TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিক

ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায় প্রো-হামাস স্লোগান, নিউইয়র্ক রাজ্যজুড়ে নিন্দার ঝড়

যুক্তরাষ্ট্রের কুইন্সে একটি সিনাগগের সামনে বৃহস্পতিবার রাতে প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান বিক্ষোভে “আমরা এখানে হামাসকে সমর্থন করি” স্লোগান ঘিরে নিউইয়র্কের রাজনীতি উত্তপ্ত হয়ে উঠেছে। ইহুদি অধ্যুষিত এলাকায় এমন বক্তব্য দ্রুতই রাজ্য ও শহরের শীর্ষ পর্যায়ের নেতাদের নিন্দার মুখে পড়ে। তবে ঘটনার পর দীর্ঘ সময় নীরব থাকায় সমালোচনার কেন্দ্রে চলে আসেন নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি।

বিক্ষোভের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার পর গভর্নর, সিটি কাউন্সিল স্পিকার, বরো প্রেসিডেন্ট, কংগ্রেস সদস্য ও স্থানীয় অ্যাসেম্বলি সদস্যরা একের পর এক বিবৃতি দিয়ে স্লোগানটির তীব্র নিন্দা জানান। এর বিপরীতে, শুক্রবার দুপুর পর্যন্ত মেয়রের প্রেস টিম বা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক বক্তব্য দেখা যায়নি, যা রাজনৈতিক মহলে প্রশ্নের জন্ম দেয়।

চাপের মুখে পড়ে মামদানি শেষ পর্যন্ত এক সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেন। একটি রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে গাড়িতে ওঠার সময় তিনি বলেন, “এই ভাষা ভুল। নিউইয়র্ক সিটিতে এই ধরনের ভাষার কোনো স্থান নেই।” তবে কোনো লিখিত বিবৃতি বা আনুষ্ঠানিক বক্তব্য না আসায় তার প্রতিক্রিয়াকে অনেকেই অপর্যাপ্ত বলে মনে করছেন।

এই ঘটনা নিউইয়র্কে প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান আন্দোলন ও ইহুদিবিদ্বেষের মধ্যকার সংবেদনশীল সীমারেখাকে আবারও সামনে এনে দিয়েছে। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ইহুদি জনগোষ্ঠীর শহর হিসেবে নিউইয়র্কে এ ধরনের স্লোগান বিশেষভাবে উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা। একই সঙ্গে মামদানির রাজনৈতিক উত্থানের পর শহর ও রাজ্যজুড়ে প্রো-প্যালেস্টিনিয়ান আন্দোলনে উজ্জীবিত ডেমোক্র্যাটিক প্রাইমারি চ্যালেঞ্জগুলোও এই বিতর্ককে আরও তীব্র করছে।

শহরের সাবেক কম্পট্রোলার ব্র্যাড ল্যান্ডার এই স্লোগানকে “জঘন্য ইহুদিবিদ্বেষ” বলে আখ্যা দেন। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে ভূমি বিক্রির বিরোধিতা করা যায়, কিন্তু তা কখনোই সন্ত্রাসবাদ বা ইহুদিদের গণহত্যার সমর্থন হতে পারে না। একই সুরে বক্তব্য দেন সিনেট সংখ্যালঘু নেতা চাক শুমার ও নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস।

ইসরায়েলপন্থী রাজনীতিক ও কর্মীরা মেয়রের নীরবতা নিয়ে সরাসরি প্রশ্ন তুলেছেন। তাদের দাবি, এমন স্পষ্ট হামাসপন্থী বক্তব্যের বিরুদ্ধে মেয়রের তাৎক্ষণিক ও জোরালো অবস্থান নেওয়া উচিত ছিল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই অভিযোগ করেছেন, মামদানির রাজনৈতিক অতীত ও বিডিএস আন্দোলনের প্রতি তার সমর্থন এই নীরবতার পেছনে ভূমিকা রাখতে পারে।

বিক্ষোভটি অনুষ্ঠিত হয়েছিল ইসরায়েলে বসবাসের সুযোগ নিয়ে একটি তথ্যসভা ঘিরে প্রতিবাদ জানাতে। বিক্ষোভের প্রচারণায় “চুরি করা ফিলিস্তিনি ভূমি বিক্রি বন্ধ করো” শিরোনামের গ্রাফিক ব্যবহৃত হয়েছিল, যা বিতর্ককে আরও উসকে দেয়।

এর আগে মেয়র হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর মামদানি সাবেক মেয়র এরিক অ্যাডামসের জারি করা ইহুদিবিদ্বেষ সংক্রান্ত নির্বাহী আদেশ বাতিল করেন এবং অতীতে তিনি বিডিএস আন্দোলনের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেছেন। যদিও তিনি ইসরায়েলের অস্তিত্বের অধিকার স্বীকার করেন, ইহুদি রাষ্ট্র হিসেবে ইসরায়েলকে সমর্থন করেন না বলে আগেও মন্তব্য করেছেন।

সব মিলিয়ে, কুইন্সের এই বিক্ষোভ নিউইয়র্কে রাজনৈতিক বিভাজনকে আরও স্পষ্ট করেছে। হামাসকে কেন্দ্র করে দেওয়া স্লোগান শুধু একটি প্রতিবাদ নয়, বরং শহরের নেতৃত্ব, নীতি ও মূল্যবোধ নিয়ে নতুন করে প্রশ্ন তুলে দিয়েছে—যার প্রভাব সামনে আরও গভীর হতে পারে বলে মনে করেন রাজনৈতিক বিশ্লেষকেরা।

সূত্রঃ পলিটিকো ডট কম

এম.কে

আরো পড়ুন

আকস্মিক বন্যায় তলিয়ে গেলো নিউইয়র্ক সিটি, জরুরি অবস্থা জারি

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার মুখে পুরো আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত

‘ইসলামি বিচ্ছিন্নতাবাদ’ রুখতে ইতালিতে বোরকা ও নিকাব নিষিদ্ধের বিল