রাজধানীর কাকরাইলে গণ অধিকার পরিষদের মিছিলে লাঠি হাতে হামলা চালানো লাল টি-শার্ট পরিহিত ব্যক্তির পরিচয় নিয়ে চলছে ব্যাপক বিতর্ক। হামলার সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতেই তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করতে দেখা গেলেও পুলিশ এখনও নিশ্চিতভাবে বলতে পারছে না তিনি কে।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) রাতে জাতীয় পার্টি (জাপা) ও গণ অধিকার পরিষদের নেতা-কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। জাপার কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের সামনে দিয়ে গণ অধিকার পরিষদের মিছিল গেলে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। পরে সংঘর্ষে গণ অধিকার পরিষদের সভাপতি নুরুল হক নুর গুরুতর আহত হন। চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, তার মাথায় আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও পানি জমাট বেঁধেছে। বর্তমানে তিনি শঙ্কামুক্ত নন, নিবিড় পর্যবেক্ষণে রাখা হয়েছে।
ঘটনার পর সোশ্যাল মিডিয়ায় গণ অধিকার পরিষদের নেতা রাশেদ খান দাবি করেন, লাল টি-শার্ট পরা ওই ব্যক্তি আসলে পুলিশের কনস্টেবল। তার নাম মিজানুর রহমান এবং তার বিপি নং – ৯৭১৭১৯৭২৪৩। রাশেদের এই দাবি প্রকাশ্যে আসার পর নতুন করে আলোচনার ঝড় শুরু হয়।
তবে ঢাকা মহানগর পুলিশের রমনা বিভাগের উপ-পুলিশ কমিশনার (ডিসি) মাসুদ আলম জানিয়েছেন, ওই ব্যক্তির পরিচয় সনাক্তে তদন্ত চলছে। তিনি বলেন, “যদি তিনি সত্যিই পুলিশের সদস্য হতেন, তাহলে ঘটনাস্থলে থাকা অন্য পুলিশ সদস্যরা অবশ্যই চিনতে পারতেন। আপাতত নিশ্চিত হওয়া যায়নি।” কেন তাকে ঘটনাস্থল থেকে ছাড়িয়ে দেয়া হলো তাও তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে জনমনে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে। প্রশ্ন উঠছে—যদি তিনি পুলিশ সদস্য হন, তবে ইউনিফর্ম ছাড়া কীভাবে রাজনৈতিক সংঘর্ষে লাঠি হাতে অংশ নিলেন? আর যদি তিনি পুলিশ না হন, তবে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর উপস্থিতিতে তাকে কেন থামানো হলো না? সব মিলিয়ে লাল টি-শার্টধারীকে ঘিরে রহস্য আরও ঘনীভূত হচ্ছে।
সূত্রঃ স্যোশাল মিডিয়া
এম.কে
৩০ আগস্ট ২০২৫