৎ নেওয়ার অনুরোধসহ ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ বিভিন্ন বিষয়ে অনুসন্ধানে সাহায্য করে নাই। এর ফলে তদন্ত “থমকে” রয়েছে এবং শুধুমাত্র নতুন প্রমাণ বা ইসরায়েলের সম্ভাব্য সহযোগিতার ভিত্তিতে তা পুনরায় চালু হতে পারে।
NSO গ্রুপ বিবৃতিতে বলেছে, রাজনীতিবিদ, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মীদের নজরদারির জন্য প্রযুক্তি ব্যবহার “গুরুতর অপব্যবহার” এবং এটি কোম্পানির কাঙ্খিত ব্যবহার নয়।
পেগাসাস সংক্রান্ত বিতর্ক কাতালান স্বাধীনতাবাদী রাজনীতিবিদদের লক্ষ্য করার ঘটনায়ও প্রমাণিত হয়েছে। ২০১৭ থেকে ২০২০ সালের মধ্যে অন্তত ৬৩ জন কাতালান স্বাধীনতাবাদী ব্যক্তির ফোনে নজরদারি বা সংক্রমণ ঘটেছিল, যার মধ্যে ১৮ জনকে CNI আইনি অনুমোদনের মাধ্যমে নজরদারি করেছিল।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

