10.1 C
London
October 26, 2026
TV3 BANGLA
আন্তর্জাতিকআমেরিকা

ওবামাকে ‘চরম অযোগ্য’ বললেন ট্রাম্পঃ মধ্যবর্তী নির্বাচন ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক উত্তাপ

যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামার সমালোচনার জবাবে তাকে ‘চরম অযোগ্য’ বলে আক্রমণ করেছেন বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচন সামনে রেখে দুই নেতার পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে দেশটির রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তেজনা আরও বেড়েছে। ইরান যুদ্ধ, নিত্যপণ্যের উচ্চমূল্য, অভিবাসন ও শুল্কনীতি নিয়ে দুই পক্ষের বক্তব্যে নির্বাচনী প্রচারের লড়াই আরও তীব্র হয়ে উঠেছে।

রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক বক্তব্যে ওবামার সমালোচনা করেন ট্রাম্প। একই সঙ্গে ডেমোক্র্যাটদের আক্রমণ করে তিনি বলেন, দলটি ক্ষমতায় এলে সাধারণ মানুষের সম্পদ লুট করবে এবং দেশের সীমান্ত ধ্বংস করে দেবে। অন্যদিকে, ওবামা নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে ট্রাম্প প্রশাসনের বিভিন্ন সিদ্ধান্ত, অর্থনৈতিক পরিস্থিতি এবং ইরান যুদ্ধের সমালোচনা করেছেন।

গত শনিবার ওহাইও অঙ্গরাজ্যে এক নির্বাচনী সমাবেশে বক্তব্য দেন ওবামা। সেখানে তিনি বলেন, প্রশাসনের বিভিন্ন ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য আসন্ন নির্বাচনই জনগণের সামনে শেষ বড় সুযোগ। ওবামার বক্তব্যে ট্রাম্প প্রশাসনের নীতি ও সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অসন্তোষের বিষয়টি গুরুত্ব পায়।

ওহাইও ও মিশিগানে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নিয়ে ওবামা ট্রাম্প এবং তার মন্ত্রিসভার সদস্যদের সমালোচনা করেন। বিশেষ করে ইরান যুদ্ধের প্রভাব, নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি এবং অর্থনৈতিক পরিস্থিতি নিয়ে তিনি প্রশ্ন তোলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনে অর্থনৈতিক চাপ ও মূল্যস্ফীতি নিয়ে উদ্বেগের কারণে যেসব ভোটার ডেমোক্র্যাটদের সমর্থন করেননি, তাদের প্রতিও সহমর্মিতা প্রকাশ করেন তিনি। তবে বর্তমান অর্থনৈতিক পরিস্থিতির জন্য ট্রাম্পের নীতিকে দায়ী করেন সাবেক এই প্রেসিডেন্ট।

ইরান যুদ্ধের প্রসঙ্গ তুলে ওবামা বলেন, এই সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির ওপর তেহরানের প্রভাব বাড়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে। বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথগুলোর একটি হরমুজ প্রণালি। ফলে সেখানে উত্তেজনা বাড়লে আন্তর্জাতিক জ্বালানি বাজারে তার প্রভাব পড়তে পারে। ইরান ও ইউক্রেনের যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি নিয়েও ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর চাপ বাড়ছে।

অন্যদিকে, জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যে নির্বাচনী সমাবেশে ট্রাম্প তার প্রশাসনের অভিবাসন ও শুল্কনীতির সাফল্য তুলে ধরেন। পেরি শহরে দেওয়া বক্তব্যে অর্থনীতির প্রসঙ্গ টেনে তিনি দাবি করেন, শুল্ক থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিপুল পরিমাণ অর্থ আয় করছে। সমর্থকদের উদ্দেশে তিনি বলেন, দেশটি এখন ‘স্বর্ণযুগে’ প্রবেশ করেছে।

কংগ্রেসের উভয় কক্ষে রিপাবলিকানরা জয়ী হলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রত্যেক প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিককে পাঁচ হাজার ডলার করে দেওয়ার প্রতিশ্রুতিও আবার উল্লেখ করেন ট্রাম্প। তবে এই অর্থ দেওয়ার পরিকল্পনার বাস্তবায়ন, অর্থায়ন ও শর্ত সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।

আগামী ৩ নভেম্বর যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা। এই নির্বাচনে প্রতিনিধি পরিষদ ও সিনেটের নিয়ন্ত্রণ কোন দলের হাতে থাকবে, তা নির্ধারিত হবে। একই সঙ্গে বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে গভর্নর পদেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা চলছে। নির্বাচনের ফলাফল ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট মেয়াদের বাকি সময়ে তার নীতিগত পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব ফেলতে পারে।

নির্বাচনী লড়াইয়ে ওহাইও অঙ্গরাজ্য বিশেষ গুরুত্ব পাচ্ছে। সেখানে সাবেক সিনেটর শেরড ব্রাউন রিপাবলিকান সিনেটর জন হাসটেডকে পরাজিত করার জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন। অঙ্গরাজ্যটির গভর্নর পদে রিপাবলিকান প্রার্থী বিবেক রামাস্বামীর বিপরীতে রয়েছেন ডেমোক্র্যাট প্রার্থী অ্যামি অ্যাকটন। এসব প্রতিদ্বন্দ্বিতার ফলাফল কংগ্রেস ও অঙ্গরাজ্য পর্যায়ের রাজনৈতিক সমীকরণে প্রভাব ফেলতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্প শনিবার ফ্লোরিডায় স্ত্রী ও ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্পকে সঙ্গে নিয়ে আগাম ভোট দিয়েছেন। এরই মধ্যে বিভিন্ন স্থানে আগাম ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে। নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধি, জ্বালানির ব্যয়, অভিবাসন এবং পররাষ্ট্রনীতি—এসব ইস্যু নির্বাচনী প্রচারের গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে।

মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ট্রাম্প ও ওবামার এই পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে স্পষ্ট হয়েছে, ভোটারদের সমর্থন আদায়ে অর্থনীতি ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তগুলো বড় ভূমিকা রাখছে। তবে নির্বাচনে কোন দল কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে পারবে, তা নির্ধারিত হবে ভোটের ফলাফলের মাধ্যমেই।

সূত্রঃ বিবিসি\ সিএনএন

এমকে

আরো পড়ুন

দক্ষিণ এশিয়ায় প্রভাব হারাচ্ছে ভারতঃ প্রতিবেশীরা ঝুঁকছে বহুমুখী কূটনীতির পথে

মালয়েশিয়া ভ্রমণের আগে যা করতে হবে

যুক্তরাষ্ট্রে আটক অভিবাসীদের পাঠানো হবে গুয়ানতানামো বে কারাগারে