দণ্ডিত মার্কিন যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইন –এর সঙ্গে যুক্তরাজ্যের সম্ভাব্য সংযোগ নিয়ে নতুন করে তোলপাড় শুরু হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের বিচার বিভাগের প্রকাশিত বিপুল নথির পর ব্রিটেনের অন্তত চারটি পুলিশ বাহিনী এখন অভিযোগগুলো মূল্যায়ন করছে—এপস্টেইন ব্যক্তিগত জেট ব্যবহার করে যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরগুলো দিয়ে নারী পাচার করেছেন কি না তা খতিয়ে দেখতে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী গর্ডন ব্রাউন দাবি করেছেন, প্রকাশিত নথিতে “বিস্তারিতভাবে” উঠে এসেছে যে এপস্টেইন এসেক্সের স্ট্যানস্টেড এয়ারপোর্ট ব্যবহার করে লাটভিয়া, লিথুয়ানিয়া ও রাশিয়া থেকে তরুণীদের নিয়ে আসতেন। তিনি আরও বলেন, ২০০৮ সালে অপ্রাপ্তবয়স্কের কাছ থেকে যৌনসেবা নেওয়ার দায়ে দণ্ডিত হওয়ার পরও এপস্টেইনের জেট যুক্তরাজ্যে একাধিকবার যাতায়াত করেছে।
এসেক্স পুলিশ প্রথমে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানালেও পরে নিশ্চিত করেছে যে তারা স্ট্যানস্টেডে আগত ও প্রস্থানকারী ব্যক্তিগত ফ্লাইট–সংক্রান্ত তথ্য মূল্যায়ন করছে। একই সঙ্গে থেমস ভ্যালি পুলিশ ও সারে পুলিশ পৃথক অভিযোগ খতিয়ে দেখছে, বিশেষ করে সাবেক প্রিন্স এন্ড্রু মাউন্টব্যাটেন উইন্ডসর–এর বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগগুলো পূর্ণাঙ্গ তদন্তের পর্যায়ে নেওয়া হবে কি না তা যাচাই করছে।
মাউন্টব্যাটেন-উইন্ডসর সব ধরনের অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, তিনি বাণিজ্য দূত হিসেবে দায়িত্ব পালনের সময় সংবেদনশীল তথ্য এপস্টেইনের সঙ্গে ভাগ করেছিলেন এবং ২০১০ সালে উইন্ডজরে তার সঙ্গে সাক্ষাতের জন্য একজন নারীকে যুক্তরাজ্যে আনা হয়েছিল।
এদিকে মেট্রোপলিটন পুলিশ লেবার সরকারের সাবেক মন্ত্রী পিটার ম্যান্ডেলসনের বিরুদ্ধে অভিযোগ তদন্ত করছে। এছাড়া বেডফোর্ডশায়ার পুলিশ লুটন বিমানবন্দর ব্যবহার করে নারী পাচার হয়েছে—এমন অভিযোগ মূল্যায়ন করছে কি না তা স্পষ্ট করেনি, যদিও পুলিশ সূত্র বলছে বিষয়টি খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
ডিসেম্বরে বিবিসি–এর অনুসন্ধানে জানা যায়, ১৯৯০–এর দশক থেকে ২০১৮ সাল পর্যন্ত এপস্টেইনের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট অন্তত ৮৭টি ফ্লাইট যুক্তরাজ্যের বিমানবন্দরে অবতরণ বা প্রস্থান করেছে। ব্রাউন তার লেখায় উল্লেখ করেন, কিছু ফ্লাইট লগ অসম্পূর্ণ ছিল এবং যাত্রীদের নামের পরিবর্তে শুধু “ ফিমেইল” লেখা ছিল।
পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনায় ন্যাশনাল পুলিশ চিফ’স কাউন্সিল (NPCC) একটি জাতীয় সমন্বয় গ্রুপ গঠন করেছে, যাতে প্রকাশিত লাখ লাখ নথির সম্ভাব্য প্রভাব বিশ্লেষণ ও অভিযোগ মূল্যায়নে বিভিন্ন পুলিশ বাহিনীকে সহায়তা করা যায়। সংস্থাটি জানিয়েছে, ভুক্তভোগীদের ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে তারা সমন্বিতভাবে কাজ করছে।
এদিকে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদ–নিয়োজিত স্বাধীন বিশেষজ্ঞদের একটি প্যানেল প্রকাশিত নথিকে সম্ভাব্য “বৈশ্বিক অপরাধচক্রের” ইঙ্গিত হিসেবে উল্লেখ করেছে।
তাদের মতে, অভিযোগগুলোর ব্যাপকতা ও আন্তর্জাতিক পরিসর এতটাই গুরুতর যে কিছু ক্ষেত্রে তা মানবতাবিরোধী অপরাধের আইনি মানদণ্ডেও পড়তে পারে।
ব্রিটিশ পুলিশ সূত্র বলছে, নথি প্রকাশের ফলে আরও বহু অভিযোগ সামনে আসতে পারে। অভিযোগগুলো প্রাথমিকভাবে মূল্যায়নের পর্যায়ে থাকলেও, প্রয়োজন হলে পূর্ণাঙ্গ ফৌজদারি তদন্ত শুরু হতে পারে—এমন ইঙ্গিতও দেওয়া হয়েছে।
সূত্রঃ দ্য গার্ডিয়ান
এম.কে

